ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ভোট পাবে না বুঝতে পেরেই নির্বাচন স্থগিত -ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার : মহাজোট নয়, সর্বগ্রাসী মহালুটপাটের সরকার জাতীর কাঁধে ভর করেছে। লুণ্ঠনকারী এ সরকার নির্বাচনের ওপর ভরসা করতে পারছে না। ১০ শতাংশ ভোটও পাবে না বুঝতে পেরেই আদালতের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনও স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘সর্বগ্রাসী লুণ্ঠন বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা ধ্বংস করছে’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বক্তারা এ মন্তব্য করছেন। সভায় ড. কামাল হোসেন বলেন, শুভাকাঙ্খী হিসেবে বলবো সময় থাকতে দেশত্যাগ করুন। নইলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া ‘সর্বগ্রাসী লুণ্ঠন বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা ধ্বংস করছে’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আহ্বায়ক সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিক উল্লাহর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, গণফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ.ব.ম মোস্তবা আমীন যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুদা মিলু চৌধুরী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তৃতায় ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের মালিক জনগণ। সেই জনগণই আজ বড় অসহায়। হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি ও পাচার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু জনগণ কিছু করতে পারছে না। সবাই এত কথা বলছে, কোনা কিছুই তাদের গায়ে লাগে না। এই গায়ে না লাগানো এমন পর্যায়ে চলে গেছে, সেখান থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ওরা যতোই ভাব করুক যে, কিছুই গায়ে লাগছে না তাদের শুভাকাঙ্খী হিসাবে বলবো ভাগ্য ভালো থাকলে সময় থাকতে দেশত্যাগ করুন। নইলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।
ড. কামাল আরো বলেন, সংবিধানে বলা আছে- জনগণের পক্ষে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। ঘরে-ঘরে, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে বলতে হবে, আগামীতে এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করবো যারা হবেন আমাদের সত্যিকারের প্রতিনিধি। যারা টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনেন তারা যেন আমাদের প্রতিনিধি না হন। যারা কোটি কোটি টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনেন ও বিনা ভোটে এমপি হন তারা আমাদের প্রতিনিধি হতে পারেন না।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনও মুলতবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে এরা ১০ শতাংশ আসন পাবে না। নির্বাচন হলে তিন নম্বরী কায়দায় কীভাবে সিংহাসন ধরে রাখা যায়,  সে চিন্তা করবেন না। আপনারা এই অপরাধটি করবেন না।’ তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনের ওপর ভরসা করতে পারছে না। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত করা তার প্রমাণ। গাজীপুরে সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেল, অথচ নির্বাচন কমিশন কিছুই জানে না।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতা জোর করে ধরে রাখা একটি গুরুতর অপরাধ। এই ভুল করবেন না।’ সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এগুলো করবেন না। অনেক দেশে এগুলো করে কেউ পার পায়নি। অনেক সংসদ সদস্য আছেন, যাঁদের সৎভাবে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। যে কারণে ১৫৩টি আসনে বিনা ভোটে জয়ের ঘটনা ঘটে।
 দেশের টাকা লুটপাটের বিষয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে। কাউকে ধরা হচ্ছে না, কাউকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে না। চার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনায়ও কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি।
ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, জনসভা হচ্ছে না কেন? কারণ জনসভা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ সময় তিনি আগামী ঈদের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি সবাইকে নিয়ে একটি জনসভা করার আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলা, জেলায় নিজেদের প্রতিনিধি মনোনয়নের বিষয়টি শেষ করার আহ্বান জানান তিনি। এই প্রতিনিধিরা সংসদে সবার প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে তিনি জানান।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশে ভেজাল গণতন্ত্র আর ধাপ্পাবাজি চলছে। দেশে গণতন্ত্রের চর্চা ফিরিয়ে আনতে হলে ড. কামাল হোসেনের মতো মানুষদের সামনে আনতে হবে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে বিবেকবান লোকদের দরকার। আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে যে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে ড. কামালের প্রতি আহ্বান জানান।
সুলতান মুহাম্মদ মনসুর বলেন, বিচারক, সাংবাদিক সবাই আজ চাপের মুখে। রাজনীতিকরা আছে মহাচাপে। বিনাভোটের এই সরকার মহাজোটের নয়, এটা মহালুটপাটের সরকার।
অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমাদের স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সবই আজ লুণ্ঠিত। নিরবে আমরা সবকিছু হজম করছি। একশ্রেণীর লোক মহাআনন্দে লুট করছে। মুক্তিযুদ্ধে চেয়েছিলাম ন্যায়, সুশাসন ও বহুদলীয় গণতন্ত্র। আজ চলছে অন্যায়, কুশাসন ও একদলীয় শাসনব্যবস্থা।
আ.ব.ম মোস্তবা আমীন বলেন, সর্বক্ষেত্রে আজ সীমাহীন লুটপাট। যারা লুট করছে তারাও এটা স্বীকার করে। উন্নয়নের কথা বলে ধাপ্পাবাজি করা হচ্ছে, উন্নয়ন হয়েছে ব্যক্তিবিশেষের আর দুর্নীতির।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে সাভারের ছয়টি মৌজাকে (শিমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বাড়ী, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, পানিশাইল ও ডোমনাগ) গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। কিন্তু তা নিষ্পত্তি না হওয়ায় পুনরায় রিট দায়ের করা হলে রোববার আদালত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন।
গাজীপুর সিটির সীমানা নিয়ে ঢাকার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম আজাহারুল ইসলাম সুরুজ এ রিট আবেদন করেন। রোববার ওই রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তিন মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ