ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আজ পঁচিশে বৈশাখ

স্টাফ রিপোর্টার : আজ পঁচিশে বৈশাখ মঙ্গলবার। বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্র কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। তিনি ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রতি বছরের মতো নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নোবেল বিজয়ী এই বাঙালি কবিকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত। বহুমাত্রিক সাহিত্যপুরুষ রবীন্দ্রনাথের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথের জন্ম ভারতে হলেও পূর্বপুরুষের আদি নিবাস খুলনার রূপসা উপজেলার পিঠাভোগ গ্রামে। নানা বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ি ফুলতলার দক্ষিণডিহি। এছাড়া পিতার জমিদারি দেখা ও নিমগ্ন কাব্যচর্চার জন্য কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, নওগাঁর পতিসর ও সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গড়ে তুলেছিলেন দ্বিতীয় আলয়।
সাহিত্য সমালোচকরা বলে থাকেন, বাংলাদেশে না এলে রবীন্দ্রনাথ ‘পূর্ণ স্বরূপ’ পেতেন না, থেকে যেতেন একাংশ এক কবি। তার অন্যতম অমরকীর্তি ‘ সোনারতরী’ কাব্যগ্রন্থের সূচনাতে নিজেই লিখেছেন, “বাংলাদেশের নদীতে, গ্রামে গ্রামে তখন ঘুরে বেড়াচ্ছি। এর নতুনত্ব চলন্ত বৈচিত্র্যের নতুনত্ব।... ক্ষণে ক্ষণে যতটুকু গোচরে এসেছিল তার চেয়ে অনেকখানি প্রবেশ করেছিল মনের অন্দরমহলে আপন বিচিত্র রূপ নিয়ে।” রবি কবি ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের বাইশে শ্রাবণ জোড়াসাঁকোর বাড়িতে বিবর্ণ অস্তরাগ ছড়িয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন।
জন্মের ১৫৫ বছর পেরিয়ে এবং মৃত্যুর প্রায় ৭৫ বছর পরেও রবীন্দ্রনাথ এখনও কেন প্রাসঙ্গিক-এ ব্যাপারে রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বাঙালির এই কবি এমন এক সময় জন্মগ্রহণ করেছিলেন যখন রাষ্ট্র ছিল পরাধীন, চিন্তা ছিল প্রথাগত ও অনগ্রসর, বাংলাভাষা ছিল অপরিণত। রবীন্দ্রনাথ একাধারে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিশ্বমানে উন্নীত করার পাশাপাশি জাতির চিন্তা জগতে আলোড়ন ঘটিয়েছেন।
রবীন্দ্রনাথ প্রথম নোবেল বিজয়ী বাঙ্গালি কবি । ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলী কাব্য গ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা/আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও প্রেরণা যুগিয়েছিল তার অনেক গান।
কর্মসূচি : নওগাঁ সংবাদদাতা জানায়, কবিগুরুর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও কবিগুরুর নিজস্ব জমিদারী তাঁর স্মৃতি বিজড়িত নওগাঁর পতিসর কাচারি বাড়ি প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী নানা উৎসবের। প্রতি বছরই পতিসরে নামে রবীন্দ্রভক্তের ঢল। পরিণত হয় মহা মিলনমেলায়। সরকারিভাবে একদিনের কর্মসূিচ নিলেও এ মিলনমেলা চলে প্রায় সপ্তাহ জুড়ে। দূর-দূরান্ত থেকে কবিভক্তরা ছুটে আসেন তাদের প্রিয় কবির পতিসর কাচারি বাড়ি প্রাঙ্গণে। একে অপরের সান্নিধ্যে এসে স্মৃতিচারণে লিপ্ত হন কবিভক্তরা।
কবিগুরুর নিজস্ব জমিদারি এলাকা কালিগ্রাম পরগনার সদর দফতর এই পতিসর। আর এই পতিসর নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মনিয়ারি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ মাধুর্যঘেরা কবির স্মৃতিবিজড়িত পতিসর আজও সাহিত্যের অঙ্গণে স্বাড়ম্বরে বিরাজ করে। কবির যখন ভরা যৌবন এবং কাব্য সৃষ্টির প্রকৃষ্ট সময়, তখন তিনি বিরাজ করেছেন এই পতিসরে। প্রতি বছর কবির জন্মদিনে দূর-দূরান্ত থেকে কবি ভক্তরা ছুটে আসেন। তাদের প্রিয় কবির স্মৃতি বিজড়িত পতিসর কাচারি বাড়ি প্রাঙ্গনে যেন কবিভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৩৬ কিলোমিটার ও আত্রাই উপজেলা সদর হয়ে ৫৫ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা অপ্রসস্ত পাকা সড়ক চলে গেছে নিঝুম-নিস্তব্ধ-নিভৃত পল্লীতে, কবিগুরুর কাচারি বাড়ি জেলার আত্রাই উপজেলার মনিয়ারি ইউনিয়নের পতিসর গ্রামে। নওগাঁ এবং আত্রাই থেকে মাইক্রোবাস, বাস, সিএনজি, টেম্পু, চার্জার, ভটভটিসহ বিভিন্ন যানবাহনযোগে পতিসরে যাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোখলেছুর রহমান বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ২৫ বৈশাখ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে।
এদিকে রবীন্দ্রসাহিত্যের গবেষণায় সামগ্রিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত রবীন্দ্র পুরস্কার পেলেন আবুল মোমেন  এবং শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী।
গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলা একাডেমি আবুল মোমেন  এবং শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরীর রবীন্দ্র পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রবীন্দ্র পুরস্কার প্রাপ্ত আবুল মোমেন হলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। তিনি দীর্ঘদিন যাবত এদেশের প্রধান প্রধান পত্রিকাগুলোর সাথে পাশাপাশি চট্টগ্রাম কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
অন্যদিকে শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী রবীন্দ্রনাথের গানের অমিয় ধারায় নিজেকে সিক্ত করার পাশাপাশি নতুনদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তার সঙ্গীতলব্ধ জ্ঞান। রবীন্দ্রনাথের গানই তার জীবনের এক আরাধ্য সাধনা
বাংলা একাডেমি প্রণীত রবীন্দ্র পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-শিল্পী কলিম শরাফী এবং অধ্যাপক ড. সন্জীদা খাতুন (২০১০), আহমদ রফিক এবং শিল্পী অজিত রায় (২০১১), অধ্যাপক আনিসুর রহমান, শিল্পী ফাহমিদা খাতুন এবং শিল্পী ইফফাত আরা দেওয়ান (২০১২), অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী, শিল্পী পাপিয়া সারোয়ার (২০১৩), মনজুরে মওলা, শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা (২০১৪), অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা, সাদী মহম্মদ (২০১৫), সৈয়দ আকরম হোসেন, শিল্পী তপন মাহমুদ (২০১৬) অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ এবং মিতা হক (২০১৭)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ