ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাদারীপুরে দুর্ঘটনায় পা বিচ্ছিন্ন শুভর এসএসসি পাস করেও ভবিষ্যৎ অন্ধকার

মাদারীপুর সংবাদদাতা: শুভ। নামটা শুনলেই যেন কত কল্যাণ, আনন্দ আর সুখের মনে হয়। ছিলোও তাই। আনন্দ আর দুরন্তপনায় ভরে ছিলো কিশোরী শুভ আক্তারের জীবন। অভাবের সংসার হলেও সুখ ছিলো, শান্তি ছিলো। যে বয়সে ছুটে বেড়াবে। দৌড়োদৌড়ি করবে। এ বাড়ি ও বাড়ি যাবে, দুষ্টুমি করবে। রঙিন স্বপ্ন আর আদর-সোহাগে ভরে থাকবে জীবন। সেই কিশোরী বয়সেই একটি দুর্ঘটনা তার জীবন থেকে সবকিছু কেড়ে নিলো। ডান পা হারিয়ে সে আজ বাকরুদ্ধ। শুভ’র বেঁচে থাকার স্বপ্নটুকুও ধূসর হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। তার মায়া ভরা চোখে কত জিজ্ঞাসা, কত স্বপ্ন, কত প্রত্যাশা-কত আয়োজন-এর সবই আজ নিরাশার দোলায় দুলতে দুলতে অন্ধকারের গভীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। পঙ্গুত্ব বরণ করে বেঁচে থাকার কথা চিন্তা করে শুভ চোখের জলে বুক ভাসায়।   
এমন মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলার হুগলীর আদিত্যপুর গ্রামের শাজাহান খোয়াজের মেয়ে শুভ আক্তারের জীবনে। শুভ এবার সদর উপজেলার আলগী হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে ঢাকায় তার আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ঢাকায় কিছু দিন থাকার পর গত ৬ এপ্রিল মাদারীপুরে আসে। ঐ দিন রিকশাভ্যানে নিজ বাড়িতে ফিরছিলো সে। পথিমধ্যে হুগলী গ্রামের মোল্যাবাড়ির সামনে আসলে জমি চাষের ট্রাক্টর তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার ডান পা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসা চলছে শুভ’র। সুস্থ হয়ে উঠলেও কীভাবে চলাফেরা করবে শুভ?
৬ ভাই বোনের অভাবের সংসারে অসুস্থ বেকার বাবা নিজেই চলতে পারেন না। সেখানে মেয়ের চিকিৎসার খরচসহ অন্যন্যা চাহিদাগুলো কিভাবে পূরণ করবেন তিনি ? তাই ভাবছে পরিবারসহ স্থানীয়রা। রোববার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। শুভ জিপিএ-৩.২২ পেয়ে এসএসসি পাস করেছে। এখন এই ফুটফুটে সুন্দর মেয়েটির ভবিষ্যৎ কি হবে? কীভাবে পড়াশুনা করবে, কীুভাবে কলেজ ভর্তি হবে? কোথায় পাবে টাকা, বই, যাতায়াতসহ নানা খরচ কীভাবে চলবে? সকল বাঁধা পেরিয়ে সে কি পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারবে? এ সব চিন্তা করে গোটা পরিবার এখন দিশেহারা। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তার রেজাল্ট জানতে পারে শুভ। তার দু’চোখ কাঁন্নায় ভরে ওঠে।
শুভ চায় দু’পায়ে দাঁড়াতে না পারলেও পরিবার-সমাজের বোঝা না হয়ে পড়াশুনা করে নিজেই স্বাবলম্বী হতে। সে জানেনা, তার এই স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা। না কি শুভ’র স্বপ্ন অঙ্কুরেই ঝরে পড়বে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ