ঢাকা, শুক্রবার 11 May 2018, ২৮ বৈশাখ ১৪২৫, ২৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে সজনে ডাঁটার বাম্পার ফলন ॥ চাষিরা খুশি

বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছে বিক্রেতারা

শাহজাহান তাড়াশ, (সিরাজগঞ্জ) থেকে : চলনবিলে এ  বছর  সজনে   ডাঁটার  বাম্পার  ফলন  হয়েছে।  সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাসহ  চলনবিলে ছড়ানো  ছিটানো  বাড়ির  পরিতিক্ত জায়গায়  ,পতিত  ভিটায় সজনে চাষ হয়েছে। ভাল  দাম থাকায় চাষিরা খুশি।   

চলনবিলের হাট  বাজার ভরে গেছে সজনে ডাঁটায়। যেন-তেনভাবে লাগানো দীর্ঘকায় সজনে ছেয়ে গেছে  গ্রামীণ সড়ক ও শহরের বিভিন্ন স্থানের গাছগুলো। ঔষধিগুণ সমৃদ্ধ সজনে ডাঁটার চাহিদা বাড়ায় পর্যাপ্ত দামও পাচ্ছেন চাষিরা। তবে পরিকল্পিতভাবে এর চাষাবাদে বিস্তার ঘটালে কৃষিতে নবজাগরণ ঘটবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তাড়াশ  উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সজনে চাষে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যমাত্রা নেই। তারপরেও চলনবিলেসহ  তাড়াশ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের গ্রামের বাসা-বাড়ির আশ-পাশে, গ্রামীণ সড়কের দুই ধারে, ক্ষেতের সীমানা বাঁধ, পুকুর পাড়, স্কুল-কলেজের মাঠে এবং অকৃষি জমি মিলিয়ে প্রায় আড়াইশ’ বিঘায় মৌসুমী ও বারোমাসি জাতের সজনের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ভালো হয়েছে ফলন।

তবে এ সবজি চাষে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা না থাকায় কৃষকরা লাভবান হলেও এর বাণিজ্যিক চাষাবাদ করেন না কৃষকরা। তাই আজো এ সবজিটি সহজলভ্য হয়নি। এতে চাহিদা ব্যাপক থাকায় এর দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

পাইকারি কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী আমজাদ  হোসেন জানান, স্থানীয় কৃষকদের উত্পাদিত এ সজনে কখনই চাহিদা পূরণ হয় না। তাই বরাবরেই আমদানি করতে হয়। এতে মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি সজনে ১ থেকে দেড়শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়। তাড়াশ উপজেলার  হামকুড়িয়া গ্রামের  মাওলানা আবুল কালাম আজাদ  বলেন বর্তমান স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়ায় এর দাম কমে এখন কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকরা জানায়, এটি আমাদের অনাদরে বেড়ে ওঠা একটি ফসল। আমরা ডাল ভেঙে যে কোনো উঁচু জায়গায় রোপণ করি। যতœ ছাড়াই পরের মৌসুমে বেড়ে ওঠে ও ফলন ধরে। 

অথচ অবহেলাতেও এ সজনের গাছগুলোতে ব্যাপক সজনে ফলে। এতে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পেয়ে সংসারের উপকার হয়। তবে এর ব্যাপক চাষাবাদে স্থানীয় কৃষি অফিস যথাযথ পদ্ধতি ও উপকরণ দিলে উৎপাদন বেড়ে যেত এবং দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করে আর্থিকভাবে লাভবান হত কৃষকরা।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা  বলেন, ফলজ সজনে গাছের ডাল থেকে চারা করা হয়। রোপণের পর তেমন যত্ন না নিলেও নিভৃতে ৬ থেকে ৮ মাস বয়সের পর ফল ধরে। এদের তেমন কোনো রোগ-বালাই নেই। তাই এ সজনে চাষে ব্যয় খুবই কম। আগামীতে এর চাষ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ