ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশের শীর্ষে রাজশাহী বোর্ড ॥ পাসের হার ৮৬.০৭ ॥ জিপিএ-৫ সাড়ে ১৯ হাজার

রাজশাহী অফিস : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সাত বছরের মধ্যে খারাপ ফলাফল করেও  দেশসেরা হয়েছে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। এ বোর্ডে এবার পাসের হার ৮৬ দশমিক ০৭ শতাংশ। পাসের এই হার ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো দেশসেরা হলো রাজশাহী বোর্ড। এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে সাড়ে ১৯ হাজার জন পরীক্ষার্থী।
গতকাল দুপুরে রাজশাহী বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আনারুল হক প্রামানিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এ বছর বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছিল। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৫ জন। গত বছর রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯০.৭০ শতাংশ। এর আগে ২০১৬ সালে ৯৫.৭০, ২০১৫ সালে ৯৪.৯৭, ২০১৪ সালে ৯৬.৩৪, ২০১৩ সালে ৯৪.০৩ এবং ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৮.৩৩ শতাংশ। বোর্ডের আট জেলায় এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১০ হাজার ১৮ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪৮০ জন। গত বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৯ জন। এবার ছেলে, মেয়ে-উভয়ই গত বছরের তুলনায় বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বছর বোর্ডে প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী ছিল ২৯ জন। দুজন ছাড়া পাস করেছে সবাই। কারাভ্যন্তরে থেকেও পরীক্ষা দিয়েছিল চার জন। তবে এদের মধ্যে তিনজনই ফেল করেছে। পাস করেছে শুধু নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার মাধবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী রিপন আলী। এবার রাজশাহী বোর্ডে মোট ২৪৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। বহিষ্কৃত হয় ৪১ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১৩ জন। এবার মোট স্কুলের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৬৪৩টি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৯১০ জন। ছাত্র এবং ছাত্রী- উভয়েরই পাসের হার কমেছে। গত বছরের তুলনায় কমেছে শতভাগ পাস করা স্কুলের সংখ্যাও। এবার এমন স্কুলের সংখ্যা ২০৬টি। অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কড়াকড়ির কারণে বোর্ডের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ফল নির্ভর করে পরীক্ষার্থীদের ওপর। তারা যেমন পরীক্ষা দিয়েছে, ফলাফল তেমনই হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক খাতা মূল্যায়নে এবার একটা আদর্শ মান ধরে রাখা হয়েছিল। এই ফলাফল নিয়ে আমরা খুশি নই, দুঃখিত। ভবিষ্যতে আমরা সচেতন থাকবো।’
শতভাগ ফেল : শত ভাগ পাসের যেমন রেকর্ড আছে তেমনই শতভাগ ফেলেরও রেকর্ড হয়েছে এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে। এমন একটি স্কুল হলো  বগুড়া সদরে অবস্থিত দারুল ইসলাম নৈশ উচ্চ বিদ্যালয়। একটি স্কুলে এবার কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করেনি। এই স্কুলটিতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১০ জন।
সিটি মেয়রের অভিনন্দন : ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, যেসব শিক্ষার্থী বন্ধুরা ২০১৮ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে আমি তাঁদের আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। এ পরীক্ষায় কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে তাঁরা একাডেমিক শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ের ধাপ অতিক্রম করেছে। একাডেমিক জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের জন্য অভিভাবক, শিক্ষক ও শ্রদ্ধেয়জনদের উপদেশ মত নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে থেকে কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আগামীতে আরও সাফল্য বয়ে আনবে। আমি তাঁদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ