ঢাকা, রোববার 6 May 2018, ২৩ বৈশাখ ১৪২৫, ১৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বৈঠকের স্থান বিবেচনায় সিঙ্গাপুরের নাম

 

৫ মে, রয়টার্স : উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের স্থান ও তারিখ নির্ধারিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডালাসে ন্যাশনাল রাইফেলস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক কনভেনশনে যাওয়ার আগে হক শুক্রবার হোয়াইট হাউসের লনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের একথা জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর বাইরে বিস্তারিত কিছু না বললেও দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিক এলাকা ও সিঙ্গাপুরকে ট্রাম্প-কিম বৈঠকের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউস।

এপ্রিলের শেষে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের মধ্যে অসামরিক এলাকার পানমুনজমে শীর্ষ বৈঠক হয়েছিল। পিস হাউসের ওই বৈঠক থেকেই দুই নেতা কোরীয় উপদ্বীপকে ‘পারমাণবিক মুক্ত’ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্পও উত্তরের নেতার সঙ্গে বৈঠকের স্থান হিসেবে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিক এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এর বাইরে সিঙ্গাপুরকেও সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, বলেছিলেন তিনি। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দায়িত্বরত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার বৈঠক আসছে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ দেবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে।  কোরীয় উপদ্বীপ থেকে মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার যে কোনো পদক্ষেপে দক্ষিণ বিরোধীতা করবে, সিউলের এমন প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই ট্রাম্প উত্তরের নেতার সঙ্গে তার বৈঠকের সম্ভাবনার অগ্রগতির কথা জানালেন।

নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার ক্ষেত্রে পিয়ংইয়ং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার শর্ত দিতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের। এ ধরনের শর্তে সিউল রাজি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তরের পরিচালক চুং এউই-ইয়ং। “কোরিয়ায় থাকা মার্কিন সৈন্যদের বিষয়টি উত্থাপন করাই অগ্রহণযোগ্য হবে,” ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের সঙ্গে শুক্রবারের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন চুং।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই বলে বোল্টন ও চুং একমত হয়েছেন, জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বৈঠকে ট্রাম্প-কিম বৈঠকের আগে দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের দিনখনও ঠিক হয়। ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ব্যাপারে পেন্টাগনের কাছে জানতে চেয়েছেন, নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট একে ‘অসত্য’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রতিবেদনকে ‘নির্বোধের বকাবাজি’ বলেছেন ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোল্টনও। “ভবিষ্যতের ভাবনায় কোনো কোনো পয়েন্ট থেকে টাকা বাঁচানোর চিন্তা করছি আমি। যদিও (দক্ষিণে থাকা) সৈন্যদের বিষয়টি টেবিলে নেই,” বলেন ট্রাম্প। 

কিমের সঙ্গে বৈঠকের আগে উত্তরের নেতার সঙ্গে ‘কথার লড়াই’ আপাতত থামিয়ে রেখেছেন বলেও মন্তব্য রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্টের। ট্রাম্প গতবছর কিমকে ‘লিটল রকেট ম্যান’ অ্যাখ্যা দিয়ে উত্তরের শীর্ষ নেতাকে ‘আগুন ও উন্মত্ততার’ মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুমকি দিয়েছিলেন।

“আমি এখন এ ধরনের উত্তেজনা কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি,” ন্যাশনাল রাইফেলস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক কনভেনশনের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প-কিম বৈঠকের আগে পিয়ংইয়ং তাদের কাছে আটক তিন মার্কিন নাগরিককে ছেড়ে দেবে বলেও প্রত্যাশা হোয়াইট হাউসের। আটক ওই তিন মার্কিনিকে শ্রমশিবির থেকে সরিয়ে হোটেলে এনে রাখা হয়েছে বলে খবর মার্কিন গণমাধ্যমের। “উত্তর কোরিয়া যদি ওই তিনজনকে ছেড়ে দেয়, তাহলে একে আমরা ট্রাম্প-কিম বৈঠকের আগে সদিচ্ছার চিহ্ন হিসেবে দেখব,” বৃহস্পতিবার বলেছেন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স। আটক তিন মার্কিনিকে ছাড়াতে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টও। “আমাদের মধ্যে কথা হচ্ছে, এরই মধ্যে আটকদের সম্মানে তারা অনেক কিছু করেছে। আপনারা দ্রুতই ভালো কিছু দেখতে পাবেন বলেই মনে হচ্ছে,” হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন ট্রাম্প।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ