ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিলেট বিভাগে বজ্রপাতে ২ দিনে ১৬ জনের মৃত্যু ॥ আহত ২১

সিলেট ব্যুরো : সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গতকাল বুধবার ও গত মঙ্গলবার ২ দিনে বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। গতকাল বুধবার হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর, লাখাই ও নবিগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায় দুপুরের বজ্রপাতে ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং সুনামগঞ্জে গতকাল আরো ২ জন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নবিগঞ্জ উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে গত ২ দিনে ১৬ জন নিহত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও মাধবপুরে পৃথক পৃথক বজ্রপাতে ৫ জন নিহত হয়েছেন আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন।
জানা যায়, দুপুরে মাকাল কান্দি হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাত ঘটলে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হন। এছাড়া নবীগঞ্জে আরও দু’জন, লাখাইয়ে ১ জনও মাধবপুরে একজন নিহত হন। তাৎক্ষণিক ভাবে নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় বজ্রপাতে স্বপন দাস (৩৫) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪ শ্রমিক আহত হয়েছেন।
এছাড়া গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার ৬ নং কাগাপাশা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মাকালকান্দি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত স্বপন দাস সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বসন্ত দাসের পুত্র।
আহতরা হলেন, বিপুল দাস (৩০), বিষ্ণু দাস (৩২) ও সজীব দাস (৪০)। আহত অপর একজনের নাম জানা যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহতদের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
৬ নং কাগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরশাদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, স্বপন দাস দিরাই থেকে ধান কাটতে মাকালকান্দি গ্রামে এসেছিলেন। বুধবার দুপুর বেলা অন্যান্যদের সাথে ধান কাটছিলেন স্বপন দাস। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গতকাল দুপুরে বজ্রপাতে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্বাকান্দা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে জুয়েল আহমদ (১৮) ও শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের ইসহাক আলীর ছেলে আলমগীর মিয়ার (২৫) মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে দুর্বাকান্দা গ্রামের জুয়েল মিয়া বাড়ির পাশে কাইলানী হাওরে ধান কাটতে যান। এসময় সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের কাশিপুর-শরিফপুর গ্রামের আলমগীর মিয়া ট্রলি চালিয়ে ছায়ার হাওরে যাচ্ছিলেন। এসময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দোলোয়ার হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।হবিগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৮ জন।
এদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে বজ্রপাতে ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্বাকান্দা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে জুয়েল আহমদ (১৮) ও শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের ইসহাক আলীর ছেলে আলমগীর মিয়ার (২৫) মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে দুর্বাকান্দা গ্রামের জুয়েল মিয়া বাড়ির পাশে কাইলানী হাওরে ধান কাটতে যান। এসময় সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের কাশিপুর-শরিফপুর গ্রামের আলমগীর মিয়া ট্রলি চালিয়ে ছায়ার হাওরে যাচ্ছিলেন। এসময় বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দোলোয়ার হোসেন এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া সিলেটের বিভাগের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার ৩ জেলায় গত  মঙ্গলবার বজ্রপাতে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে নারীসহ প্রাণ গেছে ছয়জনের। বজ্রপাতের ঘটনায় আহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ আরও ৭ জন। মারা গেছে গবাদি পশু। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হওয়া ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে আমাদের সংবাদদাতা জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শনির হাওরের লামার জাঙ্গালে নিজের খামারে হাঁস চড়াতে যান সদর ইউনিয়নের ভাটি তাহিরপুর গ্রামের মুক্তল হোসেনের দ্বিতীয় পুত্র নুর হোসেন (৩৩)। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পাশের জমিতে এ সময় ধান কাটায় কর্মরত নিহতের ভাই ও স্বজনরা তার লাশ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন। নিহত নুর হোসেনের স্ত্রী ও ২টি কন্যা সন্তান রয়েছে। খবর পেয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব নিহতের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে পরিবার ও স্বজনদের সান্তনা দিয়েছেন।
বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে আমাদের সংবাদদাতা জানান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরানগাঁওয়ের মৃত হযরত আলীর স্ত্রী সাফিয়া বানু (৬২) সকাল ১১টার দিকে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ক্ষিরদরপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের কন্যা সুরমা বেগম (২২) বাড়ির পাশে মরিচ ক্ষেতে কাজ করা সময় বজ্রপাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আবুল হোসেনের কন্যাশিশু লিলি বেগম আহত হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে আমাদের সংবাদদাতা জানান, উপজেলার ৯নং কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংগর গ্রামের মুসলিম উদ্দিন (৭৫) ধানের খলায় কাজ করার সময় গতকাল মঙ্গলবার সকালে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় তার পুত্র আবু সালেহ (২৫) ও জামাতা সমরুজ মিয়া (৪৫) আহত হন। আহতদের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার দুম্বনগাঁওয়ের মখলিছ আলীর পুত্র ফেরদৌস মিয়া (১২) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির পাশের ডোবায় মাছ ধরছিল। এ সময় বজ্রপাত হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।  দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশীল রঞ্জন দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) থেকে আমাদের সংবাদদাতা জানান, উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের পাগনার হাওরপাড়ে ধান পাহাড়া দিচ্ছিলেন ৩ কৃষক। দুপুরে বজ্রপাত হলে তারা আহত হন। তারা হচ্ছেন, ফেনারবাক ইউনিয়নের হঠামারা গ্রামের বাসিন্দা ওয়াহেদ আলীর পুত্র তৈয়বুর রহমান (১৭), একই গ্রামের আব্দুল আহাদের পুত্র আব্দুর রহমান ও সাহেব আলীর পুত্র নবী হোসেন (২৩)।
তাদেরকে দিরাই উপজেলার বাংলা বাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবী হোসেন মারা যান।
 মেনারবাক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য কে এম আব্দুর রহিম আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ডাবর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ধান শুকানোর কাজ করছিলেন আবলুছ মিয়া (৫০) নামের এক কৃষক। আকাশে কালো মেঘ করে হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকালে তিনি দৌঁড়ে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে যাওয়ার সময় বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কৈতক ৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান। তিনি পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন (বাঘেরকোনো) গ্রামের রাশিদ মিয়ার পুত্র। অপরদিকে, একই সময়ে উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের উজানীগাঁও গ্রামের নবী হোসেনের একটি গাভী গ্রামের পার্শ্ববর্তী সাংহাই হাওরে বজ পোতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে অন্যান্য সহকর্মীদের সঙ্গে নবীগঞ্জের একটি হাওরে ধান কাটতে যান সুজন মোড়া (২৭) নামে এক চা শ্রমিক। এ সময় বজ পোত হলে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সুজন মোড়া চুনারুঘাট উপজেলার জোয়ালভাঙ্গা চা বাগানের কানাই মোড়ার পুত্র। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নে বজ পোতে জুবাইল মিয়া (২৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় ওই উপজেলার নীল হোসেনপুর গ ােমে ফিরোজা বেগম নামে এক গৃহবধূ আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুবাইল মিয়া মন্দনপুর গ ােমের মোতাহিল মিয়ার পুত্র এবং আহত গৃহবধূ ফিরোজা বেগম নীল হোসেনপুর গ ােমের আলতাব হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ঝড়সহ বজ পোতের ঘটনা ঘটে। এ সময় মুরাদপুর হাওরে ধান কাটারত জুবাইল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, নীল হোসেনপুর গ্রামের গৃহবধূ ফিরোজা বেগম বাড়ির আঙ্গিনায় বজ পোতে ওই গৃহবধূ আহত হন। তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন খন্দকার জানান, নিহত জুবাইল মিয়ার পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস রোড এলাকায় গত মঙ্গলবার সকালে বিকট শব্দে বজ পোত হলে দেওয়ান মহিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বাসার গ্যাসের মিটারে আগুন ধরে মিটারটি পুড়ে যায়। একপর্যায়ে আগুন গ্যাস মিটার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগে লেগে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে।
হবিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার স্টেশন কাছে থাকায় বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ