ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অবহেলায় পড়ে আছে ব্যাডমিন্টন

মোহাম্মদ সুমন বাকী : শীতকাল এবং একটি ক্রীড়া ভালোবাসার বন্ধনে জরিত। মনে হয় একই সূত্রে গাঁথা। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ঋতু ও খেলার পরিবেশ সেটা আভাস দেয়। বছর বছর তা দৃশ্যমান হয় স্থায়ীভাবে। শুধু ঘুরে ফিরে আসে, পার্থক্য এইটুকু। মৌসুমের পর্দাপনের সূচনায় ক্রীড়াটির চর্চা মিস নেই। তাই এর ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা লাল-সবুজ পতাকা দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়। সকলে এক কাতারে ঠাঁই নেয়।
পুরুষ -প্রমিলা মিলেমিশে একাকার হয় সে জন্য থাকে না ভয়। ক্রীড়ার পদার্পন ঘটে আপন মনে।অবশ্যই তা ব্যক্তিগত উদ্যোগে। খেলার কোর্টের বিস্তৃতি দেখা যায় চারদিকে। যা স্কয়ার আাকারে, পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য সীমানা নির্ধারনে নেটের আত্মপ্রকাশ ঘটে মাঝখানে। এমন ধারায় এই ক্রীড়ার আবিস্কার। আর্ট কৌশলের ভঙ্গিমাতে সেটা ফুটে উঠে বার বার।  এক কথায় চমৎকার। শীত মৌসুমে সারা দেশে ব্যাডমিন্টন খেলা বড় উপহার। হ্যাঁ তা নিয়ে এ প্রতিবেদন তৈরী  হয়েছে। সেটা জনপ্রিয় ক্রীড়াটির বর্তমান প্রেক্ষাপটে। শখের বসে ম্যাচে অংশ নেয়া ছাড়া অবহেলায় পড়ে আছে বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন। সেটা সত্য কথা। এর প্রকৃত চর্চা সেই ঢাকার বৃত্তে। যত টুর্নামেন্ট হয় এখানেই। তা আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় ঘরনার ছোয়ার স্পর্শে। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম ও মিরপুর ইনডোরে। বৃহৎ আকারের প্রতিযোগিতার আসর বসে সেখানে। তা বিশাল বাজেটকে আকড়ে ধরে। যা আয়োজনকে মজবুত করে। এই খেলার উন্নয়নের স্বার্থে।
পাশাপাশি এর প্রচার এবং প্রসার ঘটাতে। সেটা ব্যাডমিন্টনের জনপ্রিয়তার শিকড় খুব শক্ত করবে এমন প্রত্যাশাতে। বাস্তব ধারাতে তা আলোর সন্ধান পাবে। যা এক প্রকার নিঃসন্দেহে। কোটি কোটি ক্রীড়া প্রেমির ভাবনার হৃদয়কে গেঁথে রেখে। এ পরিস্থিতিতে সবকিছু বিফলে গেছে। তাই ব্যাডমিন্টন ক্রীড়ার অবস্থান হয় রাজধানী ঢাকার মাঝে। শূন্যের কোটার তলানীতে স্থান পায় সারা দেশের প্রেক্ষাপটে। সে কথা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে ? সে জন্য এ খেলা মুখ থুবরে পড়ে রয়েছে। তা অবাক করে  সবাইকে। বছরের পর বছর ধরে। এমন পরিস্থিতিতে তারকা প্লেয়ার পাওয়া যাচ্ছে না।
নেগেটিভ এই স্থায়ী ফর্মূলার লজ্জার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে। দৃশ্যটি ফুটে উঠে সারাদেশে। সেটা ব্যর্থতার ছায়াতলে। যা নতুন করে কলমের কালিতে তুলে না ধরলেও হয়। আন্তর্জাতিক ভুবনে ব্যাডমিন্টনের লড়াইয়ে বাংলাদেশ দলের অবস্থান কেমন ? প্রশ্নের উত্তর একেবারই নাজুক স্থান। আধিপত্য তো দূরের কথা  চূড়ান্ত পর্বে উঠার যোগ্যতা নেই। সেটা শতভাব সত্য কথা। তা বর্তমান পারফর্মের বিচারে স্থায়ীভাবে লেখা হয়ে আছে বিশ্ব ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসের পাতায়। এমন তথ্য বাংলাদেশের ক্রীড়া পাগল প্রেমীদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক। যারা ব্যাডমিন্টনকে ভালোবাসেন। শখের বসে খেলে চলেছেন। তাদের কষ্ট লাগাটাই স্বাভাবিক। কারণ, ভালোবাসা পড়ে আছে ব্যাডমিন্টনের প্রতি। ঢাকার বাইরে পরিকল্পনার ছোঁয়ায় কয়টি জেলায় এ খেলার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ? সেটা কি প্রতি বছর ? এই সব প্রশ্নের সহজ ভাষার উত্তর জিরো ! যা হাস্যকর, কিন্তু সত্য। বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা কি বলেন ? গ্রাম-গঞ্জে এ ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তা দেখা যায় অহরহ। টার্গেটহীন টুর্নামেন্টগুলো কাজে আসছে না! শুধুমাত্র দেখা যায় !!ব্যস, এই টুকু !!!  জেলা বা জাতীয় দলের পক্ষে কি অংশ নিবে। এমন পরিকল্পনা কেউ গ্রহন করে না। কারণ পর্যাপ্ত পরিমান অর্থ নেই। ব্যাডমিন্টন ভুবনে লাইট, বিদ্যুৎ বিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য সেটা  প্রয়োজন হয়। এ খেলার উন্নয়নে যা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যাডমিন্টন ভক্তরা কি বলেন? সে জন্য লক্ষ্য নেই। এই ক্রীড়ার দৌড় কোন পর্যন্ত ? বিশ্ব অঙ্গনের বর্ণনায় জিরো (শূন্য) ।
লজ্জাজনক এমন বাক্যটি সত্য। অংশগ্রহণের অপর নাম অভিজ্ঞতা অর্জন। স্ট্যান্ডার্ড প্রতিযোগিতায় ফর্মূলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে চলেছে বাংলাদেশ, ব্যাডমিন্টন ন্যাশনাল টিম। সেটা বজায় আছে খেলাটির সূচনা হতে এখন পর্যন্ত। ৬৪ জেলায় এর প্রচার এবং প্রসার ঘটেছে। তা শীতকালীন গেম হিসেবে। যা নতুন কিছু নয়। বলা যায়, প্রচন্ড ঠান্ডায় শরীরকে গরম করা। বড় টূর্নামেন্ট খেলবেন। জেলা, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে পড়বেন। দেশকে সাফল্য এনে দিবেন। এমন টার্গেট নাই গা গরম করা সে সকল ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়ের। প্রশ্ন জাগে, তা কেন ? প্রতিভার মূল্যায়নের ধারায় গা গরম করা প্রতিযোগিতাকে পর্যবেক্ষণ করা উচিত ছিলো। তাহলে সেখান থেকে তাক লাগানো সুপার প্লেয়ার পাওয়া যেতো।
ব্যাডমিন্টন খেলার প্রতি অবহেলার কারণে বাস্তবে সেটা আর হয়নি। অথচ ৬৪ জেলায় ক্রীড়া সংস্থা নামে কমিটি রয়েছে। যারা এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বার বার। যা বছরের পর বছর। তা হাস্যকর দৃশ্যে স্থান পায় ! কার্যক্রমের বিপরীত ধারায় তাদের বেকার অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন কর্মকর্তারা কি বলবেন ?এমন পরিস্থিতি এশিয়ান, কমনওয়েলথ, অলিম্পিক গেমস’র জাতীয় দলের একই অবস্থা, রেজাল্ট শূন্য। যাদের অংশগ্রহন বড় কথা, যেখানে লক্ষ্য অভিজ্ঞতা অর্জন। সব সময় বজায় থাকে এই হাস্যকর ফর্মূলা। লেখাটির অক্ষরে ভরে আছে দেশের ব্যাডমিন্টনের ইতিহাসের অন্ধকার পাতা। সেটা বড় কষ্টদায়ক কথা। পার্শ¦বর্তী দেশ ভারত এ ক্রীড়ার ওপর ভর করে বিশ্ব আঙ্গিনায় আলোকিত।
ময়দানের র‌্যাকেট (ব্যাট) যুদ্ধে দলের সুপার তারকা সাইনো, বিন্দুরা। যাদের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০১০ সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমস এবং অন্য টুর্নামেন্ট হতে। অথচ লাল-সবুজের পতাকা দলের পাত্তা নেই। তা কি ভাবা যায় ? কারণ ২০১০ এসএ গেমর্সের আয়োজক বাংলাদেশ! যে প্রতিযোগিতায় ভারত স্বর্ণ পদক জয় করে, সেখানে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা ব্রোঞ্জ পায়। এরপর বাংলাদেশ দলের উন্নতি নেই। ছোট সাফল্য নিয়ে পড়ে রয়েছে সাউথ এশিয়ার সীমানা পর্যন্ত। সে কথা সবার বোধগম্য।
গত শতাব্দীর আশি, নব্বই দশকে ঢাকার জিমন্যাসিয়াম ইনডোরে ব্যাডমিন্টন কোর্ট কাঁপিয়েছেন রানা, হাসেম, জোবায়ের, মোক্তার, যুথী, এলিনা, মিতাসহ অনেকে। যাদের নিয়ে মিডিয়ায় লেখালেখি হতো প্রচুর। লীগে মোহামেডান-বিমান ছিলো একে অপরের প্রতিদ্বন্দি¦। যা আর্কষণ বাড়িয়েছে। এ্ই ক্রীড়ায়। সেটা বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত। তা কল্পনাও করা যায় না। অথচ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয় খেলাটি অবহেলায় পড়ে আছে। যা উন্নয়ন করার পথে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য কেউ নেই!এ বিষয়ে ব্যাডমিন্টন বিশেষজ্ঞরা বলেন কি ? উল্লেখ্য , দুই ক্রীড়া সংগঠক এবং সাবেক তারকা প্লেয়ার ডানা-মরিয়মের স্বর্ণযুগের এই খেলার ইতিহাস রূপকথার কাল্পনিক গল্পে স্থান পেয়েছে। ব্যাডমিন্টননের বর্তমান হালচাল এমন আভাস দেয়। কি বলেন?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ