ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দেশে গত ৩ বছরে শিল্পখাতে ৯ লাখ নারীর কর্মসংস্থান কমেছে

স্টাফ রিপোর্টার : তিন বছরে ২০১৩ থেকে ২০১৬ শিল্পখাতে কমেছে প্রায় ৯ লাখ নারীর কর্মসংস্থান। এর পেছনে মূল কারণ নারী ও পুরুষের বৈষম্য। এবং নারীদের কারিগরি শিক্ষার অভাব। নারীদের শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দিলেই হবে না পাশাপাশি নারীদের কর্মমুখী শিক্ষারও ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। দেশের উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে নারীরা পুরুষের সমান শিল্পখাতে অবদান রাখতে পারবে না বলে এমেন একটি ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে শিল্পক্ষেত্রে নারীর কর্মসংস্থান। এজন্য বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন নারীরা। যা গত ৩ বছরে আরও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এখনই উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি হোটেলে ‘প্রোমোটিং ফিমেল এমপ্লয়মেন্ট ইন বাংলাদেশ ফর রিয়লাইজিং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্স’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) বিশেষ ফেলো ড.মুস্তাফিজুর রহমান।
প্রতিবেদনে দেখানো হয়, নারীদের ‘আনপেইড’ বা অবৈতনিক কাজের সংখ্যা বেশি। এই সংখ্যা সারাদেশে শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ এগুলো গণনা করা হলে জিডিপিতে নারীদের অবদান ৭৭ থেকে ৮৭ শতাংশ হতে পারতো। গার্মেন্টস কারখানার নারী শ্রমিকদের কাজের ক্ষেত্র নিয়ে সুনিদিষ্ট ভাবে গবেষণা হওয়ার দরকার। এই শিল্পখাতে নালেিদর কারিগরি প্রশিক্ষণ জরুরী হয়ে পড়েছে।
মূলত ২০০২ সাল থেকে ধীরে ধীরে দেশে নারীর কর্মসংস্থান কমতে শুরু করে। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের অংশগ্রহণ ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ।  অথচ সারা বিশ্বে গড়ে ৫০ শতাংশ নারীকর্মক্ষেত্রে  রয়েছেন।
মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নারী বান্ধব কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে প্রতিনিয়তই কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাবে। তাছাড়া, নারীরা কম মজুরিতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন, এটাও বন্ধ করা দরকার। সেইসঙ্গে, নারীরা যেসব সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তা রোধ করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নে সমতা করতে পারলেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। নারীর উপরে যৌন হয়রানি বন্ধ করে সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরনদার করার দরকার। কর্মক্ষেত্রে নারী পুরুষের বেতন কাঠামোর সমতার দরকার। 
 তিনি আরও বলেন, পরিবহন ও বসবাসের স্থানও নারী বান্ধব হতে হবে। তবেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ও সিনিয়ন সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে নারীদের জন্য বেশি বেশি কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করতে হবে। বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে। খাবার রান্না ও গৃহস্থালি কাজের স্বীকৃতি পায় না নারী। এসব কাজ জিডিপিতে অন্তর্ভুক্তি দরকার।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল বলেন, আমাদের সমাজের মানুষের একধরনের প্রত্যাশা তৈরী হয়েছে যে, একজন নারী একই সাথে ফুলটাইম মা হবে, ফুলটাইম স্ত্রী হবে আবার ফুলটাইম চাকুরীজীবি হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে। বাল্যবিবাহ বন্ধ করার লক্ষ্যে চাকরিকে শর্ত দিতে হবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকাইল হেমিনিতি উইন্থার, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, বিবিএস পরিচালক ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড লেবার উইং কবির উদ্দিন আহমেদ, ইউনডিপির শারমিন ইসলাম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ