ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জড়িত না থেকেও পুরুষের দুর্নীতির দায় নেয় নারী: টিআইবি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: পরিবারের পুরুষ সদস্যের দুর্নীতির সাথে নিজের সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে নারীকে দায় নিতে হয় বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটির মতে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ রক্ষায় যেসব কৌশল নেয়া হয় তার মধ্যে স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে সম্পদ রাখা একটি। অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রী এ বিষয়ে জানেন না, আবার অনেক ক্ষেত্রে তাদের সম্মতি থাকে। এতে ওই নারীও অপরাধী হিসেবে বিবেচিত হন।

রবিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত ‘দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের পারিবারিক দায়: নারীর ভূমিকা, ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যপত্র উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাম্মী লায়লা ইসলাম।

কার্যপত্রে দেখা যায়, গত ১১ বছরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ২৯টি মামলায় স্বামীর দুর্নীতিতে সহায়তা করার অভিযোগে ২৯ জন নারীকে কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হয়েছে। একই ধরনের ১১৮টি অভিযোগ দুদকে অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে এবং ৩০টি মামলার তদন্ত চলছে এবং ১৪টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, অ্যাকশন এইডের বাংলাদেশ পরিচালক ফারাহ কবির, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশি কবির প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দুর্নীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তাদের অপরাধের দায় নিতে হয়। এ ক্ষেত্রে পুরুষতান্ত্রিক আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, নারীর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা, পরিবারের প্রতি তাদের সহমর্মী মনোভাব ও দুর্নীতির মানসিকতা নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। নারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে দুদককে সংবেদনশীল এবং আরো নারীবান্ধব হতে হবে বলেও মত প্রকাশ করেন তারা।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতির মানসিকতা ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে নারীরা সচেতনতার অভাবে বা পরিবার প্রধানের চাপে না জেনে অপরাধের অংশীদার হয়ে যাচ্ছেন। আবার বিষয়টি বুঝলেও সীমিত ক্ষমতা ও অপর্যাপ্ত স্বাধীনতার ফলে রুখে দাঁড়াতে পারছেন না। এসব নিরসনে দুদক সক্রিয় রয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির দায় সম্পর্কে নারীদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাতে হবে এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের শাস্তি সম্পর্কে জানাতে হবে। এছাড়া, পরিবারের সুরক্ষায় পুরুষের দুর্নীতি সম্পর্কে নারীকে সোচ্চার ও সচেতন হবার কোনো বিকল্প নেই। নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রগতি হলে তা সার্বিকভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনে খুব সহায়ক হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।-ইউএনবি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ