ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারিভাবে খাদ্য ক্রয় শুরু না হওয়ায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষকরা

আগৈলঝাড়া: বর্ষায় ক্ষেতে পানি জমায় শ্রমিক সংকটের কারণে পাঁকা ধান ঘরে তুলতে পারছে না কৃষকেরা

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা: সরকারীভাবে কৃষক পর্যায়ে বোরো মৌসুমে ধান-চাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত থাকলেও বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বাম্পার ফলনের পরেও খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ওই এলাকার চাষীদের কাছ থেকে কোন ধান না কেনার সিদ্ধান্ত সরকারীভাবে উপেক্ষিত হওয়ায় চরম হতাশ হয়ে পরেছেন এ জনপদের চাষীরা। বৈরী আবহাওয়া, মিল মালিক সিন্ডিকেটের হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিক সংকট, দাদনের টাকা পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। খাদ্য অধিদপ্তর থেকে বরিশাল জেলার অন্যতম কৃষি প্রধান এলাকা আগৈলঝাড়া উপজেলায় কোন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত দেয়নি খাদ্য মন্ত্রণালয়। শুধুমাত্র মিল মালিকদের কাছ থেকে সরকারী ভাবে চাল  ক্রয়ের চিঠি পেয়েছেন উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর। ফলে ৭শ টাকা দরে স্থানীয় বাজার মূল্যে ধান বিক্রি করে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কৃষক। সরকারীভাবে কোন ধান না ক্রয়ের সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় ধানের বাজার মিল মালিক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবার আশংকায় উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকেরা। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দ্বায়িত্বে থাকা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক শাহাদাৎ হোসেন জানান, সরকারীভাবে উপজেলায় ৩১৮ মেট্টিক টন চাল ক্রয়ের চিঠি পেয়েছেন তারা।
 ওই চিঠিতে কোন ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত তারা পাননি। তিনি আরও বলেন, পূর্বের ৪ টি লাইসেন্সকৃত মিলসহ এবার নতুন ২ টি মিলের সাথে চাল ক্রয়ের চুক্তি করবেন তারা। বেশিরভাগ প্রান্তিক চাষী স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে মৌসুমের শুরুতে ১ হাজার টাকায় ১ মন ধান ও নগদ ১ হাজার টাকা ফেরত দেয়ার বিনিময়ে দাদন নিয়ে বেশী ফলনের আশায় জমি চাষাবাদ করেছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।
কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদিত ফসলের বাজার মূল্য এক শ্রেনীর মুনাফালোভি ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করলেও সরকার এখন পর্যন্ত বাজার মনিটরিং না করায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহমেদ রাসেল চাষী পর্যায় থেকে ধান না কিনে চাল ক্রয়ের সরকারী সিদ্ধান্তের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চাল ক্রয় এখনও শুরু হয়নি।
 জেলা পর্যায়ে সভা শেষে আগামী সপ্তাহে উপজেলায় সভা করে চাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ