ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

বাঁশের তৈজষপত্র তৈরি করছেন এক শ্রমিক

কুষ্টিয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করে সংসার চালায় এখানকার অনেক পরিবার। কিন্তু বাঁশের উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বাঁশ না পাওয়ায় কুটির শিল্পের কারিগরদের ব্যবসায় ভাটা পড়ছে। জানা যায়, বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পনা ও পরিচর্যার অভাবে বাঁশ চাষের আবাদ ও উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। এখানকার পতিত জমিতে অন্যান্য ফসল ও বাঁশ চাষের ভালো সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। গত এক দশক আগে বন সম্পদের অফিসের অধীনে এক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির আওতায় পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে গাছ লাগানো হয়। ওই সময় বাঁশের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হলে বাঁশ ঝাড় বৃদ্ধি পায়। গ্রামাঞ্চলে প্রচুর বাঁশের আবাদ করা হয়। মৃত্তিকা বাঁশ, বরাক, মুলি, তল্লা, মাকলা, বারিয়ানা, নল, ভুদুম, রেঙ্গুন ও কালি বাঁশ বাঁশ ঝাড়গুলোতে উৎপন্ন হয়। এসব বাঁশ ও বেতের উপর নির্ভর করেই পল্লীতে কুটির শিল্প গড়ে ওঠে। বাঁশ দিয়ে কুটির শিল্পে তৈরি করা হয়- কুলা, চালনা, ডোল, খালই, পলো, চাটাই, ডালি, দোলনা, চেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও ব্যবহার্য জিনিসপত্। এছাড়াও বাঁশ দিয়ে কাঁচা ঘরবাড়ী তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বলতে গেলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বাঁশের প্রয়োজনীয়তা অনেক। গ্রাম-গঞ্জ শহরে এর চাহিদা ব্যাপক। এ বাঁশ বেতের উপর নির্ভর করেই কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। বাঁশের তৈরি তৈজষপত্র বিক্রি করেই এরা সংসার চালায়। তারা বাঁশ-বেত শিল্পের সাথে জড়িত। মানুষ এ বাঁশ বেত শিল্পের উপর নির্ভরশীল। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে দিনের পর দিন বাড়ছে বাঁশের চাহিদা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী বাড়ছে না বাঁশের আবাদ। লাগানো হচ্ছে না বাঁশের ঝাড়। বাঁশ কেটে সাবাড় করে নষ্ট করা হচ্ছে পরিবেশ। বাঁশের মুতাও কেটে ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে বাঁশ ঝাড়। চাহিদার তুলনায় বাঁশ না লাগানোর জন্য বাঁশের ঘাটতি পড়ছে প্রতি বছর। বাঁশ চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় এ জেলায় সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও জনসাধারণকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত না করায় বাঁশ আবাদ বাড়ছে না। তাই ধ্বংস হতে চলেছে বাঁশ বেত শিল্প। জেলা বন বিভাগের অধীনে বাঁশ লাগানো কর্মসূচী নিয়ে যদি গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে এবং জেলার পতিত জমির সুষ্ঠু ব্যবহার করাতে সক্ষম হয় তাহলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ জেলায় বাঁশের আবাদ বাড়বে। উৎপাদিত বাঁশ জেলার চাহিদা পূরণ করে বাইরে পাঠাতে পারবে এবং বাঁশ ভিত্তিক প্রচুর শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ