ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এত দাম্ভিকতা ভালো নয়

পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়লসকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য আইনজীবী কোহেনের অর্থ দেয়া এবং পরে তা পরিশোধের বিষয়টি অবশেষে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ড্যানিয়েলসকে দেয়া অর্থ ‘ট্রাম্প নিজের আইনজীবী কোহেনকে ব্যক্তিগতভাবে পরিশোধ করেছিলেন’ বলে সাবেক নিউইয়র্ক সিটি মেয়র রুডি গিউলিয়ানি জানানোর পর এবার ট্রাম্পও বললেন, ওই অর্থ তিনি শোধ করেছেন এবং তা বৈধভাবেই দেয়া হয়েছে।
বিবিসির খবরে আরো বলা হয়, ট্রাম্প বলেছেন- ‘ওই অর্থ প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের তহবিল থেকে দেয়া হয়নি।’ ফলে প্রচারণার তহবিল যে তসরুপ হয়নি, সেটাই মূলত বলতে চেয়েছেন ট্রাম্প। ড্যানিয়েলসকে অর্থ দেয়া নিয়ে এই প্রথম সরাসরি কথা বললেন ট্রাম্প। যদিও ওই পর্নো তারকার সাথে কোনো সম্পর্ক থাকার কথা এখনো জোর গলায় অস্বীকার করছেন তিনি।
এদিকে স্টর্মি ড্যানিয়েলসের দাবি, ২০০৬ সালে তার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ড্যানিয়েলস যাতে বিষয়টি নিয়ে মুখ না খোলেন সে জন্যই ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাসখানেক আগে ট্রাম্প তার আইনজীবী মাইকেল কোহেনের মাধ্যমে ড্যানিয়েলসকে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার দেন। কোহেন এরই মধ্যে ড্যানিয়েলসকে ওই অর্থ দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। আর ট্রাম্প এ অর্থই পরে কোহেনকে পরিশোধ করেছেন বলে ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তাঁর আইনি টিমের নতুন সদস্য গিউলিয়ানি। ট্রাম্প এ ধরনের কোনো অর্থ লেনদেনের ব্যাপারে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করে আসছিলেন এতদিন। অথচ ৩ মে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তিনটি টুইটে ড্যানিয়েলসকে দেয়া অর্থ পরিশোধ এবং তার সাথে গোপনীয়তা চুক্তি করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
ভাবতে অবাক লাগে, একজন প্রেসিডেন্ট এত সব অনৈতিক কাজ করেন কেমন করে? তিনি আবার কোনো সাধারণ দেশের নন, বর্তমান সভ্যতার শ্রেষ্ঠদেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ট্রাম্প একজন পর্নো তারকার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ও তার সাথে অর্থ লেনদেনের ব্যাপারে মিথ্যা বলার দায়ে অভিযুক্ত হয়ে আছেন। দু’টি অভিযোগই মারাত্মক এবং বিবেকবান যেকোনো মানুষের জন্যই লজ্জাকর। অথচ ট্রাম্পের হাবভাবে তেমন কোনো লক্ষণ নেই। বরং তিনি মাথা উঁচু করেই কথা বলে যাচ্ছেন। এমন বৈশিষ্ট্যের মানুষদের জন্য সংশোধন হওয়া বেশ কঠিন ব্যাপার। তবে সংশোধন হলে ভালো হয়। কারণ বড় বড় দেশের প্রেসিডেন্টদের ভুল বৈশিষ্ট্য শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের জন্যই নয়, পৃথিবীর জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ