ঢাকা, শনিবার 5 May 2018, ২২ বৈশাখ ১৪২৫, ১৮ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এইডসের ভয়ে সুন্নতেখতনা

মোজাম্বিকের জাম্বেজিয়া প্রদেশে এইডস রোগ ঠেকাতে ব্যাপকভাবে অমুসলিমদের খতনা দেয়া শুরু হয়েছে। গতবছর এ কর্মসূচির আওতায় জাম্বেজিয়াতে ৮৪ হাজার পুরুষের খতনা করানো হয়। এবার এর লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। জাম্বেজিয়ার গভর্নর এ খতনা কর্মসূচি সমর্থন করেছেন। উল্লেখ্য, তিনি একজন চিকিৎসকও। পুরুষের খতনা এইচআইভি বা এইডস প্রতিরোধে সহায়ক বলে জানানো হয়। তবে খতনা করালেই রোগ সেরে যাবে তা অবশ্য নিশ্চিত করা হয়নি। কাউকে জোর করে খতনা করানো হচ্ছেও না। স্বাস্থ্যকর্মীরা শুধু বোঝাচ্ছেন যে, এতে এইডস প্রতিরোধে সহায়তা হতে পারে। দু’ দফায় খতনাপ্রকল্পে ব্যয় হবে ৭ লাখ ২৮ হাজার ইউএস ডলার। এইডস প্রতিরোধে কাজ করে আমেরিকান এমন একটি দাতব্য সংস্থার তরফ থেকে এ অর্থ দেয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু’র মতেও পুরুষদের খতনা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি ৬০ শতাংশ কমাতে পারে। খবর বিবিসি’র। সঙ্গত কারণে নিউজটি এখানকার মিডিয়ার নজর এড়ায়নি।
সুন্নতেখতনা একটি স্বাস্থ্যসম্মত সিস্টেম। মুসলিম শিশুদের এটি করানো হয়। তবে কেউ যদি পূর্ণবয়স্ক হয়ে ইসলামগ্রহণ করেন এবং সুন্নতেখতনা আদায়ে আগ্রহী হন তাহলেও কোনও সমস্যা নেই। মুসলিম ছাড়া ইহুদি ও খৃস্টসমাজেও খতনার প্রচলন আছে। পুরুষ ব্যতীত আফ্রিকাসহ কোনও কোনও মুসলিমপ্রধান দেশে এখনও নারীদের খতনা দেয়া হয়। তবে নারীদের জন্য খতনা দেয়া যথেষ্ট কষ্টদায়ক হওয়ায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা তা এড়িয়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন। আর এব্যাপারে শরিয়তেরও কোনও বাধ্য-বাধকতা নেই। এটাই হচ্ছে ‘বিউটি অব ইসলাম’। কিন্তু মুসলিম পুরুষ শিশুদের বেলায় সুন্নতেখতনা খুবই স্বাস্থ্যসম্মত। তাই বাধ্যতামূলক। এছাড়া পুরুষের সুন্নতেখতনা দাম্পত্যজীবনেরও পরম সহায়ক বলে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের সমর্থন রয়েছে। কাজেই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং এড়িয়ে যাবার মতো নয় আদৌ।
বলতে দ্বিধা নেই যে, ইসলামের প্রতিটা বিধিবিধান বিশ্বমানবতার জন্য কল্যাণকর। খতনার মতো বিষয়টি মারণব্যাধি এইডসের ৬০ শতাংশ প্রতিরোধ করতে সক্ষম বলে হু’র মতো জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানও স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হলো। এর আলোকে মার্কিন সংস্থাটি অর্থ বরাদ্দসহ প্রকল্প পর্যন্ত চালু করেছে মোজাম্বিকের জাম্বেজিয়াতে। আর এর উপকারিতা ভোগ করছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। তাই এই সুন্নতেখতনা প্রকল্প বাস্তবায়নকারীদের আমরা সাধুবাদ জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ