ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বগুড়ায় চার যুবককে গলা কেটে হত্যা

বগুড়া অফিস ও শিবগঞ্জ সংবাদদাতা : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ধান ক্ষেত থেকে চার যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার বাদলাদীঘি গ্রামের একটি বিলের ধান ক্ষেত থেকে এ লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাশ উদ্ধারের সময় নিহতদের প্যান্টের পকেটে হেরোইন, ইয়াবা ও  গাঁজার পুরিয়া পাওয়া গেছে বলে জানাগেছে। মাদক ব্যবসা ও জুয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে এলাকাবাসী ও পুলিশ ধারণা করছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার তিন যুবক হলো- উপজেলার আটমুল ইউনিয়নের কাঠগাড়া গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে পানের দোকানী সাবরুল ইসলাম (৩৫) ও একই গ্রামের রঙ মিস্ত্রি জহুরুল ইসলামের ছেলে জাকারিয়া ইসলাম (৩২) এবং জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের পাঁচপাইকার চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের আজাহার উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩৬)। অপর একজনের নাম পরিচয় এখনো পুলিশ জানতে পারেনি। নিহতদের প্রত্যেকের গলাকাটা ছিলো। এরমধ্যে দুইজনের হাত পিঠমোড়া করে বাঁধা ছিল। আর একজনের একটি পা কাটা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, বগুড়া শহরে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্র্শীরা জানান, আটমূল ইউনিয়নের আলিয়ারহাটের উত্তরে বেতগাড়ি গাংনই নদীর পশ্চিমে ডাবইর এলাকার ধান ক্ষেতে চারজনের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানার পুলিশসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
স্থানীয়রা জানায়, বেতগাড়ি-কিচক সড়ক থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ডাবইর পাথার বলে পরিচিতি ধান ক্ষেতে লাশগুলো পড়ে ছিল। দুটি ধান ক্ষেতে পাশাপাশি চার জনের লাশ পড়ে ছিল। এরমধ্যে দুইজনের হাত বাধা ছিল। এক সাথে চারটি গলাকাটা লাশ পড়ে থাকার খবর শুনে গ্রামে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। শত শত নারী পুরুষ বিলের পাড়ে ভীড় জমায়। বেলা ১২টার দিকে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে বিলের পাড়ে নিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজন লাশ দেখে কাঠগারা গ্রামের জাকারিয়া ও শাহাবুলকে সনাক্ত করে। পরে  বিভিন্ন সূত্র ধরে পুলিশ হেলালের পরিচয় নিশ্চিত করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ অপরজনের পরিচয় জানতে পারেনি।
এদিকে, একসাথে চারটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকার লোকজন ভয়ে মুখ খুলছে না। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে আটমুল ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ভায়ের পুকুর বাজার। এই বাজারে দীর্ঘদিন যাবৎ জুয়া ও মাদক ব্যবসা চলে আসছিল। জুয়া ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের গ্রুপিং চলছিল। মাস খানেক আগে এসবের জের ধরে এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী সেলিম নামের একজনকে অস্ত্রসহ পুলিশ গ্রেফতার করে। সেলিমকে গ্রেফতারের পিছনে তার প্রতিপক্ষের লোকজনের হাত রয়েছে দাবি করে সেলিম গ্রুপের লোকজন প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ভায়েরপুকুর বাজারে মহড়া দিতো। সম্প্রতি সেলিম জামিনে আসার পর এলাকায় তার পক্ষের লোকজন তৎপর হয়ে ওঠে। রোবার সন্ধ্যার পরও সেলিমের লোকজন মোটরসাইকেল নিয়ে ভায়েরপুকুর বাজারে মহড়া দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নিহত সাহাবুলের বাবা আছির উদ্দিন জানান, তার ছেলে শাহাবুল ভায়েরপুকুর বাজারে পান সিগারেটের দোকান করতো। রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত সাহাবুল দোকানে ছিল। রাতে তার বাবাকে দোকানে বসিয়ে ঢাকায় যেতে হবে বলে বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যায়। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেনি।
এদিকে, চার খুনের খবর পেয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা ও শিবগঞ্জ ও সোনাতলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মশিউর রহমান ম-ল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ ও ডিবির টিম নিয়ে তারা ধানক্ষেতের হাঁটু পানি মাড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে নানা ধরনের আলামত পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে পুলিশ সুপার বলেন, নিহতদের পেশা ও যাদের সাথে চলাফেরা করতো তাদের সম্পর্কে খোঁজ খবর না নেয়া পর্যন্ত হত্যাকা-ের কারণ বলা সম্ভব হবে না। তিনি জনগণকে আতংকিত না হয়ে হত্যাকা-ের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। সোমবার লাশ চারটি উদ্ধার করে শিবগঞ্জ থানায় নেয়া হয়। পরে বিকেলে লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
আটমূল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন জানান, নিহতরা সবাই আটমূল ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের হত্যাকা- মেনে নেয়ার মত না। তবে ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
শিবগঞ্জ থানার পরিদর্শক (আপারেশন) জাহিদ হোসেন ম-ল জানান, নিহতদের প্রত্যেকের কাছেই গাজা, ইয়াবা ও হেরোইনের পুরিয়া পাওয়া গেছে। জাকারিয়া ওই এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী।
এদিকে, বগুড়া শহরের ফুলবাড়িতে পুলিশের সামনে এক সন্ত্রাসীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় জনগন। সোমবার দুপুর ২টার দিকে ফুলবাড়ি দক্ষিণপাড়ায় আবুলের দোকানের সামনে এই হত্যাকা- সংঘটিত হয়। তবে পুলিশের দাবী পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই গনপিটুনিতে সন্ত্রাসী রুবেলের মৃত্যু হয়। নিহত রুবেলের নামে ৪টি গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আমবার হোসেন। নিহত রুবেল ফুলবাড়ি দক্ষিন পাড়ার সঞ্জু মিয়ার ছেলে। নিহত রুবেলের মা ঝর্না বেগম জানান, তার ছেলে রুবেল ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সোর্স হিসেবে কাজ করতো। পুলিশকে মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দেয়ার কারনে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা তার উপর ক্ষুব্ধ ছিল। এ কারণে বেশ কিছুদিন যাবৎ রুবেল বাড়িতে থাকতো না। গতকাল সোমবার দুপুরে রুবেল জাতীয় পরিচয়পত্র নেয়ার জন্য বাড়িতে আসে। সন্ত্রাসীরা এ খবর জানতে পেরে বাড়িতে প্রবেশ করে ভাংচুর করে এবং রুবেলকে ধরে নিয়ে গিয়ে আবুলের দোকানের সামনে মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে ফুলবাড়ি পুলিশ ফাড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম পুলিশ নিয়ে সেখানে আসলেও তারা রুবেলকে উদ্ধার করেনি। পরে বগুড়া সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং রুবেলকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। ফুলবাড়ি পুলিশ ফাড়ির এসআই শহিদুল ইসলাম এবিষয়ে কোন মন্তব্য না করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, নিহত রুবেল সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী। স্থানীয় জনগণ তাকে পেয়ে গণপিটুনী দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছার আগেই রুবেল মারা যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ