ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সৈয়দপুরের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরী নিয়ে রেল কারখানার কর্মচারী এখন জেল হাজতে

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক রেল কর্মচারী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরী করে এখন জেল হাজতে। তার বিরুদ্ধে অন্যকে পিতা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকুরী নেয়াসহ প্রতারণার অভিযোগে মামলার প্রেক্ষিতে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর চরকপাড়া (পাঠানপাড়া) গ্রামের মৃত. ওসমান আলী খানের পুত্র আফতাব উদ্দিন খান নিজেকে তার প্রতিবেশী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান খাঁন ও তার স্ত্রী লায়লা খাতুনের পুত্র পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১৯৭৩ সালে ৩০ মার্চ বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকুরী নেন। ওই পরিচয়েই তিনি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় বিভিন্ন সপে খালাসী পদে চাকুরী করে ২০০৮ সালের ৩১ আগষ্টে অবসরে যান। তার টিকিট নং-৩২১৮। এরপর তিনি যথারীতি পেনশন উত্তোলন করে আসছিলেন।
এমতাবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান খানের একমাত্র পুত্র লুৎফর রহমান খান গোপন সূত্রে আফতাব উদ্দিন খানের জালিয়াতির কথা জানতে পেরে কারখানায় অনুসন্ধান চালান। সেখানে দেখা যায় আফতাব উদ্দিনের সার্ভিস বুকে পিতার নাম সোলায়মান খান ও মাতার নাম লায়লা খাতুন লেখা রয়েছে। অথচ তার ভোটার আইডি তথা জাতীয় পরিচয় পত্রে রয়েছে পিতা ওসমান আলী খান মাতা রাবেয়া। এভাবে তিনি জালিয়াতির তথ্যের সত্যতা পেয়ে গত ২০১৭ সালের ১০ আগষ্ট আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে তার মুক্তিযোদ্ধা পিতার সন্তান সেজে প্রতারণার অভিযোগে নীলফামারী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলা নং-১২৬/২০১৭। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশি তদন্তে আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সে অনুযায়ী আদালতে রিপোর্ট পেশ করা হয়। গত ১৭ এপ্রিল এই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে আদালত আফতাব উদ্দিনকে জামিন না দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান খানের একমাত্র পুত্র লুৎফর রহমান খান অভিযোগ করে বলেন, আফতাব উদ্দিন খান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান আলী খানের পালক পুত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরী নিলেও পরবর্তীতে সোলায়মান খানকে একজন রাজাকার হিসেবে কটুক্তি করতেন। তিনি বলেন, মুলত: আফতাব উদ্দিনের পিতা ওসমান আলী খানই ছিলেন এলাকার চিহ্নিত রাজাকার। তার এ প্রতারণা ও জালিয়াতি ধরে ফেলে মামলা করায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানী করাসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদর্শন করে চলেছে।
উল্লেখ্য, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান খান পাকিস্তান রাইফেল্স এ কর্মরত থাকাবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। তার সৈনিক নং-৮১৪০, গেজেট নং-৮৩৩৭ এবং তার একমাত্র পুত্র সন্তান লুৎফর রহমান খান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ