ঢাকা, সোমবার 7 May 2018, ২৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২০ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

১০ কোটি টাকার লিচু উৎপাদন থেকে বঞ্চিত কৃষকরা  

ওয়ালিয়র রহমান, মাগুরা থেকে : মাগুরা জেলার লিচু পল্লী হিসেবে খ্যাত সদর উপজেলার হাজরাপুর, মিঠাপুর, ইছাখাদা,খালিমপুর, হাজিপুরসহ ৩০ গ্রামে এবার লিচুর  ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফলন বিপর্যয়ের কারণে চাষিদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তারা বঞ্চিত হচ্ছে ১০ কোটি টাকার লিচু থেকে। প্রতিবারের মত এবারও এলাকার লিচু চাষিরা লাভের আশায় বুকঁেবধে লিচু পরিচর্যা করে আসাছিল। কিন্তু এবার লিচুর মুকুল দেখা দিলেও ফল ধরেনি। যে কারণে ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আর এ কারণে এবার উৎপাদনের হার নেমে এসেছে গত বারের তুলনায় অর্ধেক। ইতিপূর্বে মাগুরার লিচু চাষিরা প্রতি বছর ২০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি করে আসছিল। এবার ১০ কোটি টাকার লিচু হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। পরিবেশ পক্ষে থাকায় গাছে লিচুর ব্যাপক মুকুল দেখা দেয়। অসময়ে বিষ্টির কারণে লিচুর মুকুল ঝরে যায়। ফলে এ বিপর্যয় দেখা দেয় বলে এলাকার লিচু চাষিরা জানায়। প্রতি বছরই এলাকার চাষিরা লিচু বিক্রি করে লাভবান হয়ে থাকে। গত বছর  বিরূপ আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের উদাসিনতায় এলাকার চাষিরা  ফলন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। এবার ও একই অবস্থা। মাগুরা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দুরে মাগুরা ঝিনাইদহ সড়কের ইছাখাদা পৌঁছিলেই চোখে পড়তো রাস্তার দুপাশে সারি সারি লিচু বাগানে থরে থরে ধরে থাকা লিচুর এ মনোরম দৃশ্য। এ লিচু পল্লীতে দেড় হাজার লিচু বাগান রয়েছে। লিচু চাষে অনেক চাষির ভাগ্য বদলে দিন দিন অন্যেরা উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসায় এলাকায় লিচুর চাষে বিপ্লব ঘটে। এলাকায় অনুষ্টিত হয় লিচুমেলা। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসে ব্যাপারীরা। সমাগম হয় বিপুল সংখ্যক মানুষের। মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর, রাঘবদাইড়, হাজিপুর ইউনিয়নের মিঠাপুর ,ইছাখাদা, খালিমপুর, রাউতাড়া,মির্জাপুর,বামনপুর, আলমখালী,বীরপুর, বেরইল, লক্ষীপুর, আলাইপুর নড়িহাটিসহ ৩০  গ্রামের চাষিরা গত ২১ বছর ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচুর আবাদ করে আসছে। মাগুরার চাষিরা বেদানা, মোজাফ্ফর, চায়না থ্রী ও বোম্বাই জাতের লিচুর চাষ করে। যা ক্রেতাদের কাছে খুবই প্রিয়। আর এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা এখানকার লিচু আগে ভাগে কিনে পরিচর্যা করে অন্যত্র বিক্রি করে লাভবান হয়। এ কারণে এলাকার লিচু জনপ্রিয়তা লাভ করে। প্রতি বছর ব্যাপারীরা লিচু কিনতে ভীড় জমায়। এলাকা হয়ে ওঠে জমজমাট। ট্রাক ট্রাক লিচু এখান থেকে অন্যত্র নিয়ে যায় ব্যাপারীরা। তবে ইতিপূর্বে প্রতি বছর  লিচু মেলা অনুষ্ঠিত হলে ও গত  তিন বছর রাজনৈতিক কারণে  লিচু মেলা করা সম্ভব হয় নাই বলে জানান লিচু মেলার আয়োজোকরা। তাছাড়া এলাকার লিচু চাষের মূল ব্যক্তি ওলিয়ার রহমান সম্প্রতি মারা গিয়েছে। এর ফলে আগের মত লিচু মেলা হবে কিনা তা নিয়ে কৃষকদের সংশয় রয়েছে। জনৈক লিচু চাষি জানান, তার বাগানে ৫০টি লিচু গাছের প্রতি গাছে ৪ হাজার করে লিচু উৎপাদন হয় যা  ৫লাখ টাকা বিক্রি করেছে ইতিপূর্বে।  এবার ২ লাখ টাকা হবে কিনা সন্দেহ।   তাদের মত সবাই এবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ সর্বত্রই লিচুর ফলন বিপর্যয় ঘটেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ