ঢাকা, বৃহস্পতিবার 10 May 2018, ২৭ বৈশাখ ১৪২৫, ২৩ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী, সংস্কার দাবি

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুঃখ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি, নগরীর সকল সড়ক সংস্কারের দাবিতে ৬মে   দুপুর ১১.৩০ টা থেকে দীর্ঘ ৩ ঘন্টা মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। চট্টগ্রাম গণঅধিকার মহিলা ফোরামের উদ্যোগে পুরাতন চান্দগাঁও থানার সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। ফোরামের সভানেত্রী ফারহান আকতার এর সভাপতিত্বে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদিকা মুমতাহিনা আবিদ এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম গণঅধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব এম.এ হাশেম রাজু। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম গণঅধিকার ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব জাফর আহমেদ। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম গণঅধিকার ফোরামের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক প্রাক্তন ছাত্রনেতা এস.এম. মোশারফ উদ্দিন, বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম গণঅধিকার ফোরামের যুব বিষয়ক সম্পাদক মনসুর আলম, সহ-সম্পাদক জানে আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, চট্টগ্রাম গণঅধিকার ছাত্র ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আবু ছৈয়দ রাসেল, চগঅফো এর সহ-সম্পাদক ওমর ফারুক, শাহেদুল ইসলাম, এস.এম. মামুন, মোহাম্মদ শাহজাহান, জয়নাল আবেদীন, ফজল কবির, রাশেদ কামাল, মহিলা ফোরামের সহ সম্পাদিকা উম্মে মুনতাসাওয়াল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদিকা উম্মে তারানা  প্রমূখ।
 প্রধান অতিথির বক্তব্যে চগঅফো’র মহাসচিব এম.এ হাশেম রাজু বলেন, প্রভাবশালীদের দখলে থাকা নদী-নালা-খাল- রাস্তা উদ্ধার না করে, লোক দেখানো ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের নামে জনগণের ঘাম জড়ানো বরাদ্দকৃত টাকা হইতে ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে জলের টাকা জলে ফেলে দেওয়া ছাড়া নগরবাসীর কোন উপকারে আসবে না। অথচ ঐ টাকা দিয়ে শহরের অধিকাংশ সড়ক নতুন করে নির্মাণ করা যেত।
দীর্ঘদিন যাবৎ নগরের অধিকাংশ সড়ক চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে আছে। সেইদিকে সিটি কর্পোরেশন এবং সিডিএ’র কোন নজর নাই।
তিনি আরো বলেন বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট সড়কটি দিয়ে সিডিএ’র চেয়ারম্যান সাহেব প্রায় সময় চলাফেরা করেন। সড়কটির বেহাল অবস্থা তিনি চোখ দিয়ে দেখেও দেখেন না। ৬০ লক্ষ নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তির লক্ষে প্রথমে কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং করার পাশাপাশি নগরীর ৫৭টি ছোট-বড় খাল খনন না করে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে নগরবাসীকে জলজট থেকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভব নয়।
 প্রধান বক্তা চগঅফো’র যুগ্ম মহাসচিব জাফর আহমেদ বলেন নগরবাসী নিয়মিত ট্যাক্স প্রদান করেন অথচ সেবা হইতে বঞ্চিত। এইভাবে একটি বাণিজ্যিক রাজধানী চলতে পারে না। মানুষের কষ্টের ভাষা বুঝার চেষ্টা করুন, নগরবাসী বড়ই কষ্টে আছে।
বিশেষ বক্তা এস.এম. মোশারফ উদ্দিন বলেন জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে না পারলে সিডিএ’র চেয়ারম্যান সাহেব দায়িত্ব ছেড়ে দিন। কথাছিল নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে কিছুটা হলেও রেহাই দিবেন।
 চগঅফো’র সভানেত্রীর বক্তব্যে ফারহান আকতার বলেন চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ সড়কে রিক্সাই চলে না, ফলে মা-বোনের ডেলীভারী অথবা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া থেকে বঞ্চিত ফলে অকালেই মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। অথচ এই নগরী প্রাচ্যের রাণী হিসেবে পৃথিবীতে পরিচিত।
মেয়র সাহেব নির্বাচনের আগে অঙ্গীকার করেছিলেন হেলদি সিটি, মেগা সিটি, ক্লিন সিটি, গ্রীণ সিটি উপহার দিবেন। হ্যা তিনি দিয়েছেন জলজট, যানজট, ময়লা আবর্জনা, মশার যন্ত্রনা, ধুলিবালির শহর। আজ নগরীর অধিকাংশ জনসাধারণ বসবাসের সুস্থ পরিবেশ নাই বললেই চলে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ