ঢাকা, শনিবার 12 May 2018, ২৯ বৈশাখ ১৪২৫, ২৫ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করা হবে -শিবির সভাপতি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত বলেছেন, কুরআনের আলোকে সার্বিক জীবন পরিচালনা ছাড়া প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণ সম্ভব নয়। বিশ্ব মানবতার শান্তি নিহিত রয়েছে আল কুরআনের বিধানের মাঝেই। তবে কুরআনের পথে চলা সহজ নয়। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সমাজ বিনির্মাণে প্রচেষ্টা চালানোর অপরাধেই বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে। তবে দীনের পথের সৈনিকরা তাতে ভীত নয়। কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা হবে।
গতকাল শুক্রবার এক মিলনায়তনে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ২য় শাহাদাৎ বার্ষিকী ও ঐতিহাসিক কুরআন দিবসে শাহাদাৎ বরণকারীদের মাগফিরাত কামনায় দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবির পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, মিডিয়া সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, মাদরাসা সম্পাদক ইমরান খালিদ, কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি হাবিব মজুমদারসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
শিবির সভাপতি বলেন, ১১ মে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো দিন। ১৯৮৫ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঈদগাহ ময়দানে সংঘটিত হয় এক পৈশাচিক, নারকীয় হত্যাকা-। ১৯৮৫ সালের ১০ এপ্রিল ভারতের দুইজন উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী নাগরিক পদ্মপল চোপরা ও শীতল সিং কুরআনের সকল আরবী কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি রীট করে। কুরআনকে বাজেয়াপ্ত করার মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কলকাতাসহ সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ১১ মে চাঁপাইনবাবঞ্জের ঈদগাহ ময়দানে আয়োজন করা হয় এক প্রতিবাদ সমাবেশের। ইসলামী জনতা দলে দলে আসতে থাকে ঈদগাহ ময়দানের দিকে। উপায় না দেখে ঈদগাহ ময়দানে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এসময় ইসলামী জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লার নির্দেশে কুরআন প্রেমী জনগণের ওপরে গুলীবর্ষণ শুরু করে পুলিশ। পুলিশের গুলীতে লুটিয়ে পড়ে এবং শাহাদাৎ বরণ করে ১০ম শ্রেণির ইসলামী ছাত্রশিবির কর্মী আব্দুল মতিন। এ ঘটনায় শীষ মোহাম্মদ, রশিদুল হক, ৮ম শ্রেণির ছাত্র সেলিম, সাহাবুদ্দীন, কৃষক আলতাফুর রহমান সবুর, রিকশাচালক মোক্তার হোসেন ও রেলশ্রমিক নজরুল ইসলাম শাহাদাতসহ ৮ জন শাহাদাত বরণ করেন। আহত হন প্রায় অর্ধ শতাধিক মানুষ। দুঃখজনক হলেও সত্য, সেইদিনের খুনিদের আজও পর্যন্ত কোন শাস্তি হয়নি বরং তারা পুরষ্কৃত হয়েছে। যারা কুরআনের আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাদেরকে এখনো নানা কায়দায় হত্যা করা হচ্ছে। যাদের মধ্যে অন্যতম বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। কোন অপরাধ নয় শুধু ইসলামী আন্দোলনে আপোষহীন ভূমিকার কারণেই শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। একই কারণে শহীদ করা হয়েছে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানসহ জাতির পরীক্ষিত নিষ্ঠাবান নেতৃবৃন্দকে। তাদের অপরাধ তারা বাংলার জমিনে কুরআনের আলোকে একটি সুখি সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাতিল শক্তি তাদের হত্যার মাধ্যমে দেশ থেকে ইসলামী আন্দোলনকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছে। কিন্তু তা বুমেরাং হয়েছে। বরং মাওলানা নিজামীর শাহাদাত ইসলামী আন্দোলনের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকার কুরআন ও কুরআনের পথে আহবানকারীদের নিজেদের জন্য প্রতিপক্ষ বানিয়ে নিয়েছে। যার প্রতিফলন হয়েছে কুরআন বিরোধী আইন, নাস্তিক লালন ও ইসলাম বিরোধী কর্মকা-ের প্রতিবাদ করায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ, আলেম উলামাদের উপর চালানো বর্বর নির্যাতন ও গণহত্যা। কুরআন প্রেমী ছাত্রজনতার উপর খুন, গুম, নির্যাতন, গ্রেফতার, হামলা, মামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু কুরআনের সৈনিকদের তারা পরাজিত করতে পারেনি। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ শাহাদাৎ বরণকারী ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আজ বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের জন্য অনুপ্রেরণা ও সম্পদ। তারা এখন বিশ্বব্যাপী সম্মানিত। তাদের উত্তরসূরীরাও শহীদের রক্তের বদলা নিতে আল কুরআনকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছে। তারা কুরআনের মান রক্ষায় নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে বাতিলের মোকাবিলা করে যাচ্ছে। অপরদিকে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে বাতিল শক্তি গণবিচ্ছিন্ন ও ধিক্কৃতদের কাতারে তাদের স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু আমাদেরকে আরও বহু দূর এগুতে হবে। মানুষের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য সার্বিক জীবনে কুরআনের শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা: মেধাবী ছাত্রদের মাঝে কুরআন বিতরণ ও শহীদ শীষ মোহাম্মদেবর জিয়ারতের মাধ্যমে ঐতিহাসিক কুরআন দিবস পালন করে ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক শাহ মাহফুজুল হক। এসময় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী মহাগনরী: আলোচনা সভার আয়োজন করে ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরী শাখা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাখা সভাপতি মনজুরুল ইসলাম। এসময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও শহর: আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ছাত্রশিবির ঠাকুরগাঁও শহর শাখা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাখার সভাপতি রাজিউর রহমান রাজু। এসময় শাখা সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল শহর: আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ছাত্রশিবির টাঙ্গাইল শহর শাখা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মো. শফিউল আলম। এসময় শাখা সভাপতি আশিক আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ফেনী জেলা: স্কুল ছাত্রদের মাঝে কুরআন বিতরণের মাধ্যমে ঐতিহাসিক কোরআন দিবস পালন করে ছাত্রশিবির ফেনী জেলা শাখা। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ