ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশের লাখো কোটি মানুষ বেগম জিয়ার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত -নজরুল ইসলাম খান

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির উদ্যোগে এডভোকেট আবদুল মোবিনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের মানুষ মা সম্বোধন করেছে। মায়ের জন্য এ দেশের লাখো কোটি মানুষ জীবন দিতেও প্রস্তুত। কিন্তু খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। এতে মানুষ খুশি হয়েছে। আমাদের শক্ত আন্দোলন করতে বলছেন। আমরা দেশের জনগণের মতামতকে অবশ্যই প্রাধান্য দেবো।

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির মরহুম চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুল মোবিনের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনপিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শওকত হোসেন চৌধুরী জীবন, শওকত আমিন, মক্কা গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এম এ রশিদ প্রমুখ।
নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ৮ মে সুপ্রিম কোর্টে খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি হবে। সেদিন জামিন হলেও ওনার মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ অন্য এক বিচারক তাকে শুনানির জন্য তারিখ দিয়েছে ১৫ মে। অর্থাৎ ১৫ মে’র আগে তার জামিন হবে না। ভ্রান্ত ও বানানো নথিপত্র দিয়ে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে। হাইকোর্ট বেগম জিয়াকে জামিন দিয়েছে। আর সেই জামিন ঠিক মতো দেয়া হল কিনা সেটা দেখার জন্য সুপ্রিম কোর্ট লম্বা ডেট ঠিক করল। এসবের কারণ কী, কী চান আপনারা? আপনারা কি চান খালেদা জিয়া পঙ্গু হয়ে যাক, দৃষ্টিহীন হয়ে যাক?
তিনি বলেন, সরকার চায় না বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হোক। এ কারণে হাইকোর্ট জামিন দিলে সুপ্রিম কোর্ট আটকে দেয়। এই সরকার নানা কৌশলে খালেদা জিয়াকে জেলে আটকে রাখার চেষ্টা করতে পারে। আমরা একটা শোন অ্যারেস্টের জামিন করালাম, সরকার চাইলে তাকে আরেক মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখাতে পারে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা উত্তর ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন স্থগিত হওয়া একই সূত্রে গাথা। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার কোন আগ্রহ সরকারের নেই। আর সে জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত করেছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জেতার কোন সুযোগ নেই দেখেই তা স্থগিত করা হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় আমাদের নেতারা এখন খুলনায় যাবেন। মনুষের মধ্যে এখন গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এখন হয়তো এই জোয়ার দেখে পরাজয়ের ভয়ে খুলনার নির্বাচনও স্থগিত করতে পারে। সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়ায় সরকার নিজেদের পরাজয় দেখে নির্বাচন স্থগিত করেছে। এখন দেশের মানুষ ভাবছে বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সেটাও স্থগিত হয়ে যাবে কিনা।
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বড় খবর হল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত হয়ে গেছে। স্থগিতের জন্য রিট করেছেন আওয়ামী লীগেরই একজন লোক। আর এই রিটের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কোনো জোরালো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং তারা সহযোগিতা করেছে যেন রিট গৃহীত হয় এবং নির্বাচন স্থগিত হয়। আওয়ামী লীগ যেটা চায় বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিক সেটা করে দিচ্ছেন। আর আমাদের সিদ্ধান্ত দিতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ