ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেয়ার ঘটনায় অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা নামে দুই ব্যবসায়ী গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের কার্যালয়ে আসেন বলে উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সকাল ১০টা থেকে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন দুই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।
ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পে-অর্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের এক ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির’ ব্যাংক হিসাবে চার কোটি টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টির অনুসন্ধানের জন্য ২৫ এপ্রিল ওই দুই ব্যবসায়ীর ঢাকার উত্তরার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং টাঙ্গাইলের স্থায়ী ঠিকানায় নোটিস পাঠিয়ে রোববার তলব করা হয়। দুদকের তলবি নোটিসে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ না থাকলেও পদত্যাগী সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাই যে সেই ব্যক্তি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে তার খবর আগেই এসেছে।
এ বিষয়ে ওই দুজনের আইনজীবী আফাজ মাহমুদ রুবেল জানান, ‘উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের পাঁচ কাঠা জমির ওপর ৫১ নম্বরের ছয়তলা বাড়িটির মালিক সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা। তিনি ছয় কোটি টাকা মূল্যে বাড়িটি বিক্রি করেন টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিত চন্দ্র সাহার স্ত্রী শান্ত্রী রায়ের কাছে। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের মে মাসের দিকে বায়না দলিলের মাধ্যমে বিচারপতি এসকে সিনহার কাছ থেকে বাড়ির মালিক হন শান্ত্রী রায়। তখনই বাড়ি বাবদ দুই কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। এরপর একই বছরের ৮ নবেম্বর দুইটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় বিচারপতি এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে চার কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়। পরে ২৪ নবেম্বর এস কে সিনহা হস্তান্তর দলিলের মাধ্যমে শান্ত্রী রায়কে বাড়িটি লিখে দেন।’
নিরঞ্জন সাহা শান্ত্রী রায়ের স্বামী রনজিতের চাচা; আর শাহজাহান রনজিতের বন্ধু। তাদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইল।
ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের আরেক আইনজীবী নাজমুল আলম বলেন, “নিরঞ্জন ও শাহজাহান ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেন। এতে থার্ড পার্টি হিসেবে শান্ত্রী রায়ের বিভিন্ন জমি মর্টগেজ হিসাবে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। এই ঋণ থেকেই বাড়ির চার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়।” ওই চার কোটি টাকা একই বছরের ১৬ নবেম্বর পে-অর্ডারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ওই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করেন।
অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল বলেন, “অস্বাভাবিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। যাদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তর হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা রয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। অভিযোগের অনুসন্ধান শেষে কারা জড়িত এর বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে।” নথিপত্রে উল্লিখিত ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বিচারপতি সিনহা কি নাÑজানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের তোপে পড়ার পর গত বছরের অক্টোবরে ছুটি নিয়ে বিদেশ গিয়ে সেখান থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বিচারপতি সিনহা। তিনি বিদেশ যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে ১১টি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’  কথা বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর এই অভিযোগ তদন্তে তখন দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধের রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুদকের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ তখন বলেছিলেন, “যদি পাই, যারই হোক না কেন, আমরা দুর্নীতির অনুসন্ধান করব।”
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ফারমার্স ব্যাংক যাত্রা শুরুর চার বছর না যেতেই নানা অনিয়মে ধুঁকছে। চাপের মুখে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও ছাড়তে হয়েছে মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ