ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা বিভাগে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে

খুলনা অফিস : যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এসএসসি পরীক্ষায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে এক লাখ ৪০ হাজার ৬৯৯ জন। এর মধ্যে ছেলেরা পাস করেছে ৬৮ হাজার ৮১৭জন ও মেয়ে ৭১ হাজার ৪৮২ জন। পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, এবারও পাসের হার কমেছে। গত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে পাসের হার নিম্নমুখী। এ বছর পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার বেড়েছে। এ বছর যশোর বোর্ডে মোট এক লাখ ৮৩ হাজার ৫৮৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৬৯৯ জন। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৫ জন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি বেড়েছে দুই হাজার ৯৩৫।
তিনি জানান, গত বছর যশোর বোর্ডে মোট এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিল। এদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল এক লাখ ২২ হাজার ৯৯৫ জন। পাসের হার ছিল ৮০ দশমিক ৪ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৪৬০ জন। তবে রেকর্ড পাসের হার ছিল ২০১৬ সালে। ওই বছর এক লাখ ৪৮ হাজার ৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছিল। পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৮৫ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৪৪৪। কিন্তু ২০১৭ সালে গিয়ে এই হার কমে যায় ১১ শতাংশের বেশি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘পাসের হার নিম্নমুখী হওয়ার নেপথ্যে মানবিক বিভাগের পাসের হারকে শনাক্ত করা হয়েছে। মানবিকের শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ গণিতে অকৃতকার্য হওয়ায় সার্বিক ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
এবার এসএসসি পরীক্ষায় ফুলতলাস্থ মিলিটারি কলেজিয়েট স্কুল খুলনা (এমসিএসকে) শতভাগ পাশের মাধ্যমে ছাত্র ক্যাডেট ও ছাত্রী ক্যাডেট সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে। ফলাফল অনুযায়ী ১৪ম ব্যাচের ক্যাডেটবৃন্দ ১৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২০ জন জিপিএ-৫ এবং বাকি ১২ জন এ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। বয়েজ ক্যাডেট এর ৭৪ জন এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখায় ৫৮ জনের মধ্যে ৫৬ জন এ প্লাস এবং বাণিজ্য শাখায় ১৬ জনের মধ্যে ১১ জন এ প্লাস ও বাকি ৬ জন এ পেয়েছে। গালর্স ক্যাডেট ৪৬ জনের মধ্যে বিজ্ঞান শাখার ৪৫ জন এ প্লাস, বাণিজ্য শাখায় ১২ জনের মধ্যে ৮ জন এ প্লাস এবং বাকি ৫ জন এ পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের গর্বিত অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মামুন, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মেজর জেনারেল মো. নাঈম আশফাক চৌধুরী, এসবিপি, ওএসপি, পিএসসি, জিওসি ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়াসহ উপাধ্যক্ষ, সংশ্লিষ্ট সকল অফিসার, শিক্ষকমন্ডলী, ক্যাডেট, অভিভাবকবৃন্দকে এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ঢাকা থেকে দাখিল পরীক্ষায় দারুল কুরআন সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসার ফলাফল সম্পর্কে অধ্যক্ষ মাওলানা ইদ্রীস আলী জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে ৬৮ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। এ প্ল¬াস পেয়েছে ১৪ জন। চারজন ফেল করেছে।
খুলনা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আ খ ম জাকারিয়া জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে ৬৫ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। এ প্লাস পেয়েছে চারজন। ৮ জন ফেল করেছে।
খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ জানান, এবার এ মাদরাসা থেকে ৬০ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। এর মধ্যে ৪১ জন পাশ করেছে। এ প্লাস পেয়েছে একজন।
তালিমুল মিল্লাত রহমাতিয়া আলিয়া (ফাযিল) মাদরাসার অধ্যক্ষ এএফএম নাজমুস সউদ জানান, এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়েছিল ৬৮ জন। এ প্লাস পেয়েছে ১৪ জন। চারজন ফেল করেছে।
খান এ সবুর মহিলা মাদরাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়েছিল ৬১ জন। এর মধ্যে এ প্লাস পেয়েছে ৫ জন। ১০জন ফেল করেছে।
মোহাম্মদ নগর মহিলা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোসাম্মাদ হুমায়রা খাতুন জানান, এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়েছিল মোট ৫৪ জন। এর মধ্যে এ প্লাস পেয়েছে ৬ জন। ১৭ জন ফেল করেছে।
আল ফারুক সোসাইটি দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা জাকির হোসাইন জানান, এবার দাখিল পরীক্ষা দিয়েছিল ১৪ জন। এর মধ্যে ৭ জন ফেল করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ