ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় দেদারছে পলিথিন উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে

খুলনা অফিস : পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ আইনে আছে কিন্তু ভোক্তা ও বিক্রেতা কেউই তা মানছেন না। দেদারছে উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে পলিথিন। খুলনা মহানগরীতে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে পলিথিনের ব্যবহার বাড়ছে।

জানা গেছে, খুলনায় মহানগরীর খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্য বিক্রয়ে ব্যবহার করে পলিথিন। বিশেষ করে নগরীর হোটেলগুলোতে এর প্রচলন বেশি। তবে থেমে নেই ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীরাও। পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এগুলো ব্যবহার করা হয়। 

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরে নিয়মিত কার্যক্রমে পলিব্যাগ উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান করার কথা। তার পরেও মহানগরীর খাবার বিক্রি প্রতিষ্ঠানের প্যাকেটের ভেতর পলিথিন ব্যবহার করা হয়। একই সাথে নগরীর খোলামেলা জায়গায়ও পণ্য বিক্রয়ে ব্যবহার করা হয় এই নিষিদ্ধ পলিথিন। এসব জায়গা থেকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খাবার কেনেন একেবারে নি¤œশ্রেণির মানুষও। কিন্তু কেউ কিছু না বলায় পলিথিন ব্যবহারের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

অপরদিকে উন্নতমানের প্রতিষ্ঠান থেকে খাবারের সাথে ব্যবহৃত পলিথিন পরে বর্জ্য হিসেবে গণ্য হয়। আর যা ফেলা হয় রাস্তার পাশে অথবা ড্রেনে। যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে। 

এদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ঝড়-বৃষ্টির কবল থেকে প্রার্থীদের পোস্টার বাঁচাতে ব্যবহার করা হচ্ছে পলিথিন। কোন কোন পোস্টার আবার পলিথিন যুক্ত করেই প্রিন্ট করা হচ্ছে। তবে এর ব্যবহার বর্তমানে হরহামেশা হলেও নির্বাচনের পরে এর দিকে কোন খোঁজখবর থাকে না।

সরেজমিন নগরীর মৌলভীপাড়া, গগণবাবু রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, ময়লাপোতা মোড়, বাইতিপাড়া রোড়, রয়্যাল মোড়, গফফারের পানের দোকানের মোড়, সাতরাস্তার মোড়সহ অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত খাবার দোকানে পলিথিন ব্যবহার দেখা গেছে।

নগরীর অভিজাত হোটেল থেকে বিরিয়ানী কেনা আযম খান কমার্স কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বড়-ছোট সকল হোটেলে খাবার বিক্রয়ে পলিথিন ব্যবহার করা হয়। বিষয়টাতো সংশ্লিষ্টরা সবাই জানে। কিন্তু কি হয় তাদের? দোলখোলা এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, পলিথিন ব্যবহার ক্ষতিকর। কিন্তু নিয়মিত অভিযান হলে এর ব্যবহার কিছুটা হ্রাস করা যাবে।

বাইতিপাড়া রোডের মাছ ব্যবসায়ী মো. খাদেম আলী বলেন, পলিথিন ছাড়া ক্রেতারা সাধারণত মাছ নিতে চায় না। ক্রেতাদের প্রয়োজন মেটাতে পলিথিন ব্যবহার করা হয়।

নগরীর বড় বাজারের পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী মো. রাজীব হোসেন বলেন, পলিথিনের ব্যবহার সারা বছরই চলে। কিন্তু তেমন কোন সমস্যা না হওয়ায় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. হাবিবুল হক খান বলেন, হোটেলগুলোতে ভোক্তা অধিকার আইনের লোকজন কাজ করে। পলিথিন পেলে তাদের খবর দেয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। তারপরেও পলিথিন প্রতিরোধে চেষ্টা করছি। হোটেলসহ যে সকল জায়গায় পলিথিন ব্যবহার করা হয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ