ঢাকা, শুক্রবার 11 May 2018, ২৮ বৈশাখ ১৪২৫, ২৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জনগণ এবং ভোটারদের ওপর  আস্থা নেই আওয়ামী লীগের --গয়েশ্বর

খুলনা : কেসিসি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

খুলনা অফিস : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, সরকার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন বন্ধ করে আদালতের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি বলেন, খুলনা সিটিতেও একই ধরনের প্রক্রিয়া করে রেখেছে তারা। তবে, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃংখলা বাহিনীসহ দলীয় কর্মীদের ব্যবহার করে ফলাফল আয়ত্ব করতে পারলে বন্ধের প্রক্রিয়ায় যাবে না।  মূলত জনগণ এবং ভোটারদের ওপর আস্থা নেই আওয়ামী লীগের। তারা ভোটেরও  ধার ধারে না, ভোটাররা ভোট দিক আর না দিক, তাদের জিততেই হবে- এ ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আওয়ামী লীগ খুলনায় নির্বাচন করছে। 

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত দলীয় নেতা-কর্মীদের গণগ্রেফতার, পুলিশের হয়রানি, ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক হামলা-মামলা, হুমকি-ধামকি এবং সর্বপোরি ধানের শীষের প্রচারণায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি। 

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে বলেন, কেসিসি নির্বাচন পরিচালায় রিটার্নিং অফিসারই হচ্ছেন সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। কিন্তু সরকারের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন একজন যুগ্ম সচিবকে খুলনায় পাঠিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এটা নির্বাচনী আচরণবিধি ও আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘণ। এর মধ্য দিয়েই নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার দাবি জানান। 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের উদ্ধৃতি দিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কেসিসি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নেই বলে স্বীকার করেছেন এইচটি ইমাম। তবে, তার বক্তব্য আওয়ামী লীগের জন্য প্রযোজ্য না হলেও বিএনপির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। খুলনার পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে চলছে কি-না প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিনিয়ত বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার, খবরদারি ও হয়রানি করছে। এসব বিষয়ে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে অসংখ্য অভিযোগ দাখিল করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না  বলেও অভিযোগ করেন তিনি। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপি মনোনীত কেসিসির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, খুলনায় এ পর্যন্ত বিএনপির ৯০জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে জেলায় ৫৫ জনএবং মহানগরীতে ৩৫জন। গ্রেফতারকৃতরা সবাই নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত ছিল। রাজনৈতিক মামলায় সবাই জামিনে রয়েছে। বর্তমানে কারো বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। অথচ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে পুরোনো মামলায় গ্রেফতার দেখাচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছে। কর্মীরা নির্বাচনি মাঠে থাকতে পারছে না। অথচ শহরে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের ধরছে না।  যতই গ্রেফতার আর ও বাধা আসুক বিএনপি নির্বাচনের মাঠ ছাড়বে না- উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোন কারচুপি হলে জনগণ মেনে নেবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবি করে ভোটারদের সময়মত কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহবান জানান মঞ্জু। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, ভীতিমুক্ত পরিবেশ, নির্বাচনি কর্মকর্তা নিয়োগে দলীয়করণ না করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানান। 

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির  ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক, মশিউর রহমান, মো. শাজাহান, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুর রহমান হাবিব, শ্যামা উবায়েদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ