ঢাকা, শুক্রবার 11 May 2018, ২৮ বৈশাখ ১৪২৫, ২৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যুগ্ম-সচিবকে নির্বাচনের সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া নির্বাচনী আইন সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের অভিযোগ 

খুলনা : বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর দারোগাপাড়া এলাকায় ধানের শীষ মার্কার গণসংযোগ করেন

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সিইসি’র নিকট আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে, নিরাপদ করতে অবিলম্বে খুলনায় সেনাবাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিন। একজন যুগ্ম-সচিবকে নির্বাচনে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে; এটি নির্বাচনী আইনের সুস্পর্ষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।

কেসিসি নির্বাচনে ধানের শীষ’র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো হয় নাই। বলেছিলাম ভীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। চেয়েছিলাম সেনাবাহিনী নিয়োগ করা হোক। নির্বাচনীয় কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছিলাম, সেটাও হয় নাই। গতরাতও আমাকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। নেতাকর্মীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, বাড়ীতে বাড়ীতে তল্লাশী ও সাড়াশী অভিযানের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে এখনো গণগ্রেফতার করছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতেও শত শত নেতাকর্মীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। আমাদের নির্বাচনী এজেন্ট, আমাদের ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক-সদস্য সচিব এমনকি সেন্টার কমিটির নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ গিয়েছে। আমাদের এক কর্মীর পিতার ইজিবাইকের গ্যারেজে তালা মেরে দিয়েছে, এককর্মীর মটরসাইকেল পুলিশ গাড়ীতে করে তুলে নিয়ে গেছে। এভাবে নানাবিধ নিপীড়ন আমাদের উপরে চালানো হচ্ছে। আমি নির্বাচন করছি আর আমার কর্মীরা নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারবে না; আমরা বক্তব্য দেবো আর পুলিশ বলবে-তারা সন্ত্রাসী অভিযান চালাচ্ছে। অথচ কর্মীদের কোন মামলা নেই, ওয়ারেন্ট নাই; তাদের অপরাধ শুধু তারা বিএনপি কর্মী, ধানের শীষ’র কর্মী। আমরা বলেছিলাম সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে-কিন্তু পুলিশ একটি গাদা বন্দুকসহ একজন কাউন্সিলর প্রার্থীর লোক ছাড়া পুলিশ কোন সন্ত্রাসী, অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, গত ৩৫ বছরে খুলনা শহরে কোন অংশগ্রহণমুলক নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী নির্বাচনে হারে নাই। বিএনপি’র বিজয়ের ধারাকে ব্যাহত করার জন্যই সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার, নির্বাচনী মাঠ থেকে বাইরে রাখার জন্যই এই ষড়যন্ত্র চলছে। সিইসি’র নিকট আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, জনগনের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে, নিরাপদ করতে অবিলম্বে খুলনায় সেনা বাহিনী নিয়োগের সিদ্ধান্ত করুন। গতকাল (বুধবার) একজন যুগ্ম-সচিবকে নির্বাচনে সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে; এটি নির্বাচনী আইনের সুস্পর্ষ্ট লঙ্ঘন। আচরণবিধিমালায় কোথাও সমন্বয়কের দেয়ার অধিকার নির্বাচন কমিশনের নাই। আমরা দাবি করেছি- নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনারকে খুলনাতে রেখে নির্বাচন করা জন্য। নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন, গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল মহড়া চলছে সেটাও পুলিশ বন্ধ করে নাই। প্রত্যেকটি বিষয় নির্বাচন কমিশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা কোন পদক্ষেপ নেয় নাই। তারপরেও বিএনপি কোন প্রকারেই নির্বাচনের বাইরে থাকবে না; মাঠ ছাড়বে না। ভোটাররা বার্তা দিয়েছে গত বারের চেয়ে অধিক ভোটে বিএনপি এখানে বিজয়লাভ করবে। ভোটারদের বলেছি- সাবধানের থাকুন, সময় মতো বেরিয়ে নিরাপদে ধানের শীষে ভোট দিন। জেলায় ৫৫, মহানগরী প্রথমে ২১, পরে চার ও গত রাতে দশজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন বলেন, বিএনপি হচ্ছে নালিশ পার্টি। বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিশ্চিত পরাজয় জেনে এখন আবোল-তাবোল বকছে। তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার ছাত্রদল নেতা ছিলেন আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখনো তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি। তাকে প্রত্যাহার করা না হলে কেসিসি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল নেতা রফিকুল হক খোকন, জাসদ নেতা খালিদ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা দেলোয়ার উদ্দিন দিলু প্রমুখ।

নির্বাচনের আগের রাতে সতর্ক থাকতে কবিতা খানমের নির্দেশ : নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেছেন, প্রশ্নের ঊর্ধ্বে উঠে নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্বাচন পূর্ববর্তী রাতটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে যাতে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। 

গত বুধবার সন্ধ্যায় খুলনা সার্কিট হাউজে স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং অফিসার, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সহায়ক কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয় সে পরিবেশে অক্ষুন্ন রাখতে হবে। তিনি খুলনা ঘুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে যে সমন্বয় লক্ষ্য করেছেন তা যেন নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকে তার ওপর জোর দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ