ঢাকা, বুধবার 9 May 2018, ২৬ বৈশাখ ১৪২৫, ২২ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খালেদা জিয়ার জামিনের ফের শুনানি আজ

# কারাগারে রেস্টেই আছেন, হাঁটার দরকার কী?  -এটর্নী জেনারেল
# রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্যে জামিনের বিরোধীতা -খালেদার আইনজীবী
# এটি বানানো একটি ভুয়া মামলা -মওদূদ
স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের ফের শুনানি হবে আজ বুধবার। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে জামিনের বিরোধিতা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত চলার পর আজ বুধবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে আদালত।
শুনানির শুরুতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। কেন খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হওয়া উচিৎ- সে বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ আদালতের সামনে যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় এর্টনী জেনারেল মাহবুবে আলম খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধীতা করে বলেন, খালেদা জিয়ার হাটুতে অস্ত্রপচার করা হয়েছে, তাই তিনি চলাফেরা করতে পারেন না। তাহলে উনার বাইরে হাটার দরকার কী? উনার রেস্ট প্রয়োজন। উনি কারাগারে তো রেস্টেই আছেন।
দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, এটর্নী জেনারেল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরোধীতা করছেন। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হয়ে এভাবে কথা বলতে পারেন না। তিনি খালেদা জিয়ার জামিনের পক্ষে বিভিন্ন মামলার রেফারেন্স উল্লেখ্য করে বক্তব্য রাখেন। আজ শুনানির শুরুতেই তিনি বক্তব্য রাখবেন।
খালেদার অপর আইনজীবীদেরে মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, জয়নুল আবেদীন, মাহবুবউদ্দিন খোকন ও সানউল্লাহ মিয়াও উপস্থিত ছিলেন শুনানিতে।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দেখা যায় আদালতে।
খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি ঘিরে সকাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। আদালত প্রাঙ্গণে ঢোকার সময় সবাইকে তল্লাশি করা হয়।
শুনানীতে যা হলো
আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় নয় নাম্বার আইটেম ছিল খালেদা জিয়ার মামলা। আটটি আইটেম শুনার পর গতকাল সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে এ মামলাটির শুনানি শুরু হয়। শুরুতেই দুদক আইনজীবী খুরশিদ আলম খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আপিল শুনানিতে বক্তব্য দেন।
খুরশিদ আলম বলেন, হাইকোর্ট কম সাজার বিষয়টি উল্লেখ করে জামিন দিয়েছেন, কিন্তু দণ্ড দেয়ার পর জামিনের জন্য কম সাজার বিষয়টি বিবেচনায় আসবে না। তিনি মাত্র তিন মাস হলো বন্দী রয়েছেন। বন্দীর সময়টা যদি দুই বা আড়াই বছর হয়, তবে জামিনের বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে।
বয়স ও অসুস্থতা নিয়ে খুরশিদ আলম বলেন, সাজাপ্রাপ্ত হলে জামিনের জন্য বয়সটা বিবেচনায় আসবে না। আর অসুস্থতার বিষয়টি জেলকোড অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদকের আইনজীবী বলেন, মামলার প্রধান আসামী খালেদা জিয়া। কিন্তু একই মামলায় তাঁকে কম সাজা আর বাকিদের বেশি সাজার বৈষম্য করা হয়েছে। হয় সবাইকে পাঁচ বছর অথবা সবাইকে ১০ বছর সাজা দেয়া উচিত।
আসামীরা বিশ্বাস ভঙ্গ করে টাকা আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে টাকা উত্তোলন করেন। এ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদ- হওয়ার মতো যুক্তি রয়েছে। প্রধান আসামীকে (খালেদা জিয়া) নারী ও অসুস্থ, বয়স বিবেচনায় দেয়া হলো পাঁচ বছর, অথচ অন্য আসামীদের দেয়া হয় ১০ বছর। এটা হতে পারে না। বরং প্রধান আসামী হিসেবে খালেদা জিয়ার সাজা আরো বেশি হওয়ার কথা। নারী ও অসুস্থতা বিবেচনায় উনার শাস্তি কমানোর সুযোগ নেই। হাইকোর্ট বলেছে, চার মাসের জামিন দিলাম, এর মধ্যে আপিল তৈরি করতে হবে। আমার প্রশ্ন হলো, আপিল এর মধ্যে প্রায় তৈরি হয়ে যাচ্ছে। তাই জামিন দেয়ার সুযোগ নেই। বরং আপিল শুনানি করে একসঙ্গে রায় ঘোষণা করা হোক। খালেদা জিয়া আদালতের অনুমতি না নিয়ে লন্ডনে গিয়েছিলেন। চিকিৎসার কোনো সনদপত্র তিনি আদালতে জমা দেননি। এমনকি হাইকোর্টেও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কোনো সনদপত্র জমা দেয়া হয়নি।
এ সময় আদালত খুরশিদ আলমের কাছে প্রশ্ন রাখেন, বয়স ও অসুস্থতা জামিনের কোনো কারণ হতে পারে কি না?
খুরশিদ আলম আদালতকে বলেন, দণ্ড হওয়ার পর বয়স জামিনের কারণ হতে পারে না। বয়স বিবেচনায় নিয়েই বিচারিক আদালত খালেদা জিয়ার সাজা কমিয়েছেন। একই কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিন চাইছেন।
এরপর খুরশিদ আলম খান লঘু দণ্ড ও জামিন নিয়ে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। হাইকোর্ট যে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছিলেন, সে ব্যাপারে খুরশিদ আলম আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া কত দিন কারাগারে ছিলেন, সে বিষয়টি সেখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সর্বোপরি খালেদা জিয়ার জামিনের ঘোর বিরোধিতা করেন খুরশিদ আলম খান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থততার কথা বলে সে পেপারবুক আসামীপক্ষ আদালতে দিয়েছে, সেখানে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে দুদকের আইনজীবী বলেন, পৃথক দুটি মামলায় দুই ব্যক্তির সাজা হয়। পরে হাইকোর্ট একজনকে জামিন দিয়েছে। আপনারা খারিজ করেন। আবার অপরজনকে হাইকোর্ট জামিন দেয়নি, কিন্তু আপনারা জামিন দিয়েছেন। এখন আমরা কোনটা ভাবব। এভাবে কয়েকটি মামলার রেফারেন্স তুলে ধরে খালেদা জিয়াকে জামিন না দেয়ার যুক্তি তুলে ধরেন। পরে বেলা ১১টার দিকে তিনি শুনানি শেষ করেন।
এরপর শুনানি শুরু করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুপুর পৌনে ১২টার সময় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শুরু করেন তিনি। শুনানির শুরুতে তিনি এ মামলার বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার নথিগুলো আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর তিনি বলেন, বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিলের পেপারবুক এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। আমরা চাইলে এ মামলার আপিলের শুনানি শুরু করতে পারি। মূল আসামি যেহেতু খালাস পাননি; এ মুহূর্তে তাঁকে জামিন দেয়া যায় না। তাই আপিল নিষ্পত্তি করা হোক। এ সময় তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট লি মিয়ং বাককে ২৪ বছরের কারাদ- এবং ব্রাজিলের লুলা ডি সিলভার ১২ বছর সাজা হয়। তাঁকেও জামিন দেয়া হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘মাই লর্ড, মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়; খালেদা জিয়ার পায়ের হাঁটুতে ব্যথা। তিনি হাঁটতে পারেন না। উনার ঘাড়ে ব্যথা। এত কষ্ট করে হাঁটার দরকার কী? উনি তো কারাগারে রেস্টেই আছেন!’
এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলে উঠেন; উনার এসব কথা বলার দরকার কী? উনি রাষ্ট্রের একজন প্রধান আইন কর্মকর্তা। উনি কি এসব বলতে পারেন?’
তখন আদালতে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। পেছন থেকে আইনজীবীরা শেইম, শেইম বলা শুরু করেন। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘উনাকে বলতে দিন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল আবার বলা শুরু করেন। এ সময় তিনি এ মামলার সাজার বিভিন্ন নথি পড়া শুরু করেন। একপর্যায়ে বলেন, কারাগারের ডাক্তার উনাকে চেকআপ করলেন। পরে নাপা ওষুধ সেবনের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু উনার ব্যক্তিগত ডাক্তাররা দেখা করলেন, আবার বাইরে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন। এটা কীভাবে সম্ভব। তারা তো ডাক্তার, ট্রিটমেন্ট করবে। সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন না। উনারা পরামর্শ দিলেন ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির জন্য। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ উনাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। তাই কারাগারে উনার সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেননা, উনার সাথে একজন সেবিকাও দেয়া হয়েছে।
এ সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, এটি দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সে এগুলো বলতে পারে না। এমন একটি মামলায় তিনি দাঁড়াতে পারেন না। তখন আইনজীবীরা চিৎকার করা শুরু করে বলতে থাকেন ‘ইয়েস, ইয়েস।’
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁকে সাবমিট রাখতে দিন।
এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল আবার মামলার নথি পড়া শুরু করেন। এ সময় খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এখন তো জামিনের শুনানি চলছে, আপিলের না।
এ সময় আইনজীবীরা হৈচৈ শুরু করলে বিচারকক্ষের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রধান বিচারপতি বলেন, হোক না। শেষ হয়ে গেছে। শেষ করতে দিন। আমরা এভাবে শুনতে পারব না। একপর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, হাইকোর্টে বিএনপির চেয়ারপারসনের মামলার শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরি হয়ে গেছে। সেখানে দ্রুত শুনানি হোক। আপিলে তিনি খালাস পেলে পাক। খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেখানে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে এমন তথ্য নেই। আর উনাকে অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করতে গিয়ে নিরাপত্তার সমস্যা রয়েছে। উনার যতরকম পরীক্ষা দরকার পিজি হাসপাতালে করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানি শুরু করেন। তিনি এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তাদের আইনজীবী রয়েছে। আপনি এখানে শুনানি করতে পারেন না। আপনি কি রাষ্ট্রের নাকি দুদকের আইনজীবী?’
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল ও এ জে মোহাম্মদ আলীর মধ্যে বাকবিত-া শুরু হয়। এ পর্যায়ে আদালত উভয়পক্ষকে শান্ত করেন। এরপর এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানি শুরু করেন। তিনি দুদকের মামলায় ১০ বছর দ-প্রাপ্ত হওয়ার পরও আপিল বিভাগ জামিন দিয়েছেন এ ধরনের দুটি মামলার নজির আদালতে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, একটি স্বাভাবিক রুলে খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়ে জামিনের বিরোধীতা করা হয়েছে। তারা শুনানীর একপর্যায়ে আদালত দুপুর সোয়া ১টার সময় মামলার কার্যক্রম আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।
এটি একটি ভুয়া মামলা : মওদূদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি একটি ভুয়া মামলা বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ বানানো একটি মামলা।
গতকাল মঙ্গলবার শুনানি শেষে আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এই মামলাটা এই পর্যায়ে কেন এসেছে, কেন এই শুনানি হচ্ছে। এর একটি মাত্র কারণ তা হলো খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তা। খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় সরকার আজ ভীত।
তিনি বলেন, নানা রকম কৌশল করে আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য সরকার এসব করছে। আজকের এই শুনানির লক্ষ্যও সেটাই। আগামী নির্বাচনে নিজেদের পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য বেগম জিয়াকে কিভাবে কারাগারে রাখা যায়, সেই চেষ্টাই তারা করছে। যতদিন সম্ভব তাকে কারাগারে রাখা যায়। ন্যায় বিচার এবং যুক্তি গ্রহণ হলে খালেদা জিয়ার জামিন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন। একই সঙ্গে জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করে।
গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে পরের দিন রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক আপিল করে। পরে ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ জামিনের স্থগিতাদেশ দেন। পরদিন ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং আসামিদের দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রায় ঘোষণার পর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ