ঢাকা, শুক্রবার 11 May 2018, ২৮ বৈশাখ ১৪২৫, ২৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিতর্কের বলয় থেকে বের হতে চাচ্ছে ছাত্রলীগ 

 

স্টাফ রিপোর্টার : ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন আজ শুক্রবার।  ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুই দিনব্যাপী এ  সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। শেষ দিন গঠিত হবে কেন্দ্রীয় কমিটি। বিকাল ৩টায় দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে লক্ষাধিক ছাত্রনেতা অংশ নেবেন। ইতোমধ্যে সকল আয়োজনের শেষ পর্যায়ে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতার মাধ্যম্যে এবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটি গঠিত হচ্ছে। প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ঘোষণা হতে পারে কমিটি।

এব্যাপারে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শেখ হাসিনা ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি সমঝোতা করে নেওয়া যায়, তাহলে প্রেস রিলিজ দিয়েই ছাত্রলীগের কমিটি হবে। 

সম্প্রতি গনভবনে এক সাংবাািদক সম্মেলনে  ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে  এক প্রশ্নে  শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগ যেভাবে হওয়ার সেভাবে হবে। এর জন্য প্রস্তাব ফর্ম ছাড়া হয়েছে। যদি সমঝোতা হয় তবে প্রেস রিলিজ দিয়ে হবে। না হলে ভোটের মাধ্যমে হবে। আমরা দেখতে চাই মেধাবীরা যেন নেতৃত্বে আসে। 

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কে কে প্রার্থী হবেন, তার জন্য ফরম ছাড়া হয়েছে। আমাদের একটি নিয়ম আছে। এরপর সবাইকে নিয়ে বসা হয়। সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। যদি সমঝোতা না হয় তাহলে ভোট হয়। যদি সমঝোতা করে নেওয়া যায়, তাহলে প্রেস রিলিজ দিয়েই হবে। আর যদি না হয় তাহলে ভোট হবে। ছাত্রলীগে ইয়ং ছেলেপুলে, তাদের মধ্যে অন্যরকম উদ্দীপনা থাকে। আবার ভোটের কিছু ভালো আছে, আবার মন্দও আছে। এটাও দেখতে হবে।’

ছাত্রলীগে মেধাবী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই উপযুক্ত নেতৃত্ব এবং ছাত্র, যাদের একটি বয়সসীমার বাধা আছে। এই বয়সসীমার মধ্যে সত্যিকার যে ছাত্র ও মেধাবী, তারা যেন নেতৃত্বে আসে সেটাই আমরা চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করবো। যদি দেখা যায় যে, ভোটের মধ্যে উল্টাপাল্টা আসে,সেটা নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা নিশ্চয়ই মাথায় রাখতে হবে।’

ছাত্রলীগ সূত্র জানিয়েছে, গত তিন মাসে কয়েকদফা বিভিন্ন বিশৃঙ্খলার জন্য ছাত্রলীগের নেতাদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চান নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি ভালো কমিটি, যারা জাতীয় নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশেষ করে সম্প্রতি দেশব্যাপী ছাত্রলীগের কর্মকান্ড এবং দলে ভিন্ন মতাদর্শের ছাত্রদের অনুপ্রবেশে অনেকটাই বিব্রত আওয়ামী লীগ।

তবে সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে সাবেক ছাত্র নেতাদের দ্বারা গঠিত অলিখিত সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ দলের শীর্ষ নেতারা এই সিন্ডিকেট থেকে কমিটি গঠনের জন্য সমঝোতা করতে চান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই সিন্ডিকেট ভাঙ্গার পক্ষে জোরালো অবস্থানে রয়েছেন।

উল্লেখ্য ২০১৫ সালে জুলাই মাসে আগের সম্মেলনে সাইফুর রহমান সোহাগকে সভাপতি এবং এস এম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল।

সম্মেলন উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির নেতারাও বলেছেন ,দীর্ঘ এক যুগ ধরে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাব বরাবরই আসছে আলোচনায়। সিন্ডিকেট এবার থাকছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।২৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলনে গিয়ে ওবায়দুল কাদের কারও ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থ সিদ্ধিতে ছাত্রলীগ যেন ব্যবহৃত না হয় সেই নির্দেশনা দেন।

ছাত্রলীগ নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতার জন্য ৩২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সভাপতি পদের জন্য ১২৫ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২০০ জন ফরম তুলেছেন।

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজন, সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, প্রচার সম্পাদক সাইফুদ্দিন বাবু, বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ আরিফিন,সদস্য রেজুয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম, স্কুলছাত্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক সৈয়দ আরাফাত, উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফুজ্জামান ইমরান, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, স্কুলছাত্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক খাজা খায়ের সুজন, পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম হাবিবুল্লাহ  বিপ্লব, সহ সম্পাদক খাদিমুল বাসার জয়, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক রাকিব হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহের হোসেন প্রিন্স, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বুলবুল, স্যার এ এফ রহমান হলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক রানা হামিদ, দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকুল পাঠান সেতু, উপ-স্কুলছাত্র বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার বৈদ্য, জিয়া হলের সাবেক সভাপতি আবু সালমান প্রধান শাওন।

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন সম্পর্কে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, অবশ্যই মেধাবী ও যোগ্যরা কমিটিতে স্থান পাবেন। তবে আমরাও কোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব চাইনা। নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ীই কমিটি করা হবে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রর্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সেগুলো দেখা হয়েছে। কিছু অভিযোগ সত্য আবার কিছু অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। এসব দেখেই কমিটি গঠন করা হবে।

ছাত্রলীগ সভাপতির কাছে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল- অভিযোগ আছে, সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত হয়। আসন্ন সম্মেলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কি সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নেতৃত্ব তৈরি হবে নাকি অন্য পন্থায়? জবাবে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ বলেন, ‘ছাত্রলীগ সিন্ডিকেট শব্দের সঙ্গে পরিচিত নয়। সিন্ডিকেট শব্দটি ব্যবহার হয় কেবলমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে। শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড ছাত্রলীগের কর্মকান্ডকে বিতর্কিত করতেই এই সিন্ডিকেট শব্দটি ব্যবহার করে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক শেখ হাসিনা। তার নির্দেশেই ছাত্রলীগ পরিচালিত হয়।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ