ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মেধাবীদের ভ্রষ্টযাত্রা

তরুণরা, যুবকরা জাতির শ্রেষ্ঠ সম্ভাবনা। কিন্তু সম্ভাবনার এই শক্তি যদি বিপথের যাত্রী হয় তাহলে জাতির জন্য তা হয়ে উঠতে পারে আপদের বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সম্ভাবনাময় এই শক্তির যথাযথ বিকাশে আমাদের পরিবারে, সমাজে এবং রাষ্ট্রে কাক্সিক্ষত সচেতনতা ও ব্যবস্থাপনা আছে কী? এর আশাপ্রদ চিত্র নেই, জবাবও নেই। তবে কাজটি যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা সবাই স্বীকার করে থাকেন। কিন্তু কেবল মৌখিক স্বীকৃতি কোন লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য যথেষ্ট বলে বিবেচিত হতে পারে না। এ কারণেই হয়তো প্রায় প্রতিদিনই তরুণদের, যুবকদের ভুল পথে যাওয়ার প্রতিবেদন মুদ্রিত হচ্ছে পত্রিকার পাতায়।
‘লেখাপড়া শেষ করে দুই বন্ধুর ইয়াবা ব্যবসা!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। ৫ মে মুদ্রিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন দুই বন্ধু ইমরানুল হক ও তাইজুল খান। চাকরিও খুঁজেছিলেন কিছুদিন। সে জন্য নিয়েছিলেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি। হঠাৎ তাদের ভাবনায় আসে, চাকরি করে জীবনে কত টাকা আয় করা সম্ভব? জীবনে কি স্বচ্ছলতা আসবে? এর চেয়ে তো ব্যবসাই ভাল। আর তা যদি হয় অল্প পুঁজিতে, তা হলে তো কথাই নেই। চাকরি করে গাধার খাটুনি খেটে কী লাভ! চোখ বন্ধ করে তারা নেমে পড়েন ইয়াবা ব্যবসায়। অল্প দিনে সফলতাও আসে তাদের। জমিয়ে ফেলেছিলেন বেশকিছু টাকা, কেনেন গাড়িও। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এতদিন ফাঁকি দিয়ে হলেও ৪ মে তারা ফেঁসে যান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) কর্মকর্তাদের জালে। ডিএনসি প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এভাবেই বর্ণনা দেন দুই বন্ধু ইমরানুল হক ও তাইজুল খান। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে ব্রিফকেস ভর্তি ৬০ হাজার ডিপস ইয়াবাসহ দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করেন ডিএনসি কর্মকর্তারা। জব্দ করা হয় তাদের ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটিও। তারা বিভিন্ন কৌশলে রাজধানীতে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।
যৌবনদীপ্ত ও মেধাবী ছাত্রদের এমন ভ্রষ্টযাত্রা আমাদের জন্য বড় দুঃসংবাদ। তারা এমবিএ পাস করেছিলেন, কিছুদিন চাকরিও খুঁজছিলেন। দেশের চাকরির বাজার তো বেশ কঠিন এবং তেমন আকর্ষণীয়ও নয়। এমন পটভূমিতে তারা ভুল পথে পা বাড়ালেন। এখানে এ বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, তদের নৈতিক মান ছিল বেশ দুর্বল। অনেক মেধাবী যুবক তো চাকরির এই কঠিন বাজারে ধৈর্য ধরেছেন, চাকরিও পেয়েছেন। প্রাপ্ত সীমিত অর্থেই তারা জীবনযাপন করছেন, সংসার চালাচ্ছেন। প্রশ্ন জাগে, বিভ্রান্ত ওই যুবকরা পরিবার থেকে, সমাজ থেকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সঠিক জীবনদৃষ্টি ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনে ব্যর্থ হলো কেন? রাষ্ট্রও কি ওদের স্বপ্ন পূরণে সফলতার পরিচয় দিতে পারছে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ