বুধবার ১৬ জুন ২০১০
Online Edition

বিয়ানীবাজার ও জৈন্তাপুরে দুর্গতদের মানবেতর জীবন

বিয়ানীবাজার থেকে আবদুর রহিম : বিয়ানীবাজার উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে কুশিয়ারা, সুরমা ও সোনাই নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ মুহূর্তে খাবার পানি স্যালাইন, দিয়াশলাই ও ল্যাট্রিনের প্রয়োজন। ঘরের ভেতর মাচান বেঁধে লোকজন বাস করছেন। ভাসমান সাপের ভয়ও রয়েছে। মুড়িয়া হাওরসহ প্রতিটি বিলের পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। বন্যায় বিয়ানীবাজার ভায়া চারখাই-সিলেট, বিয়ানীবাজার ভায়া চন্দরপুর সিলেট রাস্তার বিভিন্ন জায়গা ডুবে গেছে। সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সিলেট থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী আসতে না পারায় মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর ডাইক প্রবল স্রোতে একাধিক স্থানে ভেঙ্গে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা ডুবে যাচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বর্ষণে অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর ডুবে গেছে। নৌকা না থাকায় বাড়ি থেকে মানুষ বের হতে পারছেন না। অধিকাংশ স্কুল বন্যার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলায় ৩৫টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের ত্রাণ তহবিল থেকে উপজেলার বন্যাদুর্গতদের জন্য ৪ টন গম ও ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুব্রত কুমার দে জানান, বন্যা দুর্গতদের আশ্রয়ের জন্য বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকারি সাহায্য ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে তিন শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে বলে তিনি জানান। বন্যাদুর্গতদের সাহায্যের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন এবং বন্যার্তদের পাশে আছেন বলে তিনি জানান। উপজেলার প্রায় ২০ হেক্টর জমির রোপা আউশ ধানের চারা পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এদিকে বিয়ানীবাজার উপজেলা জামায়াতের ইউনিয়ন সম্মেলন গত শুক্রবার স্থানীয় কার্যালয়ে উপজেলা আমীর মাওলানা ফয়জুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা দক্ষিণের সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ্র দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সর্বাত্মক ত্যাগ ও কোরবানীর জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানানো হয়। বিয়ানীবাজারে বন্যায় হাজার হাজার মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মধ্যবিত্ত মানুষ অত্যন্ত কষ্ট ভোগ করছেন। বন্যা দুর্গতদের সাহায্য ও পুনর্বাসনে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে বলে সবাই অভিমত ব্যক্ত করেন। জৈন্তাপুর (সিলেট) গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জৈন্তাপুর উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। উপজেলা সদর থেকে বিভিন্ন গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষকে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও দুর্ভোগের অন্ত নেই। গত বুধবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ২ নং জৈন্তাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, ইউপি সদস্য আলী আজগর, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের অর্থ-সম্পাদক আবদুল হালিম প্রমুখ। এ সময় বাওন হাওড়, শেওলারঠুক, ডুলটিরপাড়, চাতলারপাড়, খারুবিল, আমবাড়ীসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক বন্যার্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ