ঢাকা, শুক্রবার 11 May 2018, ২৮ বৈশাখ ১৪২৫, ২৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কমিটি গঠনের প্রস্তাব  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে  

স্টাফ রিপোর্টার : কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করবে সরকার। এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছেছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি কোটার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে একটি সুপারিশ তৈরি করবে।

কোটা সংস্কারের বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের তুমুল আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এেিপাল জাতীয় সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের কথাও বলেন জাতীয় সংসদে।

ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল নাকি সংস্কার হবেÍ এ কমিটি সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। পরে সেটা সবাইকে (প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে) জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে, কবে হবেÍ সেটা বলতে পারব না। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। এটা আজকে সকালে পৌঁছেছে। এটা যদি প্রধানমন্ত্রী দেখেন তবে দুই-এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত দেবেন। কমিটি সুপারিশ করবে। কমিটির সুপারিশ সরকার অনেক সময় পুরোপুরি রাখে, অনেক সময় আংশিক রাখে। এরপর একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবেÍ যেটা সবাই চাচ্ছে, আশা করি সেটা হবে। তিনি বলেন, কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যা বলেছেন ওইটা আমাদের মাথায় রাখা ভালো। পরে বাস্তবে কি ঘটবে সেটা পরে দেখা যাবে।’

প্রস্তাবিত কমিটি কত সদস্যের জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব  ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, আমি যদি বলি পাঁচ, ছয়ও তো হতে পারে। চার-পাঁচ জন সদস্যÍ এটা বলা যেতে পারে। কোটা থাকবে নাকি সংস্কার হবে, তা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে; সামগ্রিক বিষয় ও আইন-কানুন বিবেচনা করে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তারা প্রতিবেদনে সুপারিশ করবে। সরকার সেখান থেকে বিবেচনায় নেবে।

সূত্র জানায়, কমিটির কার্যপরিধি ও সময়সীমা গেজেটে উল্লেখ থাকবে।

প্রস্তাবিত কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে। সাত সদস্যের এই কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও সরকারি কর্ম কমিশন, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একজন করে প্রতিনিধি (যারা যুগ্মসচিবের নিচে নন) এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন পেলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে নেয়া হয়। বিসিএসের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এ ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী নিয়োগের বিধান রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ