ঢাকা, বুধবার 9 May 2018, ২৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী ডেঞ্জারাস ম্যাসেজ আনলিমিটেড!

এম. কে. দোলন বিশ্বাস : [দুই]
ঘুষ বৈধর জনক : ‘ঘুষ দেয়া-নেয়া অবৈধ নয়’ বলে সামাজিক ও ধর্মীয় মহলে তুমুল বিতর্ক তোলে নিজেকে ‘ঘুষ বৈধর জনক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন আ.লীগের প্রবীণ নেতা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘যা কোনো কাজের গতি আনে, আমি মনে করি তা কোনো অবৈধ বিষয় নয়। উন্নত দেশগুলোয় একে বৈধ করে দেয়া হয়েছে ভিন্ন নামে। আমাদের দেশে কারো কাজ দ্রুত করে দিয়ে উপহার নিলে তা অবৈধ মনে করা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমি তা অবৈধ মনে করি না।’
জনাব মুহিতের ‘ঘুষ অবৈধ নয়’ এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হলে আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি এ ধরনের মন্তব্য করেননি।’ অর্থমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর দেশের বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও শীর্ষ ওলামায়ে কেরামগণ প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অর্থমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতিও দেন। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকেও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ‘জয় পাকিস্তান’ এখন অপরাধ : আ’লীগেরই ঘরের লোক মুক্তিযুদ্ধের উপ-অধিনায়ক সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের বিদায়ী সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী এ কে খন্দকার বীরোত্তম তার লেখা ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ শীর্ষক আত্মজৈবনিক গ্রন্থ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ চরম বেকায়দায় পড়ে। আওয়ামী লীগ বেজায় ক্ষুব্ধ হয় এ কে খন্দকারের ওপর।
বইটির ৩২ নং পৃষ্ঠায় এ কে খন্দকার লিখেছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের শেষ শব্দ ছিল ‘জয় পাকিস্তান’। এছাড়া এ কে খন্দকার তার বন্ধু মঈদুল হাসানের বরাত দিয়ে লিখেছেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতার একটি ঘোষণাপত্র লিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তা পাঠ করতে বললেও তিনি রাজি হননি। উল্টো তিনি বলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে একটা দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের বিচার করতে পারবে।’ এ কথা শুনে তাজউদ্দীন আহমদ ক্ষিপ্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুর বাসা থেকে বেরিয়ে যান।’
এ ছাড়া ‘মুজিব বাহিনী ভারতীয়দের কাছ থেকে সম্মানী পেতো’, ‘মুজিব বাহিনী অস্থায়ী সরকার ও মুক্তিবাহিনীকে অবজ্ঞা করত’ মুক্তিযুদ্ধকালীন এমন আরো কিছু তথ্য তিনি তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন। এ কে খন্দকারের ওই বই নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে তিরস্কার, গালাগালি ও সমালোচনার বন্যা বয়ে যায়। সংসদ অধিবেশন থেকে শুরু করে রাজপথ, আলোচনার টেবিল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রায় সবখানেই দলের বাঘা বাঘা নেতা থেকে পাতি নেতা পর্যন্ত এ কে খন্দকারের বিরুদ্ধে বেমানান মন্তব্য ছুঁড়ে দেন। দলের নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ বইটি অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবি তোলেন। ইতিহাস বিকৃতি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে সরকারের প্রভাবশালীরা তাঁকে গ্রেফতারেরও দাবি জানান। আওয়ামী লীগের একজন নেতা তাঁকে ‘কুলাঙ্গার’ এবং আরেকজন নেতা ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসাবে আখ্যাও দেন।
মুজিববাহিনীর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু মুক্তিযোদ্ধারা : প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আ’লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এবং দলটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জোহরা তাজউদ্দীনের কন্যা শারমিন আহমদ তাঁর রচিত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থেও আওয়ামী লীগের সাজানো ইতিহাসকে তছনছ করে দেন। তাঁর ওই বইয়ের বিবরণ নিয়ে তিরস্কার করতে ছাড়েননি দলের অনেক নেতা।
‘তাজউদ্দীন : নেতা ও পিতা’ শীর্ষক গ্রন্থে শারমিন আহমদ উল্লেখ করেন, ‘পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আব্বু (তাজউদ্দীন আহমদ) স্বাধীনতার ঘোষণা লিখে নিয়ে এসেছিলেন এবং টেপ রেকর্ডারও নিয়ে এসেছিলেন। টেপে বিবৃতি দিতে বা স্বাধীনতার ঘোষণার স্বাক্ষর প্রদানে মুজিব কাকু অস্বীকৃতি জানান। কথা ছিল যে, মুজিব কাকুর স্বাক্ষরকৃত স্বাধীনতার ঘোষণা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমানে শেরাটন) অবস্থিত বিদেশী সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে এবং তাঁরা আন্ডারগ্রাউন্ডে গিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালনা করবেন। আব্বু বলেছিলেন, ‘মুজিব ভাই, এটা আপনাকে বলে যেতেই হবে, কারণ কালকে কী হবে, আমাদের সবাইকে যদি গ্রেফতার করে নিয়ে যায়, তাহলে কেউ জানবে না, কী তাদের করতে হবে। এই ঘোষণা কোনো-না-কোনো জায়গা থেকে কপি করে আমরা জানাব। যদি বেতার মারফত কিছু করা যায়, তাহলে সেটাই করা হবে।’ মুজিব কাকু তখন উত্তর দিয়েছিলেন ‘এটা আমার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে থাকবে। এর জন্য পাকিস্তানিরা আমাকে দেশদ্রোহের জন্য বিচার করতে পারবে। ---মুজিব কাকুকে আত্মগোপন বা স্বাধীনতার ঘোষণায় রাজি করাতে না পেরে রাত নয়টার দিকে আব্বু ঘরে ফিরলেন বিক্ষুব্ধ চিত্তে। আম্মাকে সব ঘটনা জানালেন। মুজিব কাকুর সঙ্গে পুরান ঢাকার পূর্ব নির্ধারিত গোপন স্থানে আব্বুর আত্মগোপন করার কথা ছিল। মুজিব কাকু না যাওয়াতে পূর্ব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।’
শারমিন লিখেছেন, ‘একদিকে আব্বুকে (তাজউদ্দীন আহমদকে) যেমন প্রতিহত করতে হয়েছিল আন্তর্জাতিক চক্রান্ত তেমন যুবনেতাদের অনাস্থা ও ষড়যন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের একাংশের অন্তর্কলহ ও কোন্দল। বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে যুবনেতারা স্বাধীন বাংলাদেশ তথা মুজিবনগর সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রদর্শন করে।’ শারমিন আরো লিখেছেন, ‘আগস্টে আব্বু যখন দিল্লি সফর করেন, সেখানে তিনি ‘র’ এর সাহায্যপুষ্ট ‘মুজিব বাহিনীর’ ক্রমবর্ধমান উচ্ছৃঙ্খল কার্যকলাপ ও সরকার-বিরোধী ভূমিকা সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এই স্বাধীনতাযুদ্ধকে বিভক্তকারী মারাত্মক সমস্যা সমাধানের জন্য পিএন হাকসার (ইন্দিরা গান্ধীর সচিব) এবং ‘র’ এর প্রধান রামনাথ কাওয়ের সাহায্য চান। কিন্তু দুজনেই নীরব।’
শারমিন তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন ‘সমগ্র জাতির মুক্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে আব্বুর নিবেদিত কর্মপ্রয়াসের বিপরীতে অনুগত তরুণদের ক্ষুদ্র অংশকে নিয়ে সঙ্কীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে গঠিত মুজিব বাহিনীর প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। তাদের আত্মঘাতী কর্মকা- ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারণা তাঁদের ক্রমশই অপ্রিয় করে তোলে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নয়, বরং মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ইউনিট হয় মুজিববাহিনীর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের কাতার থেকে তারা এভাবেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ভারত সরকারও তাদের প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। একপর্যায়ে মুজিববাহিনীর শীর্ষস্থানীয় এক নেতা এতটাই হিংসাত্মক ও মরিয়া হয়ে ওঠে যে সে আব্বুকে হত্যারও প্রচেষ্টা চালায়।’
এছাড়া ‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর-কথোপকথন’ নামক গ্রন্থেও মুক্তিযুদ্ধের তিন দিকপাল এ কে খন্দকার, মঈদুল হাসান ও এস আর মির্জা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দিনের গড়া ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছেন। (তথ্য সূত্র : সংগ্রাম- ০৪.১২.২০১৪)
দেশজুড়ে রাজাকার সয়লাব তত্ত্ব : কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে জাতীয় সংসদে ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছে আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। গত ৯ এপ্রিল সংসদ অধিবেশনে সরকারি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে লাখ লাখ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীকে তুলাধুনা করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিষ্কার বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধ চলছে, চলবে। রাজাকারের বাচ্চাদের আমরা দেখে নেবো। (তথ্যসূত্র : একুশে টেলিভিশন ০৯.০৪.১৮)
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আজকের রাজাকার : মহানমুক্তিযোদ্ধের সাড়ে চার দশক গত হলেও এখনো দেশে মুক্তিযোদ্ধের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত ‘রাজাকার’ জন্ম গ্রহণ করছে। এমন আত্মগাতি তত্ত্ব জাতিকে জানান দিতে তৎকালীন আ’লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী তার সহদোর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আজকের রাজাকার কাদের সিদ্দিকী।’
২০১৩ সালের ২৬ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার স্মরণে ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাভাবনা : বর্তমান পরিপ্রেক্ষিত’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। (তথ্যসূত্র : যুগান্তর- ২৭.০৮.২০১৩)
উল্লেখ্য, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম দেশের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম। তার নেতৃত্বে পরিচালিত কাদেরিয়া বাহিনী ১৯৭১ সালে সম্মুখ সমরে একের পর এক যুদ্ধ করে সাহসিকতার সাথে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। আর সে কারণেই বঙ্গবন্ধু নিজে তাকে বীরউত্তম খেতাব দিয়েছেন।
বঙ্গবীর জীবন রক্ষায় যুদ্ধের তত্ত্ব : ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমকে ধিক্কার জানিয়ে তারই বড়ভাই তৎকালীন পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, ‘তোমাকে ধিক্কার, তোমাকে ধিক্কার।’
ছোট ভাইয়ের উপাধি ‘বঙ্গবীর’ উল্লেখ না করে পাটমন্ত্রী বলেন, একাত্তরে নিজের জীবন রক্ষার জন্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল কাদের সিদ্দিকী। তবে বর্তমানে জামায়াতপন্থী টেলিভিশন দিগন্তে অংশ নিয়ে সে বেশামাল হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি সংসদে ঘোষণা দিচ্ছি যে একাত্তরে সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল সেটা ছিল জীবন রক্ষার জন্য, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের জন্য বা দেশের মানুষের মুক্তির জন্যে নয়। ৭৫-এ যে অস্ত্র তুমি হাতে নিয়েছিলে তা প্রতিরোধের জন্য নয়, তোমার জীবন রক্ষার জন্যে। তোমাকে ধিক্কার, তোমাকে ধিক্কার। (তথ্যসূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম- ২৪.০২.২০১৩)
উল্লেখ্য, ওই সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের পদত্যাগী বিচারক নিজামুল হকের সঙ্গে প্রবাসী এক আইন গবেষকের স্কাইপে কথিত কথোপকথন প্রকাশ করায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে নোবেল পুরস্কার দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন এই মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া দিগন্ত টেলিভিশনে ‘সবার উপরে দেশ’ নামে একটি টক শো উপস্থাপন করার জের ধরেই এই বীরউত্তম কাদের সিদ্দিকী বিরুদ্ধে নির্লজ্জ ভাবে আনলিমিটেড বিষদাগার করেন আওয়ামী স্তবকরা।
জিয়াউর রহমানের অবদান অসঈকার তত্ত্ব : মুক্তিযোদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের মুক্তিযোদ্ধে অসামান্য অবদান অস্বীকারের উদ্ভট তত্ত্ব আবিষ্কার করেছে আ’লীগ। আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, জিয়াউর রহমান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলেন পাকিস্তানি এজেন্ট। ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে মেহেরপুরের মুজিবনগরে শেখ হাসিনা মঞ্চে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হানিফ। এছাড়া অধিবেশন চলাকালে সংসদে আ’লীগ নেতা জৈনক এক এমপিও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান বীরউত্তমকে ‘রাজাকার’ এর তকমা দেন। যা আজ ইউটিউবে সংরক্ষণ রয়েছে।
পূজা চর্চার ফর্মূলা : বিরানব্বই ভাগ মুসলমানের এই বাংলাদেশে ধর্ম নির্বিশেষে পূজা চর্চার ফর্মূলা আবিষ্কার করেছেন আ’লীগ। আওয়ামী সুশীলদের বাজারে বিখ্যাত বনে যেতে চারিদিকে চাউর করলেন ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার।’ এই উক্তিটা তখনই আওয়ামী মুখে বেশি চাউর হয় যখন সামনে এসে পড়ে দূর্গাপূজাসহ অন্যান্য পূজা। পূজা চর্চার ফর্মূলা চাদরে মুখ লুকিয়ে নিজের পূজায় যাওয়ার বৈধতা খুঁজে বেড়ান আমাদের কিছু তথাকথিত মুসলিম ভাই ও বোনেরা। ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এ উক্তির মধ্য দিয়ে আওয়ামীরা উৎসবকে ধর্মের চেয়ে বড় করে মূল্যায়ন করেন। যা ধার্মিকের জন্য অশনি সংকেতই বটে।
আমরা মনে করি, ডেঞ্জারাস ম্যাসেজ তথা ভয়ঙ্কর কোনো উক্তি দেশ তথা সমাজের জন্য শুভ নয়। বরং ভয়ঙ্কর যে কোনো উক্তিই সব সময় অশনি সংকেতই বটে। আওয়ামী স্তবকদের ‘আনলিমিটেড ডেঞ্জারাস ম্যাসেজ’ শুনতে শুনতে আমাদের দেশে একটি প্রবাদ সহসাই আজ মনে পড়ে। প্রবাদটি হলো, ‘যার মনে যা, লাফ দিয়ে ওঠে তা’। আ’লীগের মনের মধ্যে যা আছে, সেটা অজান্তেই বলে ফেলেছেন আওয়ামী স্তবকরা। যা একান্তই অশনি সংকেতই বটে। [সমাপ্ত]
* এম. কে. দোলন বিশ্বাস, দৈনিক সংবাদের সাবেক সহ-সম্পাদক,
dulonbiswas@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ