ঢাকা, রোববার 6 May 2018, ২৩ বৈশাখ ১৪২৫, ১৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ইউরোপের প্রবাসী ভোটারদের নিয়ে বসনিয়ায় সমাবেশ করবেন এরদোগান

৫ মে, হুরিয়েত ডেইলি নিউজ, আনাদলু এজেন্সি  : বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে তুর্কি প্রবাসী ভোটারদের নিয়ে একটি সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ তাদের মাটিতে তুর্কি রাজনীতিবিদদের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে বাধা দেয়ার পর এরদোগান এই ঘোষণা দিলেন। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দেশে ফিরে এরদোগান সাংবদিকদের বলেন, ‘এমন একটি পরিবেশে যেখানে কিছু দেশ আমাদের প্রচারাভিযান চালানোর অনুমতি দেয়া হবে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক করছে। এমতবস্থায় আমরা বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় আমাদের নাগরিকদের সঙ্গে একত্রিত হতে চাচ্ছি। আমরা বসনিয়ায় একটি হলরুমে ইউরোপীয় দেশে আমাদের নাগরিকদের সঙ্গে একত্রিত হব।’

তিনি বলেন, ‘অন্যদিকে, আমাদের নাগরিকরাও ইউরোপে বসবাসরত অন্যান্য দেশে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাবে।’ সারায়েভোতে ওই সমাবেশটি কবে অনুষ্ঠিত হবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে, আগামী ২০ মে এটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আগামী ২৪ জুন তুরস্কে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময়ে প্রায় দেড় বছরের আগেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনসাধারণের উদ্বেগের দোহাই দিয়ে জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং নেদারল্যান্ডস ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে যে তাদের দেশে তারা তুর্কি রাজনীতিবিদদের প্রাক নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অনুমতি দেবে না। এরদোগান বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা থেকে তুর্কি রাজনীতিবিদদের নিষিদ্ধ করা গণতান্ত্রিক আচরণের মধ্যে পড়ে না। আমরা ইউরোপীয় দেশগুলির নির্বাচনে জয়ী নেতাদের অভিনন্দন জানাতে কখনো দ্বিধা করি নি। কারণ আমরা ভাল সম্পর্ক চাই এবং আমরা তাদের সঙ্গে সুসম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই।’

এরদোগান পশ্চিমা মিডিয়া কভারেজেরও কড়া সমালোচনা করে বলেন, আমাদের নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়ার এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়। এরদোগান বলেন, ‘২৪ জুনের জন্য আমাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্র প্রস্তুত। আজ রোববার এটি ঘোষণা করার কথা। ২৪ জুন তুরস্কের জন্য একটি নতুন যুগের শুরু হবে। আমি অন্য নেতাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানি না কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য অত্যন্ত বড় কিছু। আমরা দৃঢ়, সমৃদ্ধ এবং মুক্ত তুরস্ক অর্জনের জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।’

সাম্প্রতিক সপ্তাহে দেশটির মূল বিতর্কগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল আব্দুল্লাহ গুলের সম্ভাব্য মনোনয়ন। সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে নির্বাচন না করতে হুমকি দেয়া হয়েছে বলে বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে এরদোগান এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাকে এই বিষয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবেন না। এই বিষয়ে বিবৃতি দেয়ার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। কি হচ্ছে তা সবাই বেশ ভাল করেই জানেন।’

নির্বাচন না করতে গুলকে কোনো হুমকি দেয়া হয়নি:

তুরস্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না করতে দেশটির সেনা প্রধান ও প্রেসিডেন্ট এরদোগানের একজন উপদেষ্টা হুমকি দিয়েছেন বলে প্রধান বিরোধী দলের নেতা যে দাবি করেছেন, তা নাকচ করে দিয়েছেন গুল। তবে, তার সঙ্গে তুর্কি সেনা প্রধান জেনারেল হুলসি আকার সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার জুমার নামায শেষে গুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেনা প্রধান আমার কাছে প্রকাশ্য দিবালোকে এবং প্রত্যেকের সামনে দিয়েই এসেছিলেন। তাই এটি নিয়ে গোপন করার কিছু ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘বৈঠকের সময় তিনি আমাকে কোনো হুমকি, চাপ বা অসম্মান দেখাননি।’

 নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত আফরিনে তুর্কী উপস্থিতি থাকবে:

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব   ৈতৈয়ব এরদোগান বলেছেন, নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সিরিয়ার আফরিনে তুর্কি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকবে। শুক্রবার ইস্তানবুলে যুব সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা আফরিনে থেকে যাব, ততক্ষণ পর্যন্ত থাকব, যতক্ষণ না সেখানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি। এরদোগান বলেন, এর পর একে একে সন্ত্রাসী আক্রান্ত ইদলিব, তাল রিফাত ও মানবিজকেও মুক্ত করব।

ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের হটাতে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি আফরিনে অভিযান চালায় তুরস্কের সেনাবাহিনী, যা শেষ হয় ১৮ মার্চ। ২০১৬ সালের আগস্ট থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত চালানো ইউফ্রেটিস শিল্ড অভিযান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তুরস্কের হস্তক্ষেপের অধিকার থাকলেও আমরা বেশ বিলম্ব করেছি। তার ভাষ্য, ইউফ্রেটিস শিল্ড অনেকটা বিলম্বিত অভিযান ছিল। আমাদের যেটা আরও আগে শুরু করা উচিত ছিল। যদি আমরা আগেই ওই অভিযান চালাতাম, তাহলে কিলিস বারবার আক্রান্ত হত না।

নিজেদের সীমান্ত থেকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধাদের হটিয়ে দিতে ও কুর্দি বেসামরিক বাহিনীর যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা রুখতে সিরিয়ায় সেনা, ট্যাঙ্ক ও যদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল তুরস্ক। 

যেটাকে ইউফ্রেটিস শিল্প অভিযান বলা হয়। সেখানে নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে সিরিয়ার বিদ্রোহী বাহিনী ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে (এফএসএ) সমর্থন দেয় তুরস্কের বাহিনী। তুরস্ক সীমান্তের অদূরে ইউফ্রেটিস নদীর তীরের সিরীয় শহর জারাবলুসের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সীমান্তের প্রায় ১০০ কিলোমিটার বিস্তৃত একটি এলাকা থেকে আইএস যোদ্ধাদের হটিয়ে দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ