ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়ায় পেশা ছাড়ছে কামাররা হাজারো পরিবারের দুর্দিন

কুষ্টিয়ার পল্লীতে কর্মরত এক কামার পরিবার

লোহার মূল্য বৃদ্ধিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির কারণে কুষ্টিয়ার কামার শিল্প বিলুপ্তির পথে। নানা সমস্যা ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, মূল্য বৃদ্ধি, চরম আর্থিক সংকট ও তৈরী পণ্যের চাহিদা কম সহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সহ মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, খোকসা ও কুমারখালী উপজেলার প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলে বাংলার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহ্যবাহী কামার শিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
এ জেলার প্রায় হাজারো পরিবারের দিন কাটছে অতি দুঃখ কষ্টে। মানবেতর অবস্থায় জীবনযাপন করছে এরা। এক সময় এ জেলার তৈরীকৃত দ্রব্যাদি দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী হতো। জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাট বাজারে প্রচুর কামার শিল্প গড়ে উঠেছিল। কামারদের তৈরিকৃত নিত্য ব্যবহার্য তৈরি দা, বটি, কাঁচি,হাসুয়া, লাঙলের ফলা, কোদাল, ছুরি, সাবল, খন্তা, কুড়ালসহ বিভিন্ন জিনিসের ব্যাপক কদর ছিল। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় যান্ত্রিক সভ্যতার ফলে পরিবর্তন এসেছে। কামারদের তৈরিকৃত জিনিসের কদর আর আগের মত নেই। বর্তমানে কামার শিল্পে দুর্দিন নেমে এসেছে। কামাররা পেশা ছেড়ে অন্য পেশা ধরেছে। কামার শিল্পের দৈন্যদশা সম্পর্কে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের নান্টু কুমার কর্মকারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘‘পুঁজির অভাব, প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন-লোহা, কয়লার দাম বেশি হওয়ায় মজুরীর দাম ওঠেনা। বেচা বিক্রিও কম। তাই অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। পৈত্তিক পেশা তাই ছাড়তে পারছিনা। আঁকড়ে ধরে আছি। সরকারী ও বেসরকারীভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে এ পেশার মাধ্যমে অনেক পরিবার স্বচ্ছল ভাবে চলতে পারত। অপর দিকে কামার শিল্প ফিরে পেত তার হারানো ঐতিহ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ