ঢাকা, শুক্রবার 11 May 2018, ২৮ বৈশাখ ১৪২৫, ২৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

২৮ জুনের মধ্যে ভোট গ্রহণের নির্দেশ সুপ্রীম কোর্টের 

স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে বাধা কাটলো গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের। হাইকোর্টের নির্বাচন স্থগিতের আদেশ বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রীমকোর্টের আপিল বিভাগ। তবে ১৫ মে নির্বাচন করা সম্ভব নয়। আর রমযান ও ঈদের কথা বিবেচনা করে আগামী ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ।

হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীর আবেদন এবং নির্বাচন কমিশনের লিভ টু আপিলের নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়। 

বিএনপি প্রার্থীর আইনজীবী সুপ্রীমকোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে ঐক্যবদ্ধতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এবং এই সিডিউলেই নির্বাচন হওয়া দরকার।  সে নির্বাচনের জন্য আমরা একটি সময় নির্ধারণ করে দিতে আদালতকে বলেছি। প্রথমে আমরা ১৫ মে নির্বাচন  চেয়েছিলাম। পরে আবার বলেছি, যেহেতু আপনারা (বিচারপতিরা) ও নির্বাচন কমিশন বলছে এই তারিখে (১৫  মে) নির্বাচন সম্ভব নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বলেছেন।

তিনি বলেন, আমরা যে আপিল করেছিলাম তার আগে অন্য দলের প্রার্থী কিন্তু আপিল করেনি। যে দিন আমরা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত পাবো সেইদিন তারা সময় চান আমাদের আপিলের সঙ্গে তাদের আপিল শুনানি করতে। সেই কারণে তাদের আপিলসহ আমাদের আপিল একসঙ্গে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। আবার একইসময়ে ইসিও একটি আপিল দায়ের করে।     

তিনি বলেন, আমরা আজ শুনানিতে বলেছি,যিনি রিট পিটিশন করেন তিনি এরই মধ্যে নৌকা মার্কায় নির্বাচন করে  চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যে ওয়ার্ডগুলোর কথা বলেছেন সেখানে ২০১৩ সালে নির্বাচন হয়েছে। কাজেই এই যে ৬টি এলাকার কথা বলা হয়েছে সেই এলাকায় জিসিসি করপোরেশনের আওতাধীন গেজেট নটিফিকেশন হয়েছে এবং সেই গেজেটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিকবার তিনি মামলা করেছেন। তিনি হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চে একই বিষয়ে রিট দুটি করেছিলেন। তার আগের রিট দু’টির শেষেরটি হাইকোর্টের রুল অনুসারে সবকিছু বর্ণনা করে তৃতীয় আদালতে মামলা করতে পারেন। কিন্তু তারা সেটা সাবপ্রেস (তথ্য গোপন) করেছেন। এই পয়েন্টগুলো আমরা আদালতে বলেছি। আদালতও আমাদের এই পয়েন্টগুলো বিবেচনা করেছেন। আমরা আদালতে আরও বলেছি, নির্বাচনের পদ্ধতির নোটিফিকেশন হয়ে গেলে নির্বাচন পদ্ধতির নিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। আমরা সিক্স ডিএলসি’র কথা বলেছি, ৪৮ ডিএলআর’র কথা বলেছি। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং অন্যপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যও শুনেছেন। ’

অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষের প্রার্থী। আমরা আদালতকে বলেছি, মানুষ দীর্ঘদিন পরে ধানের শীষে একটা ভোট দেওয়ার একটা অধিকার পেয়েছে, সুযোগ পেয়েছে। এই সুযোগ থেকে দয়া করে তাদের বঞ্চিত করবেন না। তাই আদালত যে আদেশ দিয়েছেন তাতে আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।

১৫ মে ভোটের দিন রেখে গত ৩১ মার্চ গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। তারপর ভোটের সব প্রস্তুতি সারা হচ্ছিল; প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের সঙ্গে প্রচারও জমে উঠেছিল।

কিন্তু এর মধ্যেই ঢাকার সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ গত ৬ মে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন নিয়ে যান। শিমুলিয়ার ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজের ওই আবেদনে হাই কোর্ট গত ৬ মে ঢাকার লাগোয়া এই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেয়। আদেশের খবর পেয়ে ইসিও গাজীপুরে ভোটের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

ওই নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চেম্বার আদালতের অনুমতি নিয়ে হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেন। চেম্বার বিচারপতি আবেদন দুটি শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।

বুধবার সেই শুনানিতে হাজির হয়ে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবীও হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ তিন আবেদন একসঙ্গে শোনার জন্য বৃহস্পতিবার দিন রাখে।

রিটকারী এম আজহারুল ইসলাম সুরুজের পক্ষে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. ওবায়দুর রহমান মোস্তফা। 

দুই প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। আর গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে শুনানি করেন এ এম আমিন উদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম বাবুল।

সকাল সোয়া ১০টায় শুনানি শুরুর পর মাঝে আধা ঘণ্টার বিরতি দিয়ে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শুনানি চলে।

নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী শুনানিতে বলেন, ১৫ মে নির্বাচনর জন্য ব্যালট পেপার ছাপার কাজও শেষে করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু স্থগিতাদেশের কারণে ১৫ মে ভোট করা এখন আর সম্ভব না। তবে আদালত যে নির্দেশনা দেবে তা পালন করতে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদেশ দেওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি বলেন, একটা রং ইম্প্রেশন তৈরি হয়েছে যে চিফ জাস্টিসই সব করেন। কিন্তু চিফ জাস্টিস মূলত আদেশটি ঘোষণা করেন। এখানে সব বিচারকেরই বিচারিক ক্ষমতা সমান।

পরে বিচারকরা উঠে খাস কামরায় গিয়ে গাজীপুরের নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। তারপর ফিরে এসে ১২টা ৫৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি রায় ঘোষণা করেন।

বুধবার গাজীপুরে জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা নিজেও বলেছিলেন, লিভ টু আপিলের রায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে গেলেও তফসিল অনুযায়ী ১৫ মে ওই ভোটের আয়োজন করা আর  সম্ভব হবে না, কারণ স্থগিতাদেশের কারণে বেশ কয়েক দিন সময় নষ্ট হয়েছে।

আপিল বিভাগ ভোটের জন্য কোনো সময় বেঁধে না দিয়ে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিলে নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার ইচ্ছার কথা বলেছিলেন সিইসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ