ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংস্কার নেই : যান চলাচলে চরম দুর্ভোগ

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বর্তমান চিত্র -সংগ্রাম

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া): প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ করা হলেও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে গর্ত ও খানাখন্দ যেন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। গত দুই অর্থ বছরে দুই দফায় আট কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ করা হলেও বর্তমানে এই সড়ক যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগোযোগের একমাত্র এই মহাসড়কটি এখন সিমাহীন দুর্ভোগের কারণ পরিণত হয়েছে। এতে চরমভাবে ক্ষুব্ধ যান শ্রমিক ও যাত্রীরা।
সূত্র মতে, কুষ্টিয়ার মজমপুর রেলগেট থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার অংশে বড় ও ছোট পাথর দিয়ে কার্পেটিং করার জন্য সাত কোটি আট লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। কাজের দায়িত্ব পায় সিলেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল এন্টারপ্রাইজ। কাজ শেষ হয় ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। এর আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছিল সড়ক বিভাগ। এই দুই বারই সংস্কার কাজ চলকালীন অভিযোগ উঠেছিল যথাযথ ভাবে কাজটি করা হচ্ছে না। নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় বিটুমিন না দিয়েই দায়সারা কার্পেটিং করার অভিযোগও ওঠে সে সময়।
ফলশ্রুতিতে এ বছর বর্ষা শুরুর আগেই সৃষ্ট খানাখন্দে বর্ষার পানিতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৬০ কি.মি. রাস্তার অধিকাংশ স্থানে পাথর উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে পাথর। এতে যান চলাচলে সমস্যার পাশাপাশি দূর্ঘটনাও ঘটছে।
এলাকাবাসী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা বলেন, গোজামিল দিয়ে সংস্কার করায় কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বৃষ্টির পানিতেই রাস্তার এই বেহাল অবস্থা। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগোযোগের একমাত্র এই মহাসড়ক জুড়ে গর্ত ও খানাখন্দ হওয়ায় ভোগান্তির শেষ নেই। অবিলম্বে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তারা।
বিষয়টি স্বীকার করে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) সুমন বলেন, সড়কের অবস্থা অনেক খারাপ। এতে দূর্ঘটনা, যানবাহন বিকলসহ নানা বিড়ম্বনায় আমাদেরকেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই এটি সাধারণ চিত্রে রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে সড়ক ও জনপথ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার কথা বলতে রাজি হননি। তবে সড়কে যখন বড় বড় গর্ত আর নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা তখনও সওজের কুষ্টিয়ার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, অনিয়ম হয়নি, কাজের মান ঠিকই আছে। সওজের ঢাকার নীতি নির্ধারকদের সঠিক সিদ্ধান্ত না নেয়ার কারণেই প্রতিবছর সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ