ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে পাসের হার জিপিএ ৫ দুটোই কমেছে পাসের হার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্রগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ ৫ দুটোই কমেছে। এবারের পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৯৪ জন। গতবার পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ফলে এবার কমেছে ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবার ২৫০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ কম পেয়েছে। গতবার জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। তবে এবছরের পাসের হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গতকাল রোববার প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়। 
গতবছর থেকে দুই দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার ৯০ শতাংশ। একইভাবে ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ কমে মানবিক বিভাগে এবার পাসের হার ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এবার পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. তাওয়ারিক আলম জানান, শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ১৭৯টি কেন্দ্রে এবছর ১ হাজার ২৩টি বিদ্যালয়ের ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৮ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ২ হাজার ৩৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৯৪ জন। গতবছর থেকে কমে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। এবার বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৯০ শতাংশ, মানবিক বিভাগে ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
ফলাফলে সব সূচকে কমার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জেনেছি এবারের এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দেশে প্রশ্নফাঁস চক্ররা সক্রিয় হয়ে ওঠেছিলো। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার পরীক্ষার্থীরা আধ ঘণ্টা আগে সাড়ে নয়টায় পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলো। পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে সকাল ৯টার দিকে প্রশ্নফাঁস হয়েছিলো। যখন পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে ঢুকে, তাদের মধ্যে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি কাজ করেছে। এই প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষার্থীরা বিব্রত ছিল, যেটি ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ২০১৪ সালে এসএসসিতে পাসের হার ৯১ দশমিক ৪০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ১০ হাজার ৮৮৪ জন। ২০১৫ সালে পাসের হার ৮২ দশমিক ৭৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭ হাজার ১১৬ জন। ২০১৬ সালে পাসের হার ৯০ দশমিক ৪৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ৫০২ জন। ২০১৭ সালে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ৩৪৪ জন। এবছর পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ৯৪ জন।
এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে ৩০ হাজার ৭৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৭ হাজার ৭০৮ জন, মানবিকে ৪২ হাজার ৫৬২ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৫ হাজার ৫৯২ জন এবং ব্যবসা শিক্ষা শাখায় ৬১ হাজার ৮০১ জনের মধ্যে পাস করেছে ৪৮ হাজার ৭৩৭ জন।
গতবছর থেকে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ কমে এবছর ছাত্র পাসের হার ৭৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ৬২ হাজার ৭৫৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ৪৭ হাজার ৬০৮ জন এবং একইভাবে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ কমে এবছর ছাত্রী পাসের হার ৭৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, ৭২ হাজার ৬০৩ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৫৪ হাজার ৪২৯ জন। 
গতবছর থেকে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ কমে নগরবাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭৭ দশমিক ২৬ শতাংশ। একইভাবে গতবছর থেকে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ কমে এবছর নগরসহ চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, গতবছর থেকে ১১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে এবছর কক্সবাজার জেলায় পাসের হার ৭৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। গতবছর থেকে দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে এবছর রাঙামাটি জেলায় পাসের হার ৬২ দশমিক ৭২ শতাংশ, গতবছর থেকে ১২ দশমিক ১১ শতাংশ কমে এবছর খাগড়াছড়ি জেলায় পাসের হার ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ ও গতবছর থেকে ২১ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে এবছর বান্দরবান জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৯২ শতাংশ।
গতবারের মত এবছরও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ জিপিএ ৫ পেয়েছে কলেজিয়েট স্কুলের ৩৯৭ জন ও সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের ৩২৬ জন শিক্ষার্থী। এ দুই স্কুল থেকে যথাক্রমে ৪২৫ ও ৪০৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, পাস করেছে সবাই।
এছাড়া বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা (বাওয়া) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৭৯, ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২৭৩, নাসিরবাদ সরকারি (বালক) উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৬৫, নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৪৩, চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৪২, চট্টগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭০, বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৪৫ জন ও ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৩৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ