ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাদুল্যাপুরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে রশি টানাটানি

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা : গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার সেকেন্দার আলী বাদশা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ মারা যাওয়ার পর থেকে স্বার্থন্বেশী মহলের মধ্যে শুরু হয়েছে রশি টানাটানি। কেউ বলেছে হত্যা, আবার কেউ বলেছে স্বাভাবিক মৃত্যু। এমন কী বাদশা মিয়ার লাশ নিয়ে বাণিজ্য করার পায়তারাও চলছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসী জানান, নিহত সেকেন্দার আলী বাদশা উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবদাস গ্রামের মৃত পিয়ার মামুদের ছেলে। শুক্রবার দুপুর আাড়াইটার দিকে বৈষ্ণবদাস (কানীপাড়া) এলাকার ছোলেমানের বাড়ির পূর্ব পাশের একটি বাঁশঝাড়ে মলত্যাগ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়। এ সময় তার পড়নের লুঙ্গিটি মলমূত্র অবস্থায় ছিল। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে বাদশাকে মলমূত্র অবস্থায় উদ্ধার করে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাদশা মিয়া হঠাৎ ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছিল বলে জানান এলাকাবাসী।
এর পর পল্লী চিকিৎসক ফরিদ মিয়া তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। বাদশা মিয়া অতিরিক্ত গ্যাসটিকের কারণে পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হয়েছিল এবং এ বিষয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে বলে জানান ফরিদ মিয়া।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তার কোনো উন্নতি না হলে রংপুর হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়। তার স্বজনেরা হাসপাতালে নেয়ার প্রস্ততিকালে শুক্রবার বিকেলের দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বাদশা মিয়া।
এর পর নিহত বাদশার স্বজনদের মধ্যে শুরু হয় নানা কানাঘুষা। কারণ হচ্ছে-ভাগীশরিক আইয়ুব আলী গংদের সঙ্গে বাদশা মিয়ার জমি-জমা বিরোধ চলে আসছিল। তাই বাদশা মিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নানামূখী আলোচনার ঝড় তোলেন। কেউ বলেছে ডায়রিয়া জনিত কারণে বাদশা মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। কেউ বলেছে প্রতিপক্ষের মারপিটের আঘাতে মারা গেছে। আবার অনেকে ধারণা করছেন প্রতিক্ষকে ফাঁসানোর জন্য বাদশাকে হত্যা হিসেবে জাহির করেছেন স্বজনেরা।
বর্তমানে বাদশা মিয়ার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সে প্রতিপক্ষের আঘাতে মারা গেছে নাকী ডায়রিয়া জনিত কারণে মারা গেছে? তবে স্থানীয় অধিকাংশ ব্যক্তিগণ জানান, বাদশা মিয়া ডায়রিয়া জনিত কারণে মারা গেছেন। প্রতিপক্ষ আইয়ুব আলী গংরা বলেন, আামাদের ফাঁসানোর জন্য বাদশা মিয়া গংরা দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলাসহ নানা ধরনের হয়রানি করে আসছে।
এদিকে নিহতের স্বজনদের দাবি গত একমাাস আগে বাদশাকে মারপিট করেছিল প্রতিপক্ষরা। ওই মারপিটের আঘাত জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারদের এমন দাবিতে মরহুমের লাশ থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ। তবে অনেকের প্রশ্ন, প্রতিপক্ষ দ্বারা মারপিটের শিকার বাদশা মিয়াকে গত একমাসে সুস্থ দেখা গিয়েছিল। সে হাটবাজার করাসহ স্থানীয়ভাবে চলাফেরা করেছে। তাহলে কীভাবে মারপিটের আঘাতে মারা গেল বাদশা মিয়া? বিষয়টি কারই বোধগম্য নয়। ধারণা একটাই, শুধু প্রতিপক্ষকে হয়রানী করার লক্ষ্যে হত্যার নাটক সাজাচ্ছে স্বজনেরা। ঘটনা যাই হোক, পুলিশ প্রশাসনের সঠিক তদন্ত হলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে মর্মে মনে করেন এলাকাবাসী।
রোববার দুপুরে সাদুল্যাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, বাদশা মিয়ার লাশ শুক্রবার গভীর রাতে থানায় আনার পরদিন শনিবার দুপুরে গাইবান্ধা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের পর জানা যাবে হত্যা নাকী অসুস্থ জনিত কারণে মারা গেছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছে নিহতের স্বজন। তবে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়নি বলে জানান ওসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ