ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাংবাদিকরা জেগে উঠলে ফ্যাসিবাদী সরকার মাথা নত করতে বাধ্য হবে -মাহমুদুর রহমান মান্না

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর ও আমাদের গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সত্য সংবাদ প্রকাশ করলেই সরকারের রোষাণলে পড়তে হচ্ছে সাংবাদিকদের। স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। সত্য প্রকাশে বাধা দেয়া হচ্ছে। হত্যা, খুন, গুম ও নির্যাতন থেকে সাংবাদিকরাও রেহাই পাচ্ছে না। কেননা সরকার জানে তাদের অন্যায় অপকর্মের বিরুদ্ধে যদি সাংবাদিকদের কলম গর্জে ওঠে তাহলে সরকারের গদি নড়ে যাবে। সাংবাদিকরা জেগে উঠলে ফ্যাসিবাদী সরকার মাথা নত করতে বাধ্য হবে। দেশের এই সংকটকালে গণতন্ত্র রক্ষার্থে ভয়-ভীতির উর্ধ্বে উঠে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের সৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) আয়োজিত ‘স্বাধীনতার ৪৭ বছর ও আমাদের গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। সংগঠনের সহ-সভাপতি এস এম সামছুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় নির্যাতিত সাংবাদিকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তৃতা করেন। 
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার খুন-গুম, হত্যা-নির্যাতন, জেল-জরিমানার মাধ্যমে দেশের মানুষকে ভয় দেখিয়ে ঘরের ভিতর আটকে রাখতে চাই। সরকার এমন ভয় দেখাতে চাই যেন কেউ ঘর থেকে বের না হয়। এ কারণে খুন-গুম, হত্যা-নির্যাতন, জেল-জরিমানার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মামলায় সাজা দিয়ে কারা কারাগারের স্ব্যাতস্বেতে জায়গায় রাখা হয়েছে। মানুষের মনে যেন ভয় ঢুকে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থা তাহলে আমারদের কি হবে। ভয় পাওয়া এ সব মানুষগুলোকে দেশের মুক্তবাতাশে চলাফেরা করার সাহস যোগাতে সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে জাগিয়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে নির্বাচনের নামে ফোরটোয়েন্টি করা হচ্ছে। নিজেদের পরাজয়ের কথা ভেবে সরকার রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং চার মাসের মাথায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত করলো।  দেশে এখন সকালের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দরকার। গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহীতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে সাংবাদিকদের লেখার অধিকারও প্রতিষ্ঠা হবে না। 
মান্না বলেন, বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের সময় দেশের বিচার ব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো ছিল। এরপর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা ভয়-ভীতির মাধ্যমে তাদের কায়েমী স্বার্থ চরিতার্থ করেছে। ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠির সম্পদ বাড়াতে ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদেরও ব্যবহার করেছে। কথা না শুনলে নেমে এসেছে নির্যাতন। যে দেশে গাছের সাথে বেঁধে মানুষ পিটানো হয় সেটা আর সভ্য দেশ থাকতে পারে না। কোনো বিবেচনায়ই বাংলাদেশকে এখন গণতান্ত্রিক দেশ বলা যেতে পারে না। আগামীতে নিজের মতো করে বাঁচা যাবে কিনা সেটাও এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতে রাত শেষ হয়ে দিবা স্বপ্নে রুপ নিয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের সাথে চুক্তি করলে অর্থ আত্মসাত করা যাবে না এ জন্য তাদের সাথে চুক্তিতে যায়নি সরকার। পদ্মা সেতু নিমার্ণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকা। এখন তা বাড়তে বাড়তে ৩০ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। আল্লাহ তায়ালায় ভালো জানে এ সরকার আরও কত বাড়াবে। বিশ্ব ব্যাংকের সাথে চুক্তি হলে এ সুযোগ থাকতো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ