ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসিদ্ধ স্থান পোড়াদহ

পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন

বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগ, তিতীক্ষা ও সেবার কারণে এ উপজেলার অনেক মাটি ও মানুষ অত্যান্ত গর্বিত। মুক্তিযুদ্ধে ২জন শাহাদাত বরণকারী শহীদ তারেক বীর বিক্রম ও আব্দুর রহিম বীর বিক্রমসহ অনেক মনীষীর কারণে মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ স্মরণীয়। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাপড়ের মোকাম কুষ্টিয়ার পোড়াদহ। দেশের দক্ষিণ-উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সাথে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে জিরো পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার হয় পোড়াদহ রেল জংশন। দেশের বৃহত্তম অটো চালকল পোড়াদহের এক অংশে অবস্থিত। এখানকার ব্যবসা সমৃদ্ধ গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশ কিছু বানিজ্যিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠান। কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি বীমা ও এনজিও প্রতিষ্ঠান। ব্যবসায় সফলতার কারণে কাপড়ের মোকামের পরিধি বিস্তৃতি ঘটেছে প্রায় ২০ একর জায়গা জুড়ে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ব্যতিত কেবল কাপড়ের মোকামে দৈনিক লেনদেন প্রায় কয়েক কোটি টাকা। এখানকার কয়েকটি মৎস্য হ্যাচারীতে প্রচুর পোনা উৎপাদিত হয়। এ পোনা জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠানো হয়। বৃটিশ আমল থেকেই পোড়াদহ ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ। কুষ্টিয়া জেলার ৬৬টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্যতম পোড়াদহ ইউনিয়ন। পুড়াদাহ শব্দ থেকে পোড়াদহ এসেছে। পুড়া অর্থ অগ্নিকান্ড, পুড়ে যাওয়া আর দহ শব্দের অর্থ ভস্মিভূত হওয়া। সুতরাং পুড়াদহ শব্দের অর্থ অগ্নিকান্ডে ভস্মিভূত হওয়া। জনশ্রুতি আছে মুঘল আমলে এ এলাকার গ্রামগুলো বার বার পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যেত বলে এই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয় পোড়াদহ। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলপথ স্থাপিত হয় এই ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নের রেলপথ ব্যবসা-বাণিজ্যকে করেছে ত্বরান্বীত। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাপড়ের হাট এখানে হওয়ায় পোড়াদহ ইউনিয়নের সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে এই কাপড়ের হাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ব্যাংক ও এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউনিয়নের স্বরুপদহতে রয়েছে কুমারপাড়া, তাঁতী পাড়া, যারা তাদের মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে পণ্য তৈরি করে সকলের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে। এই ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেছে অনেক কৃতি সন্তান। যাদের কর্মকান্ডে আমরা গর্বিত। শহীদ তারিক বীর বিক্রম , শহীদ রহিম বির বিক্রম ও কুষ্টিয়া জেলা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মৃত খন্দকার ইসরাঈল হোসেন আফুর স্মৃতি বিজড়িত এই ইউনিয়ন। যাদেরকে এই ইউনিয়নবাসী চিরদিন স্মরণ করবে। যারা এই ইউনিয়নবাসীদের পাশে থেকে এই ইউনিবাসীকে দ্বন্দ-সংঘাত থেকে রক্ষা করেন এবং বিভিন্ন ধরনের দ্বন্দ-বিবাদ মিমাংসার বিচার ও ফায়সালা করে সামাজিক কর্মকান্ডে অবদান রাখেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- মরহুম খন্দকার কোরবান আলী, সাবেক চেয়ারম্যান মৃত লিয়াকত আলী, সাবেক চেয়ারম্যান মৃত শাহজাহান আলী, বিল্লাল বিশ্বাস, মরহুম আজহার আলী, মৃত তাহের মন্ডল, মরহুম ডাঃ আবু সাঈদ, ডাঃ আব্দুস সাত্তারসহ অন্যন্যরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ