ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মণিরামপুরে ভবদহ পাড়ে নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

দুই কোটি টাকা ব্যয়ে মণিরামপুরের নেহালপুর-পোড়াডাঙ্গা সড়ক নির্মাণে এভাবে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রি ব্যবহার করা হচ্ছে

নিছার উদ্দীন খান আযম, মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা : যে রাস্তা ভবদহের প্রভাবে বছরের অধিকাংশ সময় থাকে পানিতে নিমজ্জিত। সেখানে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রি দিয়ে রাস্তা নির্মান করা হলে সেটির স্থায়ীত্ব নিয়ে এলাকাবাসির মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমনই একটি রাস্তা মণিরামপুরের নেহালপুর-পোড়াডাঙ্গা সড়ক। বছরের বছর সেটি ছিল কাঁচা (মাটির) রাস্তাা। বর্ষা নামলেই কাঁদা-মাটিতে রাস্তাটি একাকার হয়ে যায়। রাস্তাায় যান চলাচল তো দূরের কথা পায়ে হেটে চলাচলই ছিল চরম কষ্টের। চলতি অর্থ বছরে রাস্তাটি বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভূক্ত হয়। অভিযোগ উঠেছে নতুন এ সড়ক নির্মাণে কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে নিম্নমানের সামগ্রি ব্যবহার করা হচ্ছে। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই কোটি ২ লাখ টাকা ব্যায়ে উপজেলার নেহালপুর-পোড়াডাঙ্গা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। বছরের অধিকাংশ সময় ওই এলাকায় পানিতে তলিয়ে যায় বিধায় নিম্নমানের সামগ্রি দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ কাজ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানাগেছে, ‘মেসার্স মতিউর রহমান নান্নু এন্টার প্রাইজ’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গত জানুয়ারি মাস থেকে এ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। সাড়ে তিন কিলোমিটার নির্মাণাধীন সড়কে দুই কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। সড়ক নির্মাণে ৬ ইঞ্চি সাব বেজ, ৬ ইঞ্চি ম্যাকাডম করার পর কার্পেটিং তথা পিচেরকাজ শুরু হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন গেলে সাব বেজের কাজের চিত্র চোখে পড়ে। এ সময় স্থানীয় প্রকৌশলী অফিসের কারো দেখা মেলেনি। সিডিউলে ৬ ইঞ্চি সাব বেজ দেয়ার কথা থাকলেও সেখানে দেয়া হচ্ছে মাত্র ৪ ইঞ্চি থেকে সাড়ে চার ইঞ্চি। সাব বেজে পিকেট ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের পাশাপাশি নি¤œমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। তাও পরিমানে অনেক কম। এসময় শ্রমিক সাজ্জাত হোসেনসহ কয়েকজনের সাথেকথা হয়। তারা জানান, ঠিকাদারের লোকজন যে নির্মাণ সামগ্রি নিয়ে এসেছে তাই দিয়ে কাজ করছি। এরমধ্যে নিজাম উদ্দীন নামের ঠিকাদারের এক লোক সেখানে উপস্থিত হন। তিনি দাবি করেন, গাজী ইটভাটা থেকে পিকেট খোয়া কেনা হয়েছিল। ওই ইটভাটা থেকেই তাদের অগোচরে এমন ইট খোয়া সরবরাহ করেছে বলে তিনি খোড়া অযুহাত দাবি করেন। গাজীইটভাটায় গেলে জানাযায়, বছর তিনেক আগের আমা ইট দিয়ে খোয়া ভেঙ্গে রাখা হয়েছে। যা ওই সড়কে ব্যবহারের জন্য ট্রাকে করে নেয়া হচ্ছে। জানতে চাইলে ইটভাটা মালিক আইয়ুব গাজী বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি তার ইটভাটা থেকে ৪০ টাকা ফুট হিসেবে আধলা (ভাঙ্গা ইট) ইটের খোয়া কিনেছে। অথচ বাজারে পিকেট ইটের খোয়া ৭৫ থেকে ৮০ টাকা ফুট হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান জানান, ভবদহের প্রভাবে এমনিতে এলাকাটি বছরের অর্ধেক সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এভাবে নি¤œামানের সামগ্রি দিয়ে সড়ক নির্মাণ করলে তা বেশি দিন টিকবে না বলে তিনি আশংকা প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্ণধার শফিউল ইসলামের মুঠোফোনে বার বার ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। জানতে চাইলে কাজের তদারকি কর্মকর্তা গাউছুল আজম দাবি করেন, খুব একটা খারাপ সামগ্রি ব্যবহার করা হচ্ছে না। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নি¤œমানের খোয়া সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে যশোর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আলম সিদ্দিকী জানান, কোন অবস্থাতেই অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ