ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নথি না আসায় বিএনপি প্রার্থী হাসান সরকারের আপিলের শুনানী হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুর সিটি নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দীন সরকারের আপিলের আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি হাইকোর্টের আদেশের নথি না আসায়। আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে আশা করছেন বিএনপি নেতার আইনজীবী।
গত রোববার উচ্চ আদালতের এক আদেশে ভোট স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর গতকাল সোমবার দুপুরে এর বিরুদ্ধে  চেম্বার জজ আদালতে আপিল করেন হাসান উদ্দিন সরকার।
বেলা তিনটায় বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর এজলাসে শুনানির অপেক্ষায় ছিলেন তার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং অন্যরা। কিন্তু ভোট স্থগিত করে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চের আদেশের নথি না পাওয়ায় শুনানি আর হয়নি।
এর আগে গত রোববার ঢাকার জেলার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজের এর আবেদনে সীমানা জটিলতার কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুলও জারি করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত। এখানে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। গত ৪ মার্চ সিটি করপোরেশনের সীমানা নিয়ে গেজেট জারি হয়। যেখানে শিমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বাড়ী, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, পানিশাইল ও ডোমনাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রিটের পক্ষে আইনজীবী জানান, ২০১৩ সালে এ ছয়টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তখন বিষয়টি নিয়ে এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহ্য না করায় হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত আবেদনটি পুনর্বিবেচনা করতে নির্দেশ দেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে এ ছয়টি মৌজা শিমুলিয়ার মধ্যেই ছিল। নির্বাচনে আজহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এখন আবার এ ছয় মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেহেতু তিনি ছয়টি মৌজার ভোটেও নির্বাচিত হয়েছিলেন, তাই এ ছয়টি মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত ওই আদেশ দেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচন ১৫ মে হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে বিএনপি প্রার্থী হাসানের আপিল করার পর আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহাঙ্গীরও আপিলের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত তিনি কোন ফাইল করেননি।
হাইকোর্টে জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদেরকে বলেন, গাজীপুর সিটির উন্নয়নের স্বার্থে আমরা নির্বাচন চাই। আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই। নির্বাচনের স্বার্থে আমি সকলের কাছে সহযোগিতা চাই। এজন্য আমি হাইকোর্টেও এসেছি। যে কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনটা যেন হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ