ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যতোই ঝড় আসুক বিএনপি সিটি নির্বাচন থেকে সরে যাবে না -মেয়র প্রার্থী মঞ্জু

খুলনা অফিস : বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত কেসিসি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ‘আজকেও একটি নির্ঘুম রাত কেটেছে আমার। গতকাল দুপুর থেকে আবার দ্বিতীয় দফায় পুলিশ সাঁড়াশী অভিযান চালিয়েছে শহরময়। পাঁচটি থানায় এ সাড়াশী অভিযানে শত শত পুলিশ অংশ নিয়েছে। গতকাল দুপুরেই এ সংবাদ পাওয়ার পরে আমি পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছিলাম; তিনি আমাকে বলেছিলেন যে গ্রেফতার অভিযান করার মতো নির্দেশনা আমাদের নাই। তার বক্তব্যকে সত্য ধরেই আমি অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু গতকাল সারারাতে অন্তত দুইশ’ নেতাকর্মী বাড়ীতে পুলিশ সাড়াশী অভিযান চালিয়েছে। সরকারের পরাজয় ঠেকাতে পুলিশকে অসৎভাবে ব্যবহার করছে। যতোই ঝড় আসুক বিএনপি তথা ২০দল এ নির্বাচন থেকে সরে যাবে না। বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীদের এখনো মনোবল অটুট। গতকাল বুধবার সকাল ৮টায় ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থীর মিয়াপাড়াস্থ বাসভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপরোক্ত কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, গতকাল রাত সোয়া একটায় নগর বিএনপি’র সহ-সম্পাদক একরামুল কবীর মিল্টনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নগর বিএনপি’র সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আজিজ সুমনকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর দোলখোলাস্থ বাসা থেকে আটক করে নিয়ে গেছে ডিবি পুলিশ। আটকের সময় তাকে বেধড়ক মারপিট করেছে, ভাঙচুর করেছে ঘরের আসবাবপত্র, পরিবারের সদস্যদের সাথে চরম দুর্র্ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা। ২০নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন টারজানকে গ্রেফতার করেছে রাত ৩টায়, ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও দাদা ম্যাচ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমিক নেতা আলম হাওলাদার, ৬নং ওয়ার্ড শ্রমিকদল নেতা লোকমান হোসেনসহ গত দু’দিনে প্রায়শ’ খানেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার ও সহ¯্রাধিক নেতাকর্মীর বাড়ীতে পুলিশ গিয়ে হুমকি দিয়েছে নির্বাচনী কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে।
মেয়র প্রার্থী মঞ্জু বলেন, ‘আমি বিচার দেবো আল্লাহ্’র কাছে। বিচার দেবো জনগণের কাছে, বিচার দেবো খুলনার ভোটারদের কাছে। আমাকে এই নির্বাচন থেকে সরানোর জন্য সরকার চুড়ান্তভাবে আক্রমন করেছে, করছে। এতো আক্রমনের মধ্যে যেনো আমার পাশে ভোটাররা থাকে, খুলনাবাসী থাকে। আমি বিশ্বাস করি- তারা আমাকে ভালবাসে। ভালবাসে বলেই গত দশদিনে যে বার্তা তারা আমাকে দিয়েছে- তারা বলেছেন আপনি নির্ভয়ে এগিয়ে যান। খুলনার ভোটাররা আপনার পাশে আছে। এই বার্তা পেয়েই তো সরকার আরও মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের পরাজয় ঠেকানোর জন্যেই নির্বাচনের ময়দান থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরাতে এই গ্রেফতার অভিযান, সাড়াশী অভিযান চালাচ্ছে।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সকলেই নিরাপদে থাকুন, সুস্থ্য থাকুন। সময় মতোই নির্বাচনে আসুন। নিরাপদে ভোট দিন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে সরকারকে লাল কার্ড দেখান। সরকারি দল মিথ্যাচার করছে। তাদের পরাজয় ঠেকাতে কানাগলি খুঁজছে। আমি আশাবাদী খুলনার জনগন সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেল করে আগামী ১৫ তারিখে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে একটা অকল্পনীয় বিজয় ঘটাবে। সেই বিজয় আগামীদিনে সরকার বিরোধী আন্দোলনকে আরও শাণিত করবে। হাসিনা পতন আন্দোলনকে আরও শাণিত করবে। খুলনাই হবে এ সরকার পতন আন্দোলনের সূতিকাগার।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মঞ্জু বলেন, খুলনা শহর বিএনপি’র শহর, ধানের শীষ’র শহর। এ শহরে ৩২ বছরের ইতিহাসে কখনোই আওয়ামী লীগ অংশগ্রহনমুলক নির্বাচনে জেতে নাই। এবারও জিতবে না ইনশাআল্লাহ্। সেই বার্তা ওরা পেয়েছে। পেয়েই তারা একে একে দুইদিন পর তারা সাড়াশী অভিযান চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত মহানগরীতে প্রথমে ২১জন ও জেলায় ৫৫জন এবং আজকে (গতরাতে) সাতজন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে বিএনপিকে নির্বাচনকে থেকে দুরে রাখা যাবে না। বিএনপি তথা ২০দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর প্রস্তুত; জান দেবো তো ব্যালট দেবো না। জান দেবো তো ব্যালট বাক্স দেবো না। সকল প্রস্তুতি মোকাবেলায় তৈরী থাকতে ২০দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও খুলনাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাৎক্ষনিক এ প্রেস ব্রিফিংয়ে ২০দলীয় জোটের অন্যতম শরীক বিজেপি’র নগর সভাপতি এডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শেখ আব্দুর রশিদ ও নগর বিএনপি’র সহ-দপ্তর সম্পাদক শামসুজ্জামান চঞ্চলসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ