ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

ঘাতক রোগ  হিসাবে স্ট্রোক সুবিদিত। আমাদের দেশে ঘাতক রোগ হিসেবে এর স্থান কত তা সঠিক জানা না গেলেও আমেরিকার মত শিল্পোন্নত দেশে তৃতীয় স্থানে, বলেছেন বিজ্ঞানীরা। আর বয়স্কদের মধ্যে গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী পঙ্গু অবস্থা ঘটাতেও এর জুড়ি নেই। কখন কেন ঘটে স্ট্রোক। মগজের কোনও অংশে রক্তচলাচল রোধ হয়ে যায়, হতে পারে তা ছোট কোনও রক্তনালী অবরুদ্ধ হওয়ার জন্য।  এজন্য আসামী করা হয়েছে একটি খাদ্যদ্রব্যকে। “নুনকে”। আমেরিকান খাদ্যে নুন বেশি হওয়ার জন্য স্ট্রোকে মৃত্যু বেশি হয়। নুনের সঙ্গে সম্পর্কিত উচ্চ রক্তচাপ, আর উচ্চ রক্তচাপ হলো স্ট্রোকের বড় ঝুঁকি তো বটেই। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও রেস্তোরাঁর খাবার নুনে ভরপুর-এতো জানেন সবাই। এদেশেও এই ঘটনা চলছে। আমেরিকার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞরা তাই আমেরিকান এফডিএকে চাপ দিচ্ছেন যাতে তারা খাদ্য প্রস্তুতকারীদেরকে খাদ্যে কম লবণ যোগ করতে বাধ্য করেন। এফডিএ এতে কেমন সাড়া দেন তা দেখার বিষয়, তবে ইতিমধ্যে স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য জনগণের কাছে কিছু পরামর্শ রেখেছেন বিজ্ঞজনেরা। নুন খাওয়া কমান। পাতে নুন না খেয়ে এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ফাস্ট ফুড, রোস্তোরাঁর খাবার খাওয়া কমালে হয়। লবণ কম খেতে খেতে জিব সয়ে যায়। আছে কি এমন অসুখ যা বাড়ায় ঝুঁকি-থাকলে প্রতিরোধ পদক্ষেপ নিতে হবে। তালিকার মধ্যে রয়েছে; উচ্চ রক্তচাপ, উঁচুমান কোলেস্টেরল, হৃদক্ষতিকর কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, রক্তনালীর রোগ, স্থূলতা, হূদস্পন্দন চ্যুতি, (এট্রিয়াল ফিব্রিলেশন)। আর “স্ল্লিপএপনিয়া” স্ট্রোকের সঙ্গে জোরালো সম্পর্ক এ অবস্থার। তবে কেন যে, কোন কোনও লোকের স্ট্রোকের প্রবণতা বেশি, তা অজানা। কৃতকার্য মানুষ ও দক্ষিনাদেরও কেন বেশি হয় তাও অস্পষ্ট। আলাকমার প্রফেসর জর্জ হাওয়ার্ড বলেন, থাকতে পারে অন্য কারণ; যেমন লোক সমাজের ভেতরে যা নিহিত: তাজা ফল সবজি ও ভালো স্বাস্থ্য পরিচর্যার আওতায় এক না থাকায় হয়ত এমন ঘটছে। দারিদ্র ও শ্রেণীবৈষম্য কি এর পেছেনে। প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
-অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস
বারডেম, ঢাকা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ