ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উলিপুরে ঘোড়ার গাড়ীর কদর বাড়ছে

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঘোড়ার গাড়ীর কদর বাড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে কৃষি কাজে ও পন্য পরিবহনে এ গাড়ী বেশী ব্যবহার হচ্ছে। এক সময় এলাকার কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে মহিষ-গরুর গাড়ী ব্যাবহার করত। সে সময় অবশ্য কৃষকরা বাড়ীতে প্রচুর গরু-মহিষও পালতো। সে সময় (প্রায় ৩ যুগ পূর্বে) গরু-মহিষের দামও বেশ কম ছিল। যে কোন ক্ষুদ্র এবং প্রান্তিক কৃষকরা ১৫-২০ হাজার টাকায় একজোড়া হালের বলদ বা মহিষ ক্রয় করতে পারতো। কৃষকরা ওই সময় গরু-মহিষ দিয়ে হালচাষ কারার পাশাপাশি গাড়ী করে কৃষিপন্য ঘরে তুলতো। কিন্তু এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও যানবাহন আবিস্কারের ফলে কৃষিকাজে গরু-মহিষের ব্যবহার অনেকটা কমলেও দাম বেড়েছে অনেক গুণ। এক সময় যে গরু-মহিস ক্রয় করতে লাগতো মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এখন তা লাগে ৫০-৬০ হাজার টাকা। ফলে প্রামাঞ্চলে এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষি কাজে ব্যাবহার বাড়ছে। তবে ইদানিং যন্ত্রপাতির দাম উর্দ্ধগতি হওয়ায় নি¤œ আয়ের কৃষকরা পণ্য পরিবহনে আধুনিক যন্ত্রপাতির বিপরিতে ব্যাপক ভাবে ঘোড়ার গাড়ী ব্যাবহার করছে। তাছাড়া তুলনামুলক ঘোড়ার দামও কম হওয়ায় এলাকার কৃষকদের মাঝে ঘোড়া গাড়ীর ব্যবহার বাড়ছে। এতে যেমন নিজের কৃষিকাজ হচ্ছে, তেমনি ভাড়ায় খেটে সংসারের বার্তি আয়ও বাড়ছে। এলাকার কৃষকরা জানায়, ইঞ্জিন চালিত পরিবহন দিয়ে নিন্মাঞ্চলের জমির ফসল সরবারহ করা ও গ্রামীণ খানা-খন্দে ভরা রাস্তা দিয়ে কৃর্ষিপণ্য ও মালামাল পরিবহন করতে যেখানে কষ্টকর হয়, সেখানে ঘোড়ার গাড়ী সহজেই সে সব খানা-খন্দ উপেক্ষা করে পরিবহন করতে পারে। উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের কর্পূরা গ্রামের ঘোড়ার গাড়ী চালক সাহাবল হোসেন জানান, “আমি নিজের কাজে ব্যাবহারের পাশাপাশি আমার ঘোড়ার গাড়ী ভাড়ায় খাটিয়ে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই হাজার টাকা হিসাবে মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা রোজকার করছি।” এতে নিজের সংসারেরও কাজ হচ্ছে, অপরদিকে ব্যায়ের থেকে ৩ গুণ আয় হচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের গ্রামীণ জনপদে গোড়ার গাড়ীর কদর দিনদিন বেড়েই চলছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ