ঢাকা, মঙ্গলবার 8 May 2018, ২৫ বৈশাখ ১৪২৫, ২১ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বানের পানিতে বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশংকা

সিদ্দিকুর রহমান মাসুম, হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের বাহুবলে বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হলেও ভারী বৃষ্টিপাত ও বজ্রপাত আতংকে শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটায় দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। যেকোনো সময় বানের পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। এখনোও উপজেলার বিভিন্ন হাওরজুড়ে সোনালী ধানের মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে আছে। শ্রমিক সংকটে সেই ধান ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষকরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক হাওড়গুলোর কোন রকম পরিকল্পনা না থাকার কারণে কয়েকদিনের বৃষ্টির পানি ধানী জমিতে পানির পরিমাণ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টির সাথে থেমে থেমে কাল বৈশাখী ঝড়ও হচ্ছে আর সেই সাথে বজ্রপাতেরও ঘটনা ঘটছে। প্রতিদিনই জেলার কোন না কোন জায়গায় বজ্রপাতে ধান কাটা শ্রমিকের হতাহতের খবর শোনা যাচ্ছে। আর এর ফলে শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতংক। এই প্রতিকুল আবহাওয়ায় কৃষকরা শ্রমিকদের বেশি টাকা দিয়েও ধান কাটাতে পারছেন না। এ নিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন হাওর অঞ্চলের কৃষকরা। এখন বৈশাখ মাসের ২২ দিন পেরিয়ে গেলেও আগাম জাতের ধান ব্রি-২৮ এখনও পুরোপুরি কাটা শেষ হয়নি। কৃষকদের দাবি এখনও ৫০ শতাংশের বেশি ধান মাঠে রয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় মোট প্রায় ৮ হাজার একর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার একর পরিমাণ হাওড় এলাকায় ও বাকি প্রায় ৩ হাজার একর পরিমাণ সমতল এলাকায়। কৃষি অফিসের দাবি হাওড় এলাকার ইতিমধ্যে ৯০ ভাগ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। 
উপজেলার স্নানঘাট ইউনিয়নের রুয়াইল হাওড় এলাকার কৃষক শ্রীকান্ত বাবু বলেন, যে হারে বৃষ্টি আর বজ্রপাত হচ্ছে সেই হিসেবে শিলা বৃষ্টি পড়ে তাহলে আর এই সোনালী ফসল ঘরে নেওয়া যাবেনা। খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুই মন ধান দিয়েও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছেনা।
একা একা হাওড় থেকে এই ধান কেটে বাড়িতে আনা সম্ভবনা। যে হারে মাঠে পানি বাড়ছে  আরো দু-একদিন এরকম বৃষ্টি হয় তাহলে আর শ্রমিকও খোঁজতে হবেনা। 
হীরামন সরকার নামের এক কৃষক জানান, আমার ৬ একর জমির মধ্যে সাড়ে ৩ একর জায়গা পরিমাণ ধান কাটা হয়েছে। বাকি জমির ধান শ্রমিকের অভাবে কাটতে পারছিনা। বজ্রপাতের কারণে শ্রমিকরা মাঠে যেতে চায় না। ধানগুলি পাকতে দেরি হওয়ায় আমি পড়েছি চরম বিপদে। সামান্য পরিমাণ জমির ধান কেটে ঘরে তুলেছি। গত শুক্রবারে এক শ্রমিক বজ্রপাতে মারা যাওয়ার কারণে বাহিরের অনেক শ্রমিকরাই ধান কাটা বাদ দিয়ে তাদের নিজ এলাকায় চলে গেছে। তিনি হতাশ হয়ে বলেন আবহাওয়ার যে অবস্থা জানিনা বাকি ধানগুলো ঘরে তুলতে পারবো কি না।
বাহুবল উপজেলার উপ-সহকারি উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. সেলিম আহমেদ শনিবার হাওড়গুলো পরিদর্শন করে এ প্রতিনিধিকে জানান, মাঠের পাকা ধান কাটার উপযুক্ত সময় পার হয়ে যাচ্ছে। হাওড় এলাকার বর্তমানে প্রধান সমস্যা হলো শ্রমিক সংকট। নিচু জমিগুলোতে পানি আসলেও ধান কাটা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। দুই-চারদিন বৃষ্টি না হলে সব ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে আশা করছি। এখানকার হাওড়গুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন রকম পরিকল্পনা না থাকার কারণে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সিংড়া (নাটোর)
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে সিংড়ার চৌগ্রাম,তাজপুর,ইটালি,ডাহিয়া বিলে প্রবেশ করেছে। এতে উপজেলার জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ৫০ হেক্টর জমির ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েকদিনের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার আড়াই হাজার হেক্টর জমির ধান শুয়ে পড়েছে। এদিকে শ্রমিক সংকটে বিনষ্ট হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে সিংড়া উপজেলার আত্রাই এবং নাগর নদীর পানি বেড়েছে। চৌগ্রাম,তাজপুর,ইটালি ও ডাহিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি বিলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে শেষ সময়ে এসে ফসল ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে কৃষকরা। এবার উপজেলায় ৩৮ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতিমধ্যে শতকরা ৬৫ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।  
উত্তর দমদমা গ্রামের কৃষক শমসের জানান, ২৫বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলাম। হঠাৎ টানা বর্ষণ ও ঢলের পানিতে ফসল ডুবে গেছে। শ্রমিকদের অধিক টাকা দিয়ে ধান কেটে নিতে হচ্ছে। তারপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ