ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দম ফেলানোর ফুসরত পাচ্ছেন না প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের আর মাত্র বাকি পাঁচ দিন। শেষ মুহূর্তে এসে দম ফেলানোর ফুসরত পাচ্ছেন না প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। চলছে দিনরাত নানা প্রচার-প্রচারণা। অপরদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শহরে বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ এবং যানবাহন চলাচল ও নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ সংক্রান্ত চারটি গণবিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। এদিকে এ নির্বাচনে দু’টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করা হবে। ফলে এ দু’টি কেন্দ্রের ১০টি বুথের দুই হাজার ৯৭৮ ভোটার ইভিএমে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সাথে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ তিন কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে সিসি ক্যামেরা। এ নির্বাচনে সর্বশেষ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৪টি। আগামী ১৫ মে মঙ্গলবার এ সব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  

নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, এবারের কেসিসি নির্বাচনে নগরীর ২৪ ও ২৭নং ওয়ার্ডের দু’টি কেন্দ্রের ভোটাররা ইভিএমে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে একটি নগরের ২৪নং ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটাররা ইভিএমে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই কেন্দ্রের চারটি বুথে ইভিএমে ভোট দিতে পারবেন এক হাজার ৯৯ জন মহিলা ভোটার।  এর মধ্যে শেরে বাংলা রোড (রায়পাড়া থেকে নিরালা পর্যন্ত), ইকবাল নগর মসজিদ রোড, শেরে বাংলা রোড (দক্ষিণ পাশ-ময়লাপোতা থেকে রায়পাড়া পর্যন্ত) এলাকার ভোটাররা এ কেন্দ্রে ইভিএম এ ভোট দিতে পারবেন। অপরটি নগরের ২৭নং ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর পিটিআই, জসিম উদ্দিন হোস্টেল (নীচতলা) কেন্দ্রের ৬টি বুথে বিকে মেইন রোড (আংশিক) দক্ষিণ পাশের এক হাজার ৮৭৯ জন পুরুষ ভোটার ইভিএমে ভোট দিতে পারবেন।  

অন্যদিকে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫৪ টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এগুলো হলো নগরের ৬নং ওয়ার্ডের ৩৭ নম্বর সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (কলা ভবন) কেন্দ্র, ২২নং ওয়ার্ডের ১৮৩ নম্বর পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (পশ্চিম পাশ) কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিটিআই প্রশিক্ষণ ভবন (২য় ও ৩য় তলা) কেন্দ্র। 

সূত্রটি আরো জানায়, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটি, মনিটরিং কমিটি, ব্যয় নির্ধারণ কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের জন্য ২৮৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, এক হাজার ৫৬১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও তিন হাজার ১২২ জন পোলিং অফিসারসহ মোট পাঁচ হাজার ২২১ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সকালে নগরীর সরকারি বিএল কলেজে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। যা চলবে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। প্রশিক্ষণ সেন্টার পরিদর্শন করেছেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলীসহ নির্বাচন কমিশনের কমকর্তারা। 

এছাড়া গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম নির্বাচন কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। তিনি গত মঙ্গলবার বিকেলে খুলনায় আসেন। আর আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একই স্থানে বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় যোগদান করবেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এখানে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের জন্য নানা দিক-নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। এর আগে গত ৬ মে নির্বাচন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা খুলনা বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয়ক কমিটির সভা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, কেসিসি নির্বাচনে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে অস্ত্রধারীসহ ২২ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর লোক থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রে ২৪ জন থাকবেন। এছাড়াও ৩১টি ওয়ার্ডে ৩১টি পুলিশের টীম এবং ১০টি স্ট্রাকিং ফোর্স থাকবে। র‌্যাবের ৩২টি টীম (প্রতি পাঁচটি কেন্দ্র মিলে) র‌্যাবের টহল থাকবে। বিজিবি থাকবে ১৬ প্লাটুন। কোথাও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটলে মোকাবেলা করার জন্য তিন থেকে চার প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ থাকবে। ৬০ জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন এবং প্রত্যেকটি বিজিবি টহলের সাথে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ১০ জন, যারা তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করতে পারবেন। 

কেসিসি রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী বলেন, ঢাকা থেকে একটি টিম খুলনা এসেছেন। এছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে যা যা করার দরকার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সবই করা হচ্ছে। 

অপরদিকে কেসিসি নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত করতে বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। মঙ্গলবার পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির পিপিএম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, যে সকল ব্যক্তি সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দা নন তাদেরকে আগামী ১২ মে রাত ১২টার পর থেকে সিটি কর্পোরেশন এলাকা ত্যাগ করতে হবে। তা না হলে পুলিশের অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আরও বলা হয়, কেসিসি নির্বাচনের আগের ৩২ ঘন্টা, নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোট গ্রহণের দিন রাত ১২টা হতে পরবর্তী ৪৮ ঘন্টায় মহানগরী এলাকায় জনসভা ও মিছিল করা যাবে না। গতকাল ৯ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত বৈধ অস্ত্রসহ চলাচল, বহন ও প্রদর্শন করা যাবে না এবং ১৩ মে রাত ১২টা থেকে ১৬ মে সকাল ৬টা পর্যন্ত নগরীতে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ১৪ মে রাত ১২টা থেকে ১৫ মে রাত ১২টা পর্যন্ত বেবীট্যাক্সি/অটো রিক্সা, ট্যাক্সি কার, মাইক্রোবাস, জীপ, পিক-আপ, কার, বাস, ট্রাক ও টেম্পো চলাচলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন কেএমপি কমিশনার। তবে নির্বাচন কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং জরুরী কাজে এ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি চলাচল করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ