ঢাকা, শুক্রবার 11 May 2018, ২৮ বৈশাখ ১৪২৫, ২৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ বাতিলের সিদ্ধান্তে বিসিবি হতাশ----সুজন

 

স্পোর্টস রিপোর্টার : অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার প্রস্তাব দিয়েছে।  যেটি হতে পারে ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তরফ এমন কোনো প্রস্তাব পায়নি বিসিবি।অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যমে এসেছে, ২০২০ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির আগে বাংলাদেশকে সাথে নিয়ে নিজ দেশে একটি ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজন করতে চায় সিএ। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ বাতিল প্রসঙ্গসহ বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে কথা বলেন নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন।অস্ট্রেলিয়ার এমন অজুহাতে সিরিজ বাতিল করায় হতাশাই প্রকাশ করেছেন বিসিবি প্রধান নির্বাহী। সুজন বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। তারা তাদের দিক থেকে দেখছে, বাণিজ্যিকভাবে কতটা উপযোগী হবে এটা তারা হিসেব করছে, এটা অবশ্যই দুঃখজনক। বিভিন্ন সময় আমরা যেসব সিরিজ করি, সব সিরিজই যে লাভজনক হয় তেমন না। অনেক দেশকে হোস্ট করতে হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে অনেক দেশকে হোস্ট করতে হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে খুব একটা লাভজনক থাকি না। তো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যদি এটা এফোর্ট করতে পারে আমরা আশা করব  যে বড় বড় ক্রিকেট  বোর্ডও এটা করবে।’ আইসিসির ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম (এফটিপি) অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ দিকে ২টি টেস্ট ও ৩টি ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজ খেলতে দেশটিতে যাওয়ার কথা ছিল টাইগারদের। কিন্তু ওই সময়ে দেশটিতে ফুটবলের মৌসুম চলবে। আর অস্ট্রেলিয়ান সম্প্রচারকরা ফুটবল মৌসুমের মাঝে এই সিরিজ সম্প্রচারে আগ্রহী নয়। তবে বাংলাদেশ থেকে সংক্ষিপ্ত সিরিজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সিএ তারও  কোন উত্তর দেয়নি বলে জানালেন সুজন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে যে সময় নির্ধারিত ছিল এই সিরিজের জন্য সে সময় তাদের বেশ কিছু জায়গায় ক্রিকেট  খেলা সম্ভব না। যেসব জায়গায় সম্ভব সেখানে খুব খরচে হয়ে যায়। এটার ভিত্তিতে আমরা অফার করেছিলাম এটা সংক্ষিপ্ত করে নিয়ে আসা যায় কিনা। তার কোন উত্তর আমরা পাইনি।’ গুঞ্জন আছে টাইগারদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের কথা ভাবছে সিএ। তবে তাদের কাছ থেকে কোন ধরনের প্রস্তাব পায়নি বলেই জানালেন সুজন, ‘আমরা এখনো কোন প্রস্তাব পাইনি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। বিশ্বকাপের আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রস্তাত পাইনি।’ অস্ট্রেলিয়া সফরের আশা এক রকম ছেড়েই দিয়েছে বিসিবি, ‘বিভিন্ন সময় যে কথা হয়েছে সুযোগ খুবই কম। একই সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া যেটা জানিয়েছে, পরবর্তী যে এফটিপি করব সেখানে বাড়তি কিছু ম্যাচ রেখে এটা কোনভাবে পুষিয়ে দেওয়া যায় কি না।’ তবে হোম সিরিজ নিয়েই নয়, এর আগে বাংলাদেশ আসতেও নানা টাল বাহানা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। আর টাইগারদের এ অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে অনেক আগের থেকেই নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে তারা। আর শেষ পর্যন্ত সিরিজ বাতিল করলো ক্ষুদ্র অজুহাতে। যেখানে বাংলাদেশ ক্ষতি গুণে সিরিজ আয়োজন করতে পারে, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার মতো েেমাড়ল দেশের এমন আচরণ মানতেই পারছে না বিসিবি। তবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এমন কর্মকান্ড বিসিবি হতাশ হলেও এটি দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে  কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেন নিজামউদ্দীন। তিনি বলেন, ‘না! দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়ার মতো কিছু না এটি। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া নানা সময়ে আমাদের সহযোগিতা করেছে। আমরা টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পরে আমাদের সঙ্গে ওদের দ্বিপাক্ষিক প্রতিশ্রুতি ছিল। খেলোয়াড়-আম্পায়ারদের প্রশিক্ষণে তারা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। তারা এবারও বলেছে, আমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক যেটা আছে সেটা থাকবে এবং আগামীতে এটি আরও উন্নত হবে।’ অস্ট্রেলিয়া সিরিজ বাতিল করায় বিসিবি পরবর্তী পরিকল্পনা হিসেবে কি ভাবছে? এমন প্রশ্নের জবাবে নিজামউদ্দীন বলেন, ‘ফিউচার ট্যুর প্ল্যান (এফটিপি) কিন্তু সব দেশ একত্রে বসেই করে। আমাদের দেশে কোনো সিরিজ আয়োজন সম্ভব হলেই আমরা তা নির্ধারণ করি। অন্যান্য দেশেরও দায়িত্ব সিরিজ আয়োজন সম্ভব হলেই তা নির্ধারণ করা। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আমাদের জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে তাদের বেশ কয়েকটি জায়গায় ক্রিকেট খেলা সম্ভব না। যেসব জায়গায় সম্ভব হবে সেখানে আবার খরচ বেশি লাগবে। তবে তারা আশ্বাস দিয়েছে, পরবর্তী এফটিপিতে বাড়তি কিছু ম্যাচ রেখে এই সিরিজের ঘাটতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে।’

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ