বুধবার ১৬ জুন ২০১০
Online Edition

বিশ্ব পরিবেশ ও আমাদের অবস্থা

বিশ্ব পরিবেশের অবক্ষয় যে বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক তার বিজ্ঞানভিত্তিক যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণাদি রয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ করে ভৌগোলিক অবস্থানের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাস প্রায় প্রতি বছরই দেশের আর্থিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশ্ব পরিবেশের অবক্ষয় এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। গ্রীনহাউজ প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ দুর্যোগের কারণ হতে পারে। আগামী শতাব্দীতে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব না হলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাছাড়া রয়েছে ব্যাপকভাবে লবনাক্ততা ও মরুময়তা বৃদ্ধির আশংকা। আমাদের অতি প্রয়োজনীয় বনজ সম্পদ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। পারমাণবিক বর্জ্য, পলিথিন ও পলিথিনজত সামগ্রী, পারমাণবিক বিস্ফোরণ ইত্যাদি অতীতে অনেক ক্ষতি করেছে এবং বর্তমানেও ক্ষতি করে চলছে। পানি দূষণ ও বায়ু দূষণ ইত্যাদি আমাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য ও পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করে কঠোরভাবে পালন করতে হবে। প্রয়োজনে আরো নতুন আইন তৈরি করতে হবে। বিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীর বয়স ৪.৫ বিলিয়ন বছরের মতো। স্বাভাবিক নিয়মে পৃথিবীর ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন বছর আরো টিকে থাকার কথা। সে সময় সূর্য তার সব হাইড্রোজেন জ্বালানি নিঃশেষ করে ফেলে প্রসারিত হবে এবং পৃথিবী সহ আশেপাশের অন্যান্য গ্রহগুলো ভস্মীভূত হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে পৃথিবী এর আগে ধ্বংস হতে পারে পারমাণবিক মহাযুদ্ধের কারণে। এজন্য আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রের মহড়া থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে হবে। অনেকের ধারণা মানুষের অস্তিত্বের ইতিহাস প্রায় ২ মিলিয়ন বছরের মতো। ১৮০০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন। ১৯৩০ সালে তা দ্বিগুণ হয় এবং ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) বৎসর পর ১৯৭৫ সালে আবার দ্বিগুণ হয়। বর্তমানে জন্মহার বহাল থাকলে ২০১৫ সালে আবার দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮ বিলিয়ন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকান্ডই পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের অনুপযোগী করে তুলবে-এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। অতএব আমাদের সবাইকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে সচেতন হতে হবে এবং কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। পরিবেশের প্রধান ৩টি অজৈব উপাদান হচ্ছে- বায়ু, পানি এবং ভূমি। জীব মন্ডলের তিনটি অংশ-বায়ুমন্ডল, অশ্মমন্ডল এবং বারিমন্ডল যথাক্রমে বায়ু, মৃত্তিকা এবং পানির সঙ্গে সজীব উপাদানের আন্তক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন হয়। জীবের জন্য যে ১৬টি মৌলের প্রয়োজন তা কেবল এই পৃথিবীর ভূ-ত্বকে এবং বায়ুমন্ডলে পাওয়া যায়। পরিবেশে প্রাপ্ত জীবের চারটি প্রধান সর্বজনীন মৌল হচ্ছে- হাইড্রোজেন, কার্বন-ডাই অক্সাইড, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন। এ চারটি উপাদানের মধ্যে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বায়ুমন্ডলে রয়েছে চারটি স্তর ক) ট্রপোস্ফিয়ার (খ) স্ট্যাটোস্ফিয়ার গ) আয়নস্ফিয়ার ঘ) এক্সোস্ফিয়ার। বায়ুমন্ডলে ওজোন স্তরের স্বাভাবিক আবাস হলো স্ট্রাটোসস্ফিয়ারে, যদিও কিছু পরিমাণ ওজোন গ্যাস নিম্ন আয়নোস্ফিয়ারে উৎপন্ন হয়। পৃথিবীর জীবন ও উদ্ভিদের জন্য ওজোন স্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ স্তরের অবর্তমানে প্রাণীকূলের স্বাভাবিক অস্তিত্ব রক্ষা করা অসম্ভব। সূর্য থেকে নানা ধরনের ক্ষতিকর ও উপকারী রশ্মির বিকিরণ ঘটে। অতিবেগুনী রশ্মি এদের মধ্যে একটি। এটি উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ওজোন স্তর সূর্য রশ্মির এই ক্ষতিকারক অতিবেগুনী রশ্মি ছাঁকনির মত শুষে নিয়ে নিরাপদ মাত্রায় ঝলমলে আলো আমাদের জন্য পৃথিবীতে পাঠায়। কার্ব-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেলে এই ওজোন স্তর ক্ষয় হয়ে যায়। ফলে অতি বেগুনী রশ্মি শোষণ করতে পারে না। এ রশ্মি পৃথিবীতে আসলে আমাদের এ ক্ষতি হতে পারে সেগুলো অতি সংক্ষেপে তুলে ধরছি : - মানুষের চোখে ছানি পড়তে পারে। - স্কিন ক্যান্সার হতে পারে। -০ সব রকম শষ্য চারা প্রাণের উদ্বেলতা ব্যহত হতে পারে। - ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পৃথিবীর ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে যাবে। তখন আমাদের যে করেই হোক এই ওজোন স্তরের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হবে। আর এর জন্য অধিক পরিমাণ গাছ লাগাতে হবে। এছাড়া রয়েছে শব্দ দূষণ। এটা মানুষের জীবনে ক্ষণস্থায়ী ও দীর্ঘস্থায়ী দু'ধরনের প্রভাব ফেলে। যানবাহনের শব্দ, বিমানের শব্দ, সাইরেন, মাইকের শব্দ, প্রচন্ড জন কোলাহল, রেলগাড়ির শব্দ, জেনারেটর চলার শব্দ ইত্যাদি আমাদের পরিবেশকে কলুষিত করে। শব্দ দূষণের ফলে কি কি ক্ষতি হতে পারে তা সংক্ষেপে তুলে ধরছি। - কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে। - শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে। - শরীর বৃত্তির ক্রিয়াকলাপ প্রভাবিত হয়। - হৃদ স্পন্দনের হার বেড়ে যেতে পারে। - রক্তের উপাদান পরিবর্তন হতে পারে। - রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যেতে পারে। - রক্তে ইউসিনোফিল নামক দানাযুক্ত শ্বেত কনিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। - রাত্রিকালীন দৃষ্টি ত্রুটি ঘটতে পারে। - পিউপিল যন্ত্রের প্রসারণ ঘটতে পারে। - বর্ণ প্রত্যক্ষ করণ কমে যেতে পারে। - হৃদপিন্ড ও মস্তিকের কোষের অক্সিজেন হ্রাস পেতে পারে। - স্বয়ংক্রিয় নার্ভতন্ত্রের সক্রিয়তা বেড়ে যেতে পারে। - মাথা ধরা ও উত্তেজিত ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। - স্মৃতি শক্তি কমে যেতে পারে। - মেজাজ খিট খিটে হয়ে যেত পারে। আমরা একটু সচেতন হলেই শব্দ দূষণ অনেকখানি রোধ করতে পারি। আমরা যে যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করব। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে পরিচ্ছন্ন ঝলমলে এক পৃথিবী উপহার দেয়ার নিমিত্তে কাজ করে যাব। শুধু এক দিনের আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এর প্রয়োজন ঘটাতে হবে সব সময়। আজ থেকে আমরা শপথ নেই ‘‘সবাই মিলে যেন সুখী, সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ গড়তে পারি’’। মোঃ আবুল খায়ের ফার্মাসিস্ট মনোয়ারা হাসপাতাল (প্রাঃ) লিঃ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ