ঢাকা, শুক্রবার 11 May 2018, ২৮ বৈশাখ ১৪২৫, ২৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরিষাবাড়িতে নদী ভাঙনে তারাকান্দি-ঢাকা মহাসড়ক মারাত্মক হুমকির মুখে

যমুনা ও ঝিনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ॥ বন্যায় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিলীন ॥ নদী সিকস্তি লক্ষাধিক মানুষ বেকার                 -সংগ্রাম

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতাঃ সরিষাবাড়ীতে অন্তত ১৬টি স্থানে সম্প্রতি অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। ক্ষমতাসীন মহলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বালু ব্যবসা। স্থানীয় প্রশাসন বারবার অভিযান চালালেও আবারও একটি চক্র বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। এতে করে নদীর পাড় ভাঙনের কবলে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তারাকান্দি-ভূয়াপুর পাকা সড়কটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীর ভাঙন রক্ষা কার্যক্রম ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের শিশুয়া-বাঘমারা সেতু থেকে কামারবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর সেতু পর্যন্ত ঝিনাই নদীর ৪-৫টি স্থানে ট্রাক্টর মেশিন ও স্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে সাতপোয়া ইউনিয়নের ছাতারিয়া, শিশুয়া-বাঘমারা ও কামারবাদ ইউনিয়নের হেলাঞ্চবাড়ি, সোনাকান্দর, শুয়াকৈর ও বীর-বড়বাড়িয়া, রেলি ব্রাদার্স, ইস্পাহানি এলাকার ঘরাবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়েকটি মসজিদ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে।

এছাড়া এ এলাকায় শিশুয়া-বাঘমারা সেতু থেকে শুয়াকৈর সেতু পর্যন্ত সরকার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে। তাঁর পাশেই স্থাপন করা হয়েছে বালু তোলার ড্রেজার মেশিন। অপরদিকে পোগলদিঘা, ডোয়াইল, ভাটারা ও পিংনা ইউপির বিস্তীর্ণ এলাকাসহ যমুনা নদীর বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন চলছেই। ফলে নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে গত ১০ই মে দুপুরে সরিষাবাড়ী উপজেলার নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি সংবাদদাতাকে জানান- গত বুধবার সরিষাবাড়ীর পিংনা এলাকায় সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে ৫টি ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন বন্ধ করে মেশিনগুলোকে অকেজো করা হয়েছে। এসময় বালু উত্তোলনকারী কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে যে সব এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে সেটি বন্ধ করার জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সরিষাবাড়ীর ঝালুপাড়া-তারাকান্দি-ভূঞাপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প বেড়িবাঁধ বন্যার প্রবল স্রোতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে তারাকান্দি, আওনা, পিংনা, টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর, গোপালপুর হয়ে ঢাকায় যাত্রী সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করছে। এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর যমুনা সার কারখানার উৎপাদিত সার পরিবহনে ঝুঁকি ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এই বিষয়ে আগাম চিন্তা করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট বন্যা দেখা দেওয়ার আগেই জরুরী কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার বাণী জানিয়েছে এলাকাবাসী। স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের জন্য এলাকাবাসী বারবার দাবি জানালেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপদের কতিপয় কর্মকর্তার সিদ্ধান্তহীনতার কারনে এবং বরাদ্দের টাকা অনুযায়ী বাঁধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপে অনিয়ম ও দূর্নিতী করায় এ মহাসড়কটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। এ উপজেলার পিংনা ইউনিয়নে অবস্থিত পিংনার রসপাল জামে মসজিদ, শতবর্ষী হাইস্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বাজার, যমুনার তীরবর্তীতে অবস্থান করছে। প্রতিবছরে প্রমত্তা যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বাশুরিয়া, রাধানগর, কুমলিবাড়ি, পানিবাড়ি, ঝালুপাড়া, চর সরিষাবাড়ি, বড়বাড়িয়া, হেলাঞ্চাবাড়ি, ভূরারবাড়ি, বাঘমারা, শিশুয়া, শুয়াপুর, কামরাবাদ, বাউশি, মাইজবাড়ি, শিংগুয়া সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বেশ কিছু অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ কারণে নদী সিকস্তি লক্ষাধিক মানুষ ভিটামাটি হারিয়ে অসহায় অবস্থায় বেকার হয়ে অর্থাভাবে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। শ্রম ও বিনিয়োগের জন্যে ঢাকা ও পাশর্^বর্তী জেলাগুলোতে বেঁড়িবাঁধের উপর, সরকারি খাস জমিতে কিংবা কোন পরিত্যক্ত ভবনের বারান্দায় ঝুপড়ি বেঁধে জীবন যাপন করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ