ঢাকা, রোববার 6 May 2018, ২৩ বৈশাখ ১৪২৫, ১৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান মন্ত্রী এবং তার পর মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে

প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ইংল্যান্ড, সৌদি আরব এবং অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে গত ২রা মে বুধবার ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সম্মেলন করার পূর্বাহ্নে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ওপরে উল্লেখিত তিনটি দেশে প্রধান মন্ত্রীর সফরের ফলাফল সম্পর্কে এই সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধান মন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। সাংবাদিক সম্মেলন ঠিকই হয়েছে। প্রধান মন্ত্রীও ঐ তিনটি দেশে তার সফর সম্পর্কে বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু তিনি বক্তব্য রাখার পর দেখা গেল যে, সাংবাদিকরা তার ত্রিদেশীয় বিদেশ সফর সম্পর্কে মোটেই ইন্টারেস্টেড নয়। তারা  দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সম্পর্কে বেশি আগ্রহী। তাই দেখা যায় যে সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকরা যেসব প্রশ্ন করেন তার মধ্যে একটি বা দুটি বাদে প্রায় সবগুলোই ছিল দেশীয় রাজনীতির ওপর। সেগুলোর মধ্যে যেগুলো উল্লেখযোগ্য ছিল সেগুলো হলো, বেগম জিয়ার কারামুক্তি, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কোটা সংস্কার সম্পর্কে সরকারের অবস্থান।
কোটা সম্পর্কে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা তার তথা তার সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট করেছেন।  তিনি স্পষ্ট ভাষায় যা বলেছেন তার উত্তর হলো, কোটা চ্যাপ্টার ইজ ক্লোজড। এর অর্থ হলো কোটা নিয়ে আর কোনো আলোচনার প্রয়োজন নাই। তিনি আরো বলেন, যখন ছাত্ররা আন্দোলন করলো, তখন সবাই এমন সোচ্চার হয়ে পড়লো যে কেউ তাদের থামাতে চেষ্টা করেননি। আন্দোলনে কারা ঢুকে পড়লো, তাদের থামাতেও তো কাউকে দেখিনি। জাতির পিতা প্রতিটি ক্ষেত্রে কোটার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। হঠাৎ ‘কথা নাই বার্তা নাই’ কোটা চাই না বলে আন্দোলন শুরু হলো। শুধু আন্দোলনই নয়, রাস্তাঘাটও বন্ধ করে দিল। হাসপাতালে অসহায় রোগীরা যেতে পারছিল না। কোটা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ছাত্রদের বিষয় নয়, এটা সরকারের বিষয়। নামকাওয়াস্তে টাকায় আমরা পড়াই। ছাত্রদের লেখাপড়ার সমস্ত খরচ সরকারের পক্ষ থেকে চালানো হয়। তারপরও যখন তারা কোটা চায় না তখন, আমি তাদের দাবি মেনে নিয়েছি।  এটা কোনো ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয় না। এখন এই বিষয় নিয়ে প্রশ্নের দরকার কী? শেখ হাসিনা বলেন, আগেও বলেছি- কোটা পূরণ না হলে মেধাবীদের মধ্য থেকেই সেগুরো পূরণ হচ্ছিল। তাদের পাঁচ দফা কিন্তু আগেই পূরণ হচ্ছিল। চাকরিতে ৭২ শতাংশ, কখনো কখনো ৭৭ শতাংশই মেধা থেকে নিয়োগ হচ্ছিল। চাকরির জন্য যারা পরীক্ষা দিচ্ছে সবাই তো মেধাবী। তারপরও যখন এতো আন্দোলন, তখন আমি মেনে নিয়েছি। এরা তো আমার নাতির বয়সী। ঠিক আছে মেনে নিলাম। সব কোটা বন্ধ। এখন তাহলে প্রশ্ন আসবে কেন? সুতরাং আমরা করে দিয়েছি। আর কোটার দরকার নাই। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমান যদিও নিজে মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু তিনি অবৈধভাবে সরকার গঠন করেছিলেন। কাদের নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন? যারা স্বাধীনতা বিরোধী ও জাতির পিতার হত্যাকারী তাদের নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন। ওই সময় অনেক অফিসার ভয়ে মুক্তিযুদ্ধের নামটাও নিত না। কত শতাংশ তখন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছে? কোটা নিয়ে নানা কথাবার্তা বলা হয়েছে, ব্যঙ্গ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
কোটা আন্দোলন সম্পর্কে  প্রধান মন্ত্রী  সাংবাদিক সম্মেলনে যা বলেছেন, তার মধ্যে ফুটে উঠেছে তার অভিমান ও হতাশা। আর রয়েছে কিছু তথ্য ভ্রান্তি।  পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল যে তিনি আন্দোলন সমর্থন করেন না । তিনি চাচ্ছিলেন কেউ না কেউ এসে এই আন্দোলন থামাক। এ সম্পর্কে তার উক্তি আমরা হবহু তুলে দিয়েছি। এখান থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, বাস্তবে আন্দোলনের ভেতর কে বা কারা ঢুকে পড়েছিল তাদের কেউ থামাতে চেষ্টা করেনি। তিনি বলেছেন,“ হঠাৎ কথা নাই বার্তা নাই কোটা চাই না বলে আন্দোলন শুরু হলো। শুধু আন্দোলনই নয় রাস্তা ঘাটও বন্ধ করে দেয়া হলো।” এখানে বলতে হয় যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনের মূল সুর ধরতে পারেননি। কোটা চাই না বলে তো কোনো আন্দোলন হয়নি। আন্দোলন যেটা শুরু হয়েছিল সেটা হলো কোটা সংস্কার। ছাত্ররা চাইলো মাথা ব্যথার ওষুধ। আর প্রধানমন্ত্রী একেবারে মাথাই কেটে দিলেন যাতে করে ভবিষ্যতে কোটা নিয়ে আর কোনো আন্দোলন না হয় এবং আর কোনো প্রশ্ন না ওঠে। ছাত্ররা যে দাবিনামা দিয়েছিল সেখানেও কিন্তু কোটার সম্পূর্ণ বিলুপ্তি চাওয়া হয়নি। ছাত্ররা মুক্তি যুদ্ধের ওপর সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। সংবাদ সম্মেলনে যেমন বলেছেন তেমনি আন্দোলনের নেতারাও বলেছেন যে তারা কোন সময় কোটা প্রথার বিলুপ্তি চাননি।
প্রধানমন্ত্রী আর একটি বক্তব্য দিয়েছেন যেটি সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক নয়। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, নামকাওয়াস্তে টাকায় আমরা পড়াই। ছাত্রদের লেখাপড়ার সমস্ত খরচ সরকারের পক্ষ থেকে চালানো হয়। তারপরও যখন তারা কোটা চায় না তখন, আমি তাদের দাবি মেনে নিয়েছি।  এখন আর নামকাওয়াস্তে টাকায় পড়ানো হয় না। ছাত্রদের লেখা পড়ার সমস্ত খরচও সরকার বহন করে না।  প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ, প্রাইভেট প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াতে হলে অভিভাবকদের হাজার হাজার নয়, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়। এসব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ সর্ম্পূণ বহন করা তো দূরের কথা সরকার আংশিকও বহন করে কিনা সন্দেহ।
॥দুই॥
প্রধানমন্ত্রী আর একটি অদ্ভুদ  কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, যারা  এই আন্দোলনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেছিল তাদের নাম ধাম ফটো এবং তথ্য ফাইলে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই কাজটি একদিকে যেমন উদ্বেগজনক অন্য দিকে তেমনি রহস্যময়। তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এদের মধ্যে যারা ভবিষ্যতে মেরিট লিস্টে চাকরি পাবে না তখন যদি তারা বলে যে এখন আমাদেরকে জেলা কোটায় চাকরি দাও, তখন তাদের সে আবেদন মানা হবে না। ভবিষ্যতে তারা এরকম দাবি করবেই  বা কেন?
আসলে সর্ব শ্রেণীর মধ্যে একটি অনুভুতি জন্মেছিল যে স্বাধীনতার পর তো ৪৭ বছর গত হয়ে গেছে। অর্থাৎ প্রায় অর্ধ-শতাব্দী গত হয়ে যাচ্ছে। এই অর্ধ-শতাব্দী পরেও দেশের শতকরা ৩০ শতাংশ সরকারি আধা-সরকারি ও রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থার চাকরির ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য রাখার প্রয়োজন আছে কিনা। আন্দোলনকারীরা যেটি চেয়েছিলেন সেটি হলো মুক্তিযোদ্ধা কোটার সম্পূর্ণ বিলুপ্তি নয়, বরং সেটিকে ৩০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১০ শতাংশে আনা। কিন্তু একটি বিষয় কারো বোধগম্য হচ্ছে না যে, আন্দোলনকারীদের ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে কেন? এগুলো সাধারণত করা হয় ভবিষ্যতে তাদেরকে প্রয়োজন হলে সাইজ করার জন্য। এখানে কেন করা হয়েছে সেটি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।
গত বুধবারের এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধান মন্ত্রী বলেছেন যে, ছাত্ররা কোটা বাতিল করার দাবি করেছে। তিনি তাদের দাবি মেনে নিয়েছেন এবং কোটা বাতিল করেছেন।  এটিই ফাইনাল। তবে ভবিষ্যতে তারা যেন এব্যাপারে হা হুতাশ না করে।  পিছিয়ে পড়া জেলাগুলো যেন এসে না বলে যে, আমরা মেধায় চাকরি পাইনি । তাই আমাদেরকে জেলা কোটায় চাকরি দেয়া হোক। প্রধানমন্ত্রীর এমন আশঙ্কা ছাত্ররা উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলেছেন যে, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা বাতিল করার কারণে বিষয়টি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কোন 'আফসোস' সৃষ্টি হবে না। সে প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা রাশেদ খান বলেন, পিছিয়ে পড়া জেলাগুলো কোটার সুবিধা বাস্তবে পাচ্ছে না।
সে কারণে প্রত্যেকটা জেলার ছাত্র-ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে বলে মি: খান উল্লেখ করেন।
তাদের দাবীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মি: খান বলেন, “ঢাকা জেলাতে কোটার সুবিধা যেটা আছে সেটা ৮.৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে কুড়িগ্রামে ১.৪৪ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবতা হওয়ার কথা ছিল ভিন্ন। যেহেতু কুড়িগ্রাম অনেক পিছিয়ে পড়া একটা জেলা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে। অর্থাৎ জেলা কোটার বাস্তবিক প্রয়োগ এখানে হচ্ছে না।”
॥তিন॥
খালেদা জিয়ার মুক্তি ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রীকে আমি জেলে পাঠাইনি। তাকে সাজা দিয়েছে আদালত। এখানে তো আমার কিছু নেই। আমি তাকে রাজনৈতিকভাবে গ্রেফতার করতে চাইলে ২০১৫-১৬ সালেই গ্রেফতার করতে পারতাম। কিন্তু আমি সেটি তো করিনি। এমনকি আমি তাঁর ছেলে (আরাফাত রহমান কোকো) মারা যাওয়ার পর দেখতে গেলে আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। এতিমের টাকা চুরি করার কারণে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে আদালত। সরকারের কাছে মুক্তির দাবি জানিয়ে কোনো লাভ নাই। তার চিকিৎসার জন্য সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারাগারে এতো সুবিধা কোনো আসামি পায় না। তার সাথে একজন নিরাপরাধ মানুষ জেল খাটছে। এখন কোনো মানবাধিকার সংস্থা কোনো কথা বলছে না।
বেগম জিয়ার  কারা দন্ড সম্পর্কে শেখ হাসিনা যা বলার বলেছেন। সেটাই সম্পূর্ণ সত্যি নয়। এর বিপরীতেও অনেক কথা আছে। বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন। এর পর সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগে যাবে। তাই বেগম জিয়া এতিমদের টাকা মেরে খেয়েছেন এমন কথা প্রধান মন্ত্রীর সুউচ্চ আসন থেকে  বার বার আসা সমীচীন নয়। শেষ বিচারে  নি¤œ আদালত অর্থাৎ আক্তারুজ্জামানের আদালতের রায় যদি বহাল না থাকে, যদি ভিন্ন কোনো রায় আসে  তাহলে প্রধানমন্ত্রীতো তখন অনেক প্রশ্নের সন্মুখীন হবেন।
আর ফাতেমার কথা তিনি এভাবে কেন আনলেন? সেটি কারো বোধগম্য হয় না। তিনি বলেছেন, তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নাকি দয়া পরাবশ হয়ে গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকে বেগম জিয়ার সাথে থাকতে দিয়েছেন। এখানেও রয়েছে তথ্যগত ভ্রান্তি। ফাতেমাকে প্রথমে বেগম জিয়ার সাথে থাকতে দেয়া হয়নি। পরে তার স্বাস্থ্য বয়স এবং অসুখ বিবেচনায় সেই একই কারাগার ফাতেমাকে বেগম জিয়ার সাথে থাকার অনুমতি দিয়েছে। বেগম জিয়া প্রশ্ন করেছেন যে, নির্দোষ ফাতেমা বেগম জিয়ার সাথে জেল খাটবে কেন? এখানেও যে বিরাট একটি ভুল তথ্য পরিবেশিত হচ্ছে সেটি প্রধানমন্ত্রী খেয়াল করেছেন কিনা জানি না। ফাতেমার প্রশ্ন যখন ওঠে তখন সব পত্রপত্রিকায় একটি বিশেষ খবর বের হয়। সেই খবরে বলা হয় যে, ফাতেমা দীর্ঘ দিন ধরে বেগম জিয়ার সাথে সংযুক্ত। ফাতেমা বেগম জিয়াকে মায়ের মতো ভক্তি করে এবং ভালবাসে। বেগম জিয়া যখন বাসায় ছিলেন তখন ফাতেমা তার সমস্ত কাজকর্ম করতো। বেগম জিয়ার জেল হওয়ার পর ফাতেমাই তার মনিবের জন্য চিন্তিত হয়ে পড়েন। সেই বরং সকলের কাছে  উদ্বিগ্ন চিত্তে জানতে চায় যে, এখন বেগম জিয়ার দেখাশুনা করবে কে? বেগম জিয়া তো আগে থেকেই ধরেই নিয়েছিলেন যে  তিনি সুবিচার পাবেন না এবং তাকে জেল দেওয়া হবে। তাই  রায়ের দুদিন আগে থেকেই তিনি তার বাক্স পেটরা ও স্যুটকেস গুছিয়ে রেখেছিলেন। বেগম জিয়ার দেখাদেখি ফাতেমাও তার স্যুটকেস গুছিয়ে রেখেছিল। সে নিজেই বেগম জিয়ার সাথে জেলখানায় যাওয়ার জন্য প্রবলভাবে আগ্রহী হয়ে পড়ে। সে বরং এই ভেবে উদ্বিগ্ন হয় যে সে যদি বেগম জিয়ার সাথে জেলখানায় যেতে না পারে তাহলে বেগম জিয়া আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।
রায় ঘোষণার পর পুলিশ এসে যখন  বেগম জিয়াকে গাড়ীতে তোলে তখন  ফাতেমাও সতঃস্ফূর্তভাবে এবং স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বেগম জিয়ার সাথে গাড়ীতে উঠতে চায়। কিন্তু পুলিশ তাকে  গাড়ীতে উঠতে দেয়নি। তখন সে খুব মন খারাপ করে। এর পর আদালতে পুনরায় আবেদন করলে আদালত তাকে বেগম জিয়ার সাথে থাকার অনুমতি দেয়।  আদালতের এই আদেশে সে খুব খুশি হয় এবং খুশি মনে তার পোটলা পুটলিসহ জেলখানায় চলে যায়। সুতরাং এখানে ফাতেমার  কারাভোগের প্রশ্নটি ওঠে কেমন করে?। ফাতেমা যেদিন ইচ্ছা করবে সেদিনই তো চলে আসতে পারে। কিন্তু সে চলে আসার কোনো ইচ্ছাই প্রকাশ করছে না। সুতরাং ফাতেমার কারাভোগ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে সেটি তথ্যভিত্তিক নয়।
॥চার॥
আগামী সাধারণ নির্বাচন  অংশ গ্রহণমূলক হবে কিনা সেব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জবাব দেন। অবশ্য এই জবাব তিনি এবং তার মন্ত্রীরা বিগত ২/৩ বছর থেকেই দিয়ে আসছেন।  তিনি বলেছেন যে, তিনি চান সব দল আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করুক।  কিন্তু  কোনো দল  বা জোট অংশ গ্রহণ না করলে তার কিছু করার নাই। তিনি তো আর কাউকে জোর করে ইলেকশনে অংশ গ্রহণ করাতে পারবেন না। ২০১৪ সালের ইলেকশনও ওরা বর্জন করেছিল। শুধু বর্জন নয়, ঐ ইলেকশন তারা প্রতিহতও করতে চেয়েছিল। সেই প্রতিহত করতে গিয়ে তারা  অনেক মানুষকে হত্যা করেছে এবং অনেক মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। এবারও যদি তারা তাই করতে চায় তাহলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।  তার সরকার বিএনপিকে  ইলেকশনে আনার জন্য কোনো চেষ্টা করবে না এবং এব্যাপারে তারা কোনো সংলাপ অনুষ্ঠানেরও উদ্যোগ গ্রহণ করবেন না।
এই মুহূর্তে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের বার্নিং ইস্যু  দুইটি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে একটি। এই তিনটি বিষয়েই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জবাব দিয়েছেন এবং তিনটি জবাবই দ্ব্যার্থহীন এবং পরিষ্কার নেতিবাচক।  প্রধানমন্ত্রীর এই সর্বশেষ অবস্থানের পর সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিএনপি এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে। তারা ছাড়াও সিদ্ধান্ত নিতে হবে ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, আসম আব্দুর রব এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন যুক্ত ফ্রন্টকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম এবং কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে  আওয়ামী লীগের প্রতি কিছুটা নরম বলে পরিচিত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিবিকে এবং বাসদকে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যেমন চাঁচাছোলা তেমনি বিরোধী দলের বক্তব্যও দ্ব্যর্থহীন। বিরোধী দলসমূহের তরফ থেকে বিএপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন যে, বেগম জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনের আগে সংসদ বাতিল, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন- এসব দাবি না মানলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। শুধু বিএনপি নয় তার সাথে অবশিষ্ট ১৯ দলও যাবে না। ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যসহ আরও কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতারাও বলেছেন যে, নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে তারাও নির্বাচনে যাবেন কিনা সেটি ভেবে দেখবেন। সুতরাং রাজনৈতিক সংকট জটিল থেকে জটিলতর হয়েছে। এই সংকট থেকে উদ্ধার পাওয়া যায় কিনা সেটি বোঝা যাবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর। জুলাই মাসের ১ম সপ্তাহ থেকে দেশের রাজনীতি মোটামুটি একটি অবয়ব নেবে।
asifarsalan15@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ